ওপার বাংলার অন্যতম প্রতিভাবান তরুণ অভিনেতা ইয়াশ রোহান। সিনেমা হোক বা নাটক—সবখানেই তিনি সমান দক্ষতায় মুগ্ধ করেছেন দর্শককে। রায়হান রাফির পরাণ-এ বিদ্যা সিনহা মিমের সঙ্গে তাঁর অভিনয়ের রসায়ন আজও দর্শকের মনে গেঁথে আছে।

ইয়াশ রোহান
শেষ আপডেট: 3 October 2025 13:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওপার বাংলার অন্যতম প্রতিভাবান তরুণ অভিনেতা ইয়াশ রোহান। সিনেমা হোক বা নাটক—সবখানেই তিনি সমান দক্ষতায় মুগ্ধ করেছেন দর্শককে। রায়হান রাফির পরাণ-এ বিদ্যা সিনহা মিমের সঙ্গে তাঁর অভিনয়ের রসায়ন আজও দর্শকের মনে গেঁথে আছে। শুধু সিনেমা নয়, নাটকেও নিয়মিত তিনি, যেন পর্দার ভেতর-বাইরে সমানভাবে আলো ছড়ানো এক মুখ। আসলে অভিনয় তাঁর রক্তে—কারণ নরেশ ভূঁইয়া ও শিল্পী সরকার অপুর সন্তান ইয়াশের ঘরেই অভিনয়ই ছিল নিঃশ্বাসের মতো স্বাভাবিক।
কিন্তু, হঠাৎ করেই প্রিয় এই মুখকে একাংশ মানুষের কাছে অপ্রিয় হতে হলো। কারণ একটাই—ইয়াশ রোহান হিন্দু। আর তাঁর কাছে দুর্গাপুজো বছরের সেরা উৎসব। গতকাল কপালে সিঁদুর তিলক কেটে মা দুর্গার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন তিনি। অথচ সেখান থেকেই শুরু হল ঝড়—সোশ্যাল মিডিয়ার কমেন্ট বক্সে নামল তির্যক মন্তব্যের বৃষ্টি। কেউ লিখলেন, “তোমার নাটক আর দেখবো না।” আরেকজন লিখলেন, “ভাই, আপনার নাটক অনেক দেখেছি, আজ থেকে দেখা হবে কিনা জানিনা। কারণ ভাবছিলাম মুসলিম… নাটকগুলো ভালোই লাগতো।” এমনকি কেউ সরাসরি লিখেই দিলেন, “তোকে তো মুসলিম মনে করছিলাম!”
কাজের বাইরে ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি সোজাসাপ্টা। তাই এই ট্রোলের সামনে চুপ থাকেননি ইয়াশ। একের পর এক বাঁকা মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন দৃঢ়ভাবে। তবে সব প্রতিক্রিয়া যে নেতিবাচক ছিল, তা নয়। ভালোবাসা ভরা এক দর্শক লিখলেন, “আমি ধর্ম দেখে নাটক দেখি না। তুমি আমাকে ভালো লাগো বলেই দেখি। ধর্ম নিয়ে কিছু বলতে চাই না। বাংলাদেশের মানুষ ধর্ম দিয়ে একটু বেশিই বিচার করে—তাদের চিন্তা ছোট। তুমি অসাধারণ একজন মানুষ, তোমার প্রতিটি চরিত্রই মনোমুগ্ধকর। ভালোবাসা অফুরন্ত।”
আরেকজন মন্তব্যে যেন পুরো পরিস্থিতির সারমর্মই টেনে আনলেন: “এই ছবির কমেন্ট বক্স এক ধরনের স্মারক হয়ে থাকবে। এখানে সংখ্যালঘু ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের কিছু মানুষের মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। কিন্তু তাঁদের বিরক্তিকর আচরণের প্রতিবাদ করেছেন তাঁদেরই সম্প্রদায়ের মানুষ। যারা প্রতিবাদ করেছেন, তাঁদের ধন্যবাদ। আপনারা মন্দ মানুষের ভিড়ে মনুষ্যত্ব ধরে রেখেছেন। আপনাদের জন্য সম্মান ও ভালোবাসা রইল। প্রার্থনা করি, এই মনুষ্যত্ব আজীবন টিকে থাকুক। আর যাদের মন মন্দ, তাদের বোধোদয় ঘটুক, জ্ঞান প্রসারিত হোক।”
অভিনয়ের আলোয় দীপ্ত ইয়াশ রোহান, যিনি বাবার চোখে অভিনেতা, মায়ের চোখে নায়ক। দর্শকের কাছে তিনি প্রতিভা আর মানবতার প্রতিচ্ছবি। ধর্মের বিভাজন টপকে তিনি পৌঁছে গেছেন মানুষের হৃদয়ে। কটাক্ষ আর অন্ধকার ট্রোলের মাঝেও তিনি দাঁড়িয়ে আছেