
শেষ আপডেট: 1 March 2023 14:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউডে নয়নয় করে কাটিয়ে ফেলেছেন ২৭ বছর। নিজের কেরিয়ারের সোনার সময় কাটিয়ে এসেছেন বহু আগেই। পেয়েছেন গগনচুম্বী সাফল্যও। কিন্তু এত বছরেও তিনি যা পাননি, এবার সেটাই পেয়েছেন বলে জানালেন রানি মুখোপাধ্যায় (Rani Mukerji)। বললেন, "মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে (Mrs Chatterjee Vs Norway) ছবিতে অভিনয় করে তিনি যেভাবে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন, তা এই দীর্ঘ কেরিয়ারে কখনও পাননি।"
উল্লেখ্য, ছবিটি এখনও মুক্তি পায়নি। দিনকয়েক আগেই সবে ট্রেলার প্রকাশ্যে এসেছে। তাতেই রীতিমতো অভিভূত দর্শকরা। মাত্র ছয় দিনেই সেই ট্রেলারটির ১ কোটি ৭০ লক্ষ ভিউ ছাড়িয়েছে। এর সঙ্গে ভূয়সী প্রশংসা তো আছেই। দর্শকের এহেন ভালবাসা দেখে আবেগাপ্লুত রানি। জানালেন, "শুধু ট্রেলার দেখেই দর্শক কাঁদছেন, এমনটা সচরাচর দেখা যায় না। আমি আমার কেরিয়ারে এই প্রথম এমনটা দেখলাম।"
ট্রেলারটি দর্শকদের এত পছন্দ হওয়ার কারণ কী?
এই বিষয়ে রানি বলছেন, "ছবিতে একজন অসহায় মায়ের গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। হয়তো দর্শকরা কোনও এক পর্যায়ে গিয়ে ওই মায়ের অসহায়ত্বের সঙ্গে নিজেদেরকে একাত্ম করতে পেরেছেন। আমি এটা দেখে সত্যিই খুব আনন্দিত। কোনও ছবির ট্রেলারই যদি দর্শকদের এতটা নাড়া দিতে পারে, তাহলে পুরো সিনেমা হয়তো দর্শকদের আরও ভাল লাগবে।"
উল্লেখ্য, রানির এই লড়াই কেবলমাত্র পর্দায়। বাস্তবে কিন্তু আসল লড়াইটি লড়েছিলেন সাগরিকা ও অনুপ ভট্টাচার্য। তাঁদের জীবনেরই ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে এই সিনেমা। সেই ২০১১ সালে নরওয়েতে গিয়ে থাকতে শুরু করেছিলেন বাঙালি বধূ সাগরিকা ভট্টাচার্য। স্বামী ও দুই ছেলে-মেয়ের সঙ্গে সাজানো সংসার। কিন্তু আচমকাই একদিন নরওয়ের শিশুসুরক্ষা কমিশনের তরফে লোকজন এসে, আক্ষরিক অর্থেই ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায় তাঁর দুই সন্তানকে!
এই বাস্তব ঘটনাকে নিয়েই এগোতে থাকে সিনেমার গল্পও। একদিকে সন্তান হারানোর যন্ত্রণা, অন্যদিকে পারিবারিক অশান্তি। শেষ অবধি আলাদা হয়ে যান অনুপ-সাগরিকাও। অবশেষে দু’বছরের একটানা লড়াইয়ের পরে আদালতের কাছে জয়ী হন সাগরিকা। সন্তানদের ফিরে পান তিনি। পর্দার রানিও তাই পেয়েছেন।
মিসেস চ্যাটার্জীর ট্রেলার চোখে জল এনেছে? সাগরিকা ঠিক এই পর্বই পেরিয়েছিলেন রিয়েল লাইফে