Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনের

আমাদের কাজের জায়গাটাকে বরবাদ করা যাবে না: ঋত্বিক

রোববার দুপুর। সল্টলেকের এক পাঁচতারা রেস্তোরাঁ। নতুন ছবি ‘মৃগয়া’র মহরৎ অনুষ্ঠান। সেখানেই শুরু হল সাক্ষাৎকার। মুখোমুখি ঋত্বিক চক্রবর্তী।

আমাদের কাজের জায়গাটাকে বরবাদ করা যাবে না: ঋত্বিক

ঋত্বিক চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: 10 December 2024 14:55

শুভঙ্কর চক্রবর্তী

রোববার দুপুর। সল্টলেকের এক পাঁচতারা রেস্তোরাঁ। নতুন ছবি ‘মৃগয়া’র মহরৎ অনুষ্ঠান। একে-একে ঢুকলেন অভিরূপ, বিক্রম, সুস্মিতা, সৌরভ। ঢুকতে খানিক দেরি হল, তবে ঋত্বিক চক্রবর্তীর (ritwick chakraborty) ওই সরল হাসি নিয়ে যখন তাকালেন সবার দিকে, তাতেই ভেসে গেলেন সকলে। সাংবাদিকদের ক্যামেরা-বুম. একের পর এক সাক্ষাৎকার-বাইট পেরিয়ে যখন তাঁকে ধরা গেল প্রায় ঘন্টা দুয়েক বাদে। মুখোমুখি দু’চেয়ারে বসে শুরু হল কথোপকথন।

কেমন আছেন?
ঋত্বিক চমৎকার

মৃণাল সেনের ‘মৃগয়া’ ছবি এক কথায়, একটি কাল্ট ক্লাসিক। পরিচালকের সেরা দশের মধ্যে অনায়াসে ‘মৃগয়া’ এক থেকে পাঁচের মধ্যে থাকবে। আপনার অভিনীত অভিরূপ ঘোষের ছবিটির নামও ‘মৃগয়া’! এমন ছবির নামের একটা ভার রয়েছে, সেই ভার বুঝেই কি এমন ছবিতে সম্মতি?
ঋত্বিক শুধু তাই নয়। ছবির গল্পও আমার কাছে প্রাধান্য পায়। ‘মৃগয়া’ একটি কপ স্টোরি। বাংলায় শুধুমাত্র কপ স্টোরি নিয়ে ছবি কম হয়েছে। যা দেখেছি, তা একেবারে কাল্পনিক। এই গল্প বাস্তব জীবনের। সত্যিকারের পুলিশের গল্প। রিয়েলিস্টিক গল্প। এক যৌনকর্মীর মৃত্যুর পর কলকাতা পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে দাঁড়িয়েছে ‘মৃগয়া’র গল্প। অ্যাডবেঞ্চার-অ্যাকশনের পাশাপাশি ‘মৃগয়া’ মানবিক এক গল্প। আমার চরিত্রটি পছন্দ হয়েছে। সিনেমাতে ফিল্মি পুলিশ আসে, কিন্তু এই ছবিতে রিয়েলিস্টিক পুলিশ আসে।

মানে ‘মৃগয়া’তে পুলিশ ঘটনাস্থলে দেরি করে পৌঁছবে না...
ঋত্বিক (হাসি) দেরি করে পৌঁছবে না, উল্টে ঠিক সময় ঠিকঠাক করে ঘটনার সমাধানও করছে। ছবির ইনসাইটের কিছু পার্সপেকটিভ আছে, সেটা পরতে পরতে উঠে আসবে।

অনেকের কাছে ঋত্বিক, শুধুমাত্র একজন অসামান্য অভিনেতা নন। ওঁর একটা সোশ্যাল স্ট্যান্ডপয়েন্ট আছে, তা কখনও আপনার উইট, ক্যারিকেচার, লেখা কিংবা মিমিক্রির মাধ্যমে বেরিয়ে আসে। তার মধ্যে একটা সূক্ষ্ম চোখে আঙুল দিয়ে বলে দেওয়া থাকে, ‘এটা বুঝুন’! আপনি নিশ্চয়ি বুঝতে পারছেন ইন্ডাস্ট্রির কোন পথে এগোচ্ছে, গত বছরের তুলনায়, এ বছরে ছবির তুলনায় কমে গিয়েছি তিনগুণেরও বেশি, বাংলার অভিনেতারা বাইরে গিয়ে কাজ করছেন...
ঋত্বিক সমাধান কীভাবে হবে, তা এক কথায় বলা মুশকিল। আমি যে সম্পূর্ণভাবে বলে বোঝাতে পারবও না। কিন্তু এটা নিয়ে যে দুশ্চিন্তা করার সময় এসেছে, এটা বুঝতে পারছি। কারণ ছবির সঙ্গে ব্যবসাও জড়িয়ে আছে।

রাজনীতিও জড়িয়ে আছে...
ঋত্বিক রাজনীতি সব ক্ষেত্রে থাকে, তবে তা জড়িয়ে গেলে যে সব খারাপ হয়ে যায় তা নয়। তবে এ ক্ষেত্রে রাজনীতি জড়িয়ে গিয়ে বিষয়টি ভালর দিকে যাচ্ছে না, তার ইঙ্গিত অন্তত পাওয়া যাচ্ছে। একটা ব্যবস্থা করতেই হবে। এই যে আপনি বললেন, কলকাতার অভিনেতারা বাংলার অভিনেতারা বাইরে গিয়ে কাজ করছেন, এটা একেবারে সত্যি। আমরাও খবর পেয়েছি। কাজ যে কমছে, তা আমরা বুঝতেও পারছি।

