
শেষ আপডেট: 17 February 2024 14:21
রেটিং: ২/৫
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজকাল সম্পর্কের ক্ষেত্রে পলিগ্যামি কথাটা বেশ প্রচার পেয়েছে। যার অর্থ সঙ্গীর সম্মতিতে অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্ক রাখা। তেমনই একটি সম্পর্কের কাহিনী নিয়ে তৈরি হয়েছে হইচইয়ের নতুন সিরিজ ‘কলঙ্ক’।
রাইমা সেন, ঋত্বিক চক্রবর্তী অভিনীত এই সিরিজ হইচইতে মুক্তি পেয়েছিল জানুয়ারির শেষের দিকে। আটটি এপিসোডের এই সিরিজের কেন্দ্রে রয়েছে এক দম্পতি।

চৈতি ও রঙ্গনের কলেজ থেকে প্রেম। কিন্তু ওদের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি হল, বন্ধুত্ব। দুজনেই সম্পর্কের শুরুতেই একে অপরকে কথা দেয় যে ওরা কোনওদিন একে অপরকে মিথ্যে বলবে না। কারও যদি অন্য কাউকে ভালো লাগে, সেটাও অন্যজনকে বলতে হবে।
এভাবেই কেটে যায় বেশ কিছু বছর। এখন ছেলেমেয়ে নিয়ে ওদের ভরা সংসার। কিন্তু ওদের অ্যানিভারসারির দিন বদলে যায় অনেক কিছু। দেখা যায় অ্যানিভারসারির কেকের ভেতরে কে যেন লিখে রেখেছে ‘মিথ্যেবাদী’। কাহিনী চলে যায় ফ্ল্যাশব্যাকে।
রঙ্গনের অফিসের একটি মেয়েকে ওর পছন্দ হয়েছিল। মেয়েটিও (স্রিজলা গুহ) রঙ্গনকে বেশ পছন্দ করত। কথাটা রঙ্গন চৈতিকে জানায়ও। প্রথমে বিষয়টা সহজ ভাবে নিলেও, পরে চৈতি স্বাভাবিকভাবেই এই সম্পর্ক মেনে নিতে পারে না। ওদের মেয়ে (বিয়াষ ধর) জেনে যায় বাবার পরকীয়া সম্পর্কের কথা। মাকে ঘেন্না করতে শুরু করে সে। কারণ সে দেখে তার মা সব জেনেও বাবাকে সাপোর্ট করছে। এরপর? সম্পর্কের জটিল সমীকরণ কোথায় গিয়ে দাঁড়াল?

এই ড্রামা সিরিজে টানটান উত্তেজনা ধরে রাখার কোনও জায়গাই নেই। টেলিভিশনের ধাঁচে বানানো এই সিরিজ দেখতে দেখতে একসময় একঘেয়েমি আসে।
পরিচালক অভিমন্যু মুখোপাধ্যায় সবসময়ের মতোই ভালো কাজ করেছেন। তবে গলদ সিরিজের গল্প ও সংলাপে। সাহানা দত্তর টেলিভিশন ও অন্যান্য সিরিজ ভালো লাগলেও, ‘কলঙ্ক’ সেই পর্যায় ছুঁতে পারে না।

অভিনয়ের কথা বললে প্রথমেই আসে ঋত্বিক চক্রবর্তীর কথা। যার কথা না বললেই নয়। আবার আলাদা করে কিছু যেন বলারও নেই। ঋত্বিক একইরকম সাবলীল ও সহজ। চরিত্রের সঙ্গে মিলেমিশে নিজেকে একাকার করে ফেলেছেন এখানেও। যদিও এখানে তাঁর চরিত্রটির করে দেখানোর মতো কিছু ছিল না। কিন্তু জাত অভিনেতার ছোঁয়া তো থাকবেই। পাশাপাশি বলতে হয় বিয়াষ ধরের কথা। যে ঋত্বিক ও রাইমার মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছে। ওর অভিনয় মন ছুঁয়ে যায়। দাপটের সঙ্গে গোটা সিরিজে অভিনয় করে গেছে মেয়েটি। তবে এই সিরিজের অস্বস্তির কারণ রাইমা সেন। এতো বছর ইন্ডাস্ট্রিতে থাকার পরেও তাঁর অভিনয় দর্শকদের মন ছুঁতে পারে না। স্বরের মড্যুলেশন নেই, শুধু একভাবে কিছু বাক্য বলে যাওয়া যেন। স্রিজলা বেশ পরিষ্কার অভিনয় করেছে। টেলিভিশনের অভিনয়ের ধাঁচের বাইরে এক অন্য মোড়কে দেখা যায় ওঁকে।