
শেষ আপডেট: 10 September 2022 08:46
ভারতে হলিউডের অ্যাভেঞ্জার্সের ভক্ত কম নেই। মার্ভেলের ছবি সিনেমাহলে এলেই হাউজফুল থাকে সাতসকালের শো-ও। এতদিন অনেকেই সেই ছবিগুলো দেখতে দেখতে ভাবতেন, 'ইস আমাদের দেশেও যদি এমন সিনেমা বানানো যেত!' অয়ন মুখোপাধ্যায়ও হয়তো সেই আক্ষেপ কোনওদিন শুনেছিলেন। না হলে মাল্টিভার্সের আদলে ভারতে অস্ত্রভার্স বানানোর সাহস দেখানো কি চাট্টিখানি কথা! আর এই ছবি সমস্ত অস্ত্রের সেরা অস্ত্র 'ব্রহ্মাস্ত্র' (Brahmastra) নিয়ে। যাকে নিয়ে লড়াই আলো ও আঁধার জগতের।
এ ছবির গল্প নিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই। ছবির নব্বই শতাংশ জুড়ে যা আছে, তা হল ভিএফএক্স (VFX)। রাজামৌলির 'বাহুবলী' কিংবা 'আরআরআর' ভারতীয় সিনেমায় ভিএফএক্সের যেই মান দেখিয়ে গিয়েছে, তাকে টপকে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ ছিল 'ব্রহ্মাস্ত্র'-এর সামনে। বলা যায়, সেই দিক দিয়ে অয়নের নতুন ছবি দুর্দান্তভাবে সফল। সিনেমাহলে বসে একমুহূর্তের জন্যও মনে হবে না যে এটা কোনও ভারতীয় ছবি। হলিউডের যে কোনও ছবির সঙ্গেই 'ব্রহ্মাস্ত্র'-র ভিএফএক্সের তুলনা আসবেই।
তবে সিনেমা তো কখনও শুধু ভিএফএক্সের উপর নির্ভর করে না। একটা ভাল ছবির প্রধান উপাদান হল তার জোরালো চিত্রনাট্য। এরপর একে একে আসবে অভিনয়, গান, চিত্র পরিচালনা-সহ আরও অন্যান্য জিনিস। এখানেই মার খেয়েছে ছবিটি। জোলো চিত্রনাট্যে বেশ কিছু জায়গা বিরক্তির উদ্রেক ঘটিয়েছে। এমনকি কিছু কিছু সংলাপও যেন আদ্যিকালের হিন্দি ছবির মতো শুনতে লাগে। ছবি দেখে মনে হবে, ভিএফএক্সের দিকে বাড়তি নজর দিতে গিয়ে অন্যান্য দিকগুলির কথা ভুলেই গিয়েছেন নির্মাতারা।
ছবির গল্প এক অনাথ যুবককে নিয়ে। যিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ডিজে হয়েই জীবন কাটাচ্ছিলেন একজন সাধারণ মানুষের মতো। কিন্তু তাঁর মধ্যেই লুকিয়েছিল এক দৈবিক শক্তি। ছোট থেকেই তিনি জানতেন, আগুন তাঁকে জ্বালাতে পারে না। এমন সময় হঠাৎ করেই তাঁর মাথার ভিতরে ভেসে আসতে থাকে গভীর কোনও সংকেত। আর এখান থেকেই এগোতে থাকে গল্প। এই নিয়েই ছবি 'ব্রহ্মাস্ত্র পার্ট ১: শিবা'।
শিবার চরিত্রে রণবীর কাপুর (Ranbir Kapoor) বেশ ভাল। তিনি যে জাত অভিনেতা, তা ছবির ছত্রে ছত্রে ফুটে উঠেছে। যোগ্য সঙ্গত দিয়েছেন আলিয়া ভাটও (Alia Bhatt)। গোটা ছবিটি প্রায় এই দু'জনকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে। তবে এই ছবির সারপ্রাইজ প্যাকেজ বোধহয় মৌনি রায়। অন্ধকারের রানি 'জুনুন'-এর চরিত্রে মৌনি বলে বলে গোল মারতে পারেন বলিউডের তাবড় তাবড় ভিলেনদের। তবে অন্য দুই প্রধান চরিত্রে নাগার্জুনা এবং অমিতাভ বচ্চন থাকলেও চিত্রনাট্য তাঁদেরকে বেশি জায়গা দেয়নি।

ছবিতে পুরাণের সঙ্গে ফ্যান্টাসির মিশেল ঘটিয়েছেন অয়ন। এর আগে 'ওয়েক আপ সিড', 'ইয়ে জওয়ানি হ্যায় দিওয়ানি' বানিয়েছিলেন তিনি। তারপর দীর্ঘ ৯ বছরের অপেক্ষার শেষে নিয়ে এসেছেন 'ব্রহ্মাস্ত্র'। ৪০০ কোটিরও বেশি টাকা ব্যয় করে তৈরি এই সিনেমা যে অয়ন-সহ বাকি সবারই কেরিয়ারে আলাদা ছাপ রেখে যাবে, তা সিনেমা দেখেই বোঝা যায়। তারপরেও মনের ভিতর একটা কথাই খচখচ করতে থাকে- ইস, অয়ন যদি ভিএফএক্সের পাশাপাশি চিত্রনাট্যেও সমান গুরুত্ব দিতেন, তাহলে হয়ত হিন্দি তথা ভারতীয় ছবির ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ছবি হিসাবে জায়গা করে নিত 'ব্রহ্মাস্ত্র'।
ব্যর্থ ‘বয়কট ব্রহ্মাস্ত্র’ ট্রেন্ড! রমরমিয়ে বিকোচ্ছে অগ্রিম টিকিট, সরগরম বক্স অফিস