ফেডারেশনের বিরুদ্ধে...
ঋত্বিক এর পুরো কারণ অবশ্য ফেডারেশন নয়। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কারণ ফেডারেশন, তা অস্বীকার করা যায় না। পরিচালকদের বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে রয়েছে, বুঝতে পারবেন তাতে যৌক্তিকতা আছে। সেটাকে গুরুত্ব দিয়ে বিচার করতে হবে, কারণ এই জায়গা আমাদের কাজের। সেই জায়গাটাকে বর্বাদ করা যাবে না।

অনেকর অভিমান আপনাকে বহুদিন বড় পর্দায় দেখা যাচ্ছে না।
ঋত্বিক চলতি বছরে আমার অভিনীত ছবি মুক্তি পায়নি। তবে ওটিটি রিলিজ হয়েছে। শুটিং করেছি প্রচুর ছবিতে। ঘটনাচক্রে ডিসেম্বর থেকে পরপর রিলিজ রয়েছে। ২০ ডিসেম্বরে রাজ চক্রবর্তীর ‘সন্তান’-এর রিলিজ  রয়েছে। জানুয়ারিতে জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের ‘অপরিচিত’ আর মৈনাক ভৌমিকের ‘ভাগ্যলক্ষ্মী’।

আচ্ছা, আপনার অভিনীত আরেকটি ছবি ‘পরিচয় গুপ্ত’র রিলিজের বিষয়ে কী ঘটল।
ঋত্বিক ‘পরিচয় গুপ্ত’র ওঁরা আপাতত রিলিজ করছে না।

তারিখ ঠিক হয়ে গিয়েছিল, প্রায় সব ঠিক, কিন্তু মুক্তি পেল না ছবি...
ঋত্বিক খানিকটা অনভিজ্ঞতার কারণে। আর একটি বিষয়ে ছবির রিলিজ প্ল্যান, ডেট ঠিক করা, এসবের সঙ্গে  আমরা অভিনেতারা সরাসরি জড়িয়ে থাকে না, যদি না সেটা বিরাট বড় মাপের ছবি হয়। তা-ই এ ছবির বিষয়ে মন্তব্য করতে পারব না।

আপনার ছবি কাটানোর ছবিগুলো বেশ সুন্দর হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় যে সমস্ত ছবি পোস্ট করেন, তাতে পরিবারের মানুষদের ছবি কম থাকে, কখনও একটা ছায়া, কিংবা শুকনো পাতা এমন সব ছবিই থাকে...এটাও মনে হয়েছে, ঋত্বিক চক্রবর্তীর বিকল্প পেশা কি ফোটোগ্রাফি হতে পারত?
ঋত্বিক (হাসি) মোবাইল আমায় ফটোগ্রাফার বানিয়েছে। ঠিক যেমন গোটা পৃথিবীর মানুষ এখন ফটোগ্রাফার হয়ে গিয়েছে, তেমনই। আমি আমার মতো করে একটা কম্পিজিশন করতে পারি। বেড়াতে গেলে ফটো তুলতে ভাল লাগে।

পরের ডেস্টিনেশন প্ল্যন করা হয়ে গিয়েছে?
ঋত্বিক এপ্রিল অবধি কাজের চাপ আছে। তাই, এখনই কোনও প্ল্যান করতে পারছি না। তবে, এরপর লাদাখ যেতে চাই, ছুটির উপর নির্ভর করছে।

শেষ প্রশ্ন, অভিনয়ে পুত্রকেও দেখা যাচ্ছে ও কি বাবার প্রফেশনের দিকেই এগোচ্ছে...আসলে সুকুমার রায়ের ‘বুঝিয়ে বলা’ কবিতা অভিনয় করে বোঝানো চাট্টিখানি কথা নয়...ভিডিয়ো আপনি করেছেন নিশ্চয়ই।
ঋত্বিক (হাসি) হ্যাঁ হ্যাঁ, আমি করেছি। দেখুন, ক্লাস ফাইভে কারওর অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখতে নেই, আমার মনে হয়।

No photo description available.
বাবা-ছেলে

এটা কি ‘বাবা’ ঋত্বিক চক্রবর্তী বলছেন?
ঋত্বিক না, না একজন বাস্তববাদী মানুষ বলছে। জীবনকেই এই বয়সে চেনা অসম্ভব। সে কীভাবে ঠিক করবে সে বড় হয়ে কী হবে।

কিন্তু ও কবিতাটি যেভাবে বুঝে, অভিনয় করে আবৃত্তি করল...
ঋত্বিক সুকুমার রায় কবিতা লেখেননি। শ্লোক লিখে গিয়েছেন। আমি একভাবে বুঝি, ও একভাবে বুঝবে, আপনি আরেকভাবে তার অর্থ বুঝবেন।

হীরক রাজার দেশের মতো...
ঋত্বিক একদম। মহান কোনও শিল্পকর্মও তাই। যত বয়স এগোবে, তত  নতুন কিছু আবিষ্কার করা যায়, এই কারণেই তাকে মহান বলা হয়। কিন্তু হ্যাঁ আমার ছেলে অভিনয় করতে পছন্দ করে। নাটক। যা আমিও ওই বয়সে করতাম। কিন্তু এই বয়সে সত্যিই পরবর্তীতে কী হবে, তা ঠিক করা ঠিক নয়। যখন আমার ছেলে বড় হবে, যেই বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করি, সেটা ঠিক কেমন থাকবে, তা সত্যিই বুঝতে পারছি না। 


```