
নুসরত-রাজর্ষি
শেষ আপডেট: 18 March 2025 15:03
বেসরকারি চ্যানেলের ভুয়ো নথি, স্ট্যাম্প, লোগো ব্যবহার করার অভিযোগ। ফলত এফআইআর দায়ের। তারপর ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান্স এবং ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের নাম করে, টাকা তোলার অভিযোগে ‘অভিযুক্ত’ পরিচালক রাজর্ষি দে। এখানেই শেষ নয়। বাংলার প্রথম সারির নায়িকার ‘সই নকল’ করার অভিযোগ উঠল সেই একই পরিচালক রাজর্ষি দের বিরুদ্ধে।
‘দ্য ওয়াল’ এর তরফ থেকে ফোন যায় অভিযোগকারী প্রযোজক অরিন্দম ঘোষের কাছে। তিনি গোটা বিষয়টি নিয়ে বললেন, ‘নুসরতজি (Nussrat Jahan) আমাদের ছবি ‘ও মন ভ্রমণ’-এর সহপ্রযোজকও ছিলেন। যখন আমি বুঝতে পারি, যে শুটিংয়ের খরচের টাকাপয়সার হিসেব রাজর্ষিদা দিচ্ছে না। আমি এবং প্রিয়াঙ্কা (প্রযোজক) ছবিতে টাকা বিনিয়োগ বন্ধ করি। এটা হওয়ার পর ছবিতে যাঁরা অভিনয় করছেন, যেমন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়, রাজর্ষিকে তাঁর পারিশ্রমিক নিয়ে চাপ দিতে থাকেন। এবং রাজর্ষি বারবার আমায় কল করে টাকা মিটিয়ে দিতে বলে।’ কিন্তু প্রযোজক সেই টাকা দিতে অস্বীকার করেন। ঠিক এমন সময় নুসরতের সঙ্গে অরিন্দমের কথা শুরু হয়। শুটিং যেহেতু বন্ধ হয়ে যায়, তা শুরু করার প্রচেষ্টা করেন নুসরত নিজেই।
অরিন্দম বলেন, ‘আমি এবং প্রিয়াঙ্কা এক পাঁচতারা হোটেলে, নুসরতজির সঙ্গে দেখা করি। কথা চলতে থাকে। ঠিক এমন সময় কথার পিঠে কথা চাপতে, হঠাৎ একটি প্রশ্ন করে প্রিয়াঙ্কা, (প্রযোজক)’
কী সেই প্রশ্ন তা ‘দ্য ওয়াল’কে জানান খোদ প্রযোজক প্রিয়াঙ্কা ভট্টাচার্য। ‘আমাদের কাছে ছবিকেন্দ্রিক কোনও নথিপত্র সে সময়ে ছিল না। আমাদের অগোচরে গোটাটাই চালিয়ে যাচ্ছিল রাজর্ষি। ওর প্রোডাকশন হাউস ‘মাইকেল অ্যাঞ্জেল স্টুডিয়োজ’-এর মাধ্যমে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের পারিশ্রমিকের চুক্তি হতে থাকে। তাই আমরা জানতামই না, নির্দিষ্টভাবে কাকে কত টাকা দেওয়া হচ্ছে। আমি নুসরতের (Nussrat Jahan)কাছে জানতে চাই, ‘ও মন ভ্রমণ’ ছবির জন্য তিনি কত টাকা পারিশ্রমিক হিসেবে নিচ্ছেন?’
আর এই প্রশ্নের পর প্রিয়াঙ্কা-অরিন্দম যা জানতে পারে, তা মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার সমান। ছবিতে নুসরত পারিশ্রমিক ১০ লক্ষ টাকা। কিন্তু যে টাকার অঙ্ক পারিশ্রমিক হিসেবে নুসরত নেবেন, যা কোর্ট পেপারে সইসাবুত করা রয়েছে, তা ১৫ লক্ষ টাকার!
প্রযোজক অরিন্দমের বিষয়টি বুঝতে খুব সময় লাগেনি, ‘যেই নথি আমাদের কাছে ছিল, তা মোট ১৫ লক্ষ টাকার। চারটি কিস্তিতে পারিশ্রমিকের টাকা দেওয়া হবে অভিনেত্রীকে। আমরা জানতে পারি, কোর্ট পেপারেও রাজর্ষি নুসরত জাহানের সই নকল করেছে।’
শুধু তাই নয়, নুসরত জাহানের সইটি যে নকল, তা নিশ্চিত করেছেন খোদ অভিনেত্রী নিজেই। নুসরত জাহানকে হোয়াটসঅ্যাপে সমস্ত ডকুমেন্ট পাঠান প্রযোজক অরিন্দম ঘোষ। অভিনেত্রী জবাবে লেখেন, এটা আমার সই নয়। এই ডকুমেন্টটিও আমার নয়। পরের মিটিংয়ে, এই ডকুমেন্টটি আনবেন, আমি আমার ডকুমেন্ট সঙ্গে আনব।’
অরিন্দম বলেন, ‘আমরা রাজর্ষিকে বিশ্বাস করেছিলাম, কিন্তু যখন ও আমাদের টাকা নিয়ে নয়ছয় করতে থাকে, সে সময়ে বিশ্বাস ভেঙে যায়। এবং তারপর যখন খোঁজ নেওয়া শুরু করি, একের পর এক আর্থিক অসঙ্গতি সামনে আসতে থাকে।’
দ্য ওয়াল যোগাযোগ করে অভিযুক্ত পরিচালকের সঙ্গেও। গোটা ঘটনা শুনে রাজর্ষি দে বলেন, ‘আমার কাছে যে ডকুমেন্ট আছে, সেখানে লেখা রয়েছে, নুসরতের সঙ্গে ১০ লক্ষ টাকার চুক্তি হয়। ৯ লক্ষ টাকা তাঁকে দেওয়া হয়েছে। ১ লক্ষ দেওয়া হয়নি। আর এই ডকুমেন্ট ইম্পা এবং ফেডারেশনের কাছেও মেল মারফত পাঠানো হয়েছে। যে চুক্তির কথা আপনি বলছেন, সেটায় ১৫ লক্ষ টাকার বিষয়টি ভুল ছিল। এটা ইম্পাকেও জানানো হয়েছে।’
নুসরত জাহানের ‘জাল সই’ প্রসঙ্গে রাজর্ষি বলেন, ‘আমি কিংবা‘মাইকেল অ্যাঞ্জেল স্টুডিয়োজ’-এর কেউ কখনও কারও সই জাল করেনি। তা হলে, শ্রাবন্তী কিংবা স্বস্তিকার সইও জাল করা হত।’
প্রসঙ্গত ১১ মার্চ পরিচালক রাজর্ষি দের বিরুদ্ধে বিধাননগর ইলেক্ট্রনিক্স কমপ্লেক্স থানায় জালিয়াতি মামলায় এফআইআর দায়ের করে বেসরকারি চ্যানেল। সূত্রের খবর গোটা ঘটনায় শুধু রাজর্ষি দে নয়, সুজয় কুট্টি এবং শুক্লা বি হাজরা নামক দুই জনৈক জড়িত।