
শেষ আপডেট: 28 July 2023 13:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছকভাঙা নানা চরিত্রে অভিনয় করার জন্য বরাবরই জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতা রণদীপ হুডা (Randeep Hooda)। বেশি বয়সেও অন্যরকম নায়কের ভূমিকায় তিনি দুর্দান্ত। সংখ্যায় কম ছবি করেই বারবার নিজেকে প্রমাণ করেছেন চ্যালেঞ্জিং রোলে। এবার সেই তিনিই পা রেখেছেন বীর সাভারকারের জুতোয়। এবছরেই ছবিটা পর্দায় আসার কথা। এখন থেকেই তা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। তবে ছবির চেয়েও বেশি চর্চায়, সাভারকারের ভূমিকায় থাকা হুদা। কারণ ইতিমধ্যেই জানা গেছে, এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ২৬ কেজি ওজন কমিয়েছেন অভিনেতা (Diet plan)!
ট্রেলারে দেখা গেছিল, রণদীপের মাথায় কংগ্রেসি টুপি, চোখে গোল চশমা। মোটা কালো গোঁফের উপর স্পষ্ট ফুটে আছে গালের হাড়, ঠিক যেমন ছিলেন সাভারকর। রণবীরের সেই সুঠাম বলিষ্ঠ গড়ন ভেঙে মিলিয়ে গিয়েছে হাড়গোড়ের মধ্যে।
শোনা গিয়েছিল, বিশেষ ডায়েট প্ল্যানেই এমন বড়সড় ওজন ঝরানো সম্ভব হয়েছে রণদীপ হুডার পক্ষে। তাঁর সারাদিনের খাওয়াদাওয়াও সামনে চলে এসেছিল। ৪ মাস ধরে নাকি দিনে একটা মাত্র খেজুর আর এক গ্লাস দুধ খেয়ে থেকেছেন তিনি। এটাই নাকি তাঁর এই ওজন ঝরানোর রহস্য।
তবে একটি সাক্ষাৎকারে এই কথা উড়িয়ে দিলেন রণদীপ নিজে। স্পষ্ট জানালেন, যা শোনা গেছে তা মোটেও ঠিক নয়। তিনি চান, সকলে সত্যিটা জানুক। তাঁর কথায়, 'যে খবর ছড়াচ্ছে, তা মোটেও সঠিক নয়। দেখুন, অনেকেরই ওজন কমানোর তাড়া থাকে অনেক কারণে। তাঁরা যেন এই ধরনের ভুল খবর পড়ে অনুকরণ করা শুরু না করে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, যে আমি দুধ এবং খেজুরের ডায়েটে ছিলাম না। আমি ছিলাম না শুধু নয়, এটি খুবই বিপজ্জনক, এটি স্বাস্থ্যের পক্ষে খারাপ। এটা দয়া করে কেউ অনুসরণ করবেন না।'
অভিনেতা আরও বলেন, 'হ্যাঁ, এটা ঠিক যে এই চরিত্রের জন্য আমি ২৬ কেজি ওজন কমিয়েছি। তবে প্রথম কথা হল সাধারণ মানুষের এত দ্রুত এত ওজন কমানোর কোনও দরকারই নেই। আমাদের মতো অভিনেতাদের এটা কাজ, আমাদের এমন অনেক জরুরি প্রস্তুতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। আমার এমনও অভিজ্ঞতা আছে, আমার যে ছবিটি তিন-চার মাসের মধ্যে তৈরি হওয়ার কথা ছিল, তা তৈরি হতে এক বছরেরও বেশি সময় লেগেছে। এই ছবির দীর্ঘ শিডিউলের কারণে আমাকে প্রায় ৭ মাস ধরে কম ওজনে থাকতে হয়েছে। এত কম ওজনে এতদিন ধরে থাকার কারণে অনেক সমস্যারও সম্মুখীন হচ্ছি। শরীর-স্বাস্থ্য ফেরানও কঠিন হয়ে উঠছে। আমি কাউকেই এই জাতীয় ডায়েট সুপারিশ করতে চাই না।'
তবে রণদীপ ঠিক কী করেছিলেন, তারও খানিকটা আন্দাজ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর বোন চিকিৎসক, ডক্টর অঞ্জলি হুডা। তিনি একজন ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ। তাঁর কথা শুনে চলেছেন রণদীপ। এছাড়াও ফিটনেস এক্সপার্টের অধীনে কঠোরভাবে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি।
রণদীপ বলেন, 'এই সময়ে আমি প্যালিও ডায়েট, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং ফলো করেছি এবং ভিটামিনের বিভিন্ন কম্প্লিমেন্টারি ট্যাবলেট খেয়েছি। ৫ দিনে আমাকে ৬-৭ কেজি ওজন কমাতে হয়েছে। আমি বিশেষজ্ঞদের কঠোর তত্ত্বাবধানে একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে চলেছি। খেজুর ও দুধ ওজন কমানোর যে খবর ছড়িয়েছিল, তা খুবই অস্বাস্থ্যকর। আমি শুধু খেজুরই খাইনি, বিভিন্ন পর্যায়ে ডিম, বাদাম, ডার্ক চকলেটের মতো জিনিস খেতাম। এমনকী চিট ডে-ও ছিল আমার ডায়েটে।'
'অভিনেতারা সবার বাবার সম্পত্তি, যা ইচ্ছে করা যায়!' খবরের শিরোনাম নিয়ে ক্ষিপ্ত অভিনেত্রী