
অঙ্ক এতই কঠিন?
শেষ আপডেট: 17 March 2025 20:25
রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়
সৌরভ পালোধির কাছ থেকে প্রথম পেয়েছিলাম স্ক্রিনশটটা। ফেসবুকে ওর ফিডে আসা মাত্রই সেভ করে আমাকে পাঠায়। দেখি তাতে বড় বড় করে লেখা '২৯ তম প্রয়াণ বার্ষিকীতে শ্রদ্ধার্ঘ'। আমার ছবি আর নিচে লেখা চলচ্চিত্র অভিনেতা অনিল চট্টোপাধ্যায়। প্রয়াণ, ১৭ মার্চ ১৯৯৬। ফেসবুকে ইতিমধ্যেই শেয়ার করেছি। অনেকেই দেখেছেন। অনেকেই সেই স্ক্রিনশট আমাকে পাঠিয়েওছেন। আমি শুধু একটাই কথা ভাবছি, 'এত অসম্মান কি অনীল চট্টোপাধ্যায়ের প্রাপ্য?' কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘মেঘে ঢাকা তারা’ ছবিতে আমি ওঁর চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। গুগল ওর নাম লিখে খুঁজলে হয়তো আমার ছবিও দেখায়। কিন্তু তাই বলে, যিনি এই ধরনের পোস্ট করেছেন, যাকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করছেন, তিনি একবার যাচাই করবেন না?
একে ফেক নিউজ বলা যায় না! তবে অজ্ঞতার তকমা পেতেই পারে এই পোস্ট। বা বলা যেতে পারে এ রিসার্চের অপমৃত্যু। আমি যখন সামাজিক মাধ্যমে কিছু পোস্ট করছি, ন্যুনতম দায়িত্ববোধ তো থাকবে। সেদিকটাও নজর দেওয়ার অভ্যেস চলে যাচ্ছে। আমার কিন্তু নিজের জন্য খারাপ লাগেনি। লেগেছি ওই মানুষটার জন্য। তিনি অনীল চট্টোপাধ্যায়। রাহুল মানে আমি যা করেছি আমার মৃত্যুর পর সেই কাজের আয়ু বড়জোর ১০ বছর! কিন্তু অনীল বাবুর মতো মানুষ তো কিংবদন্তী। তাঁরা তো সেই বিরাট বটগাছ, যার ছায়ায় আশ্রয় পেয়েছেন বহু শিল্পী।
সত্যজিৎ রায়, ঋত্বিক ঘটকের সঙ্গে কাজ করা একজন মানুষ। যার ঝুলিতে 'নাগরিক', 'কাঞ্চনজঙ্ঘা', 'সাগিনা মাহাতো', 'মরুতীর্থ হিংলাজ', 'মেঘে ডাকা তারা','দেবী'র মতো ছবি রয়েছে তিনি কেমন দেখতে সেই ব্যাপারে কেন ধারণা থাকবে না! আমি লজ্জিত। একই সঙ্গে আমার প্রশ্ন, এই অসম্মান মনে হয় ওঁর প্রাপ্য নয়। স্ক্রিনশটটি আমার মায়ের কাছেও পৌঁছেছে। ছেলেকে ওই ভাবে দেখতে কারও ভাল লাগে না। তাঁরও লাগেনি। একটাই অনুরোধ এই ভাবে মানুষকে বিভ্রান্ত করবেন না। অসম্মানিত হতে কারও ভাল লাগে না। মূল উদ্দেশ্য কোথাও গিয়ে লঘু হয়ে যায়।
অনুলিখনের ভিত্তিতে লিখিত
অনুলিখন: বিহঙ্গী বিশ্বাস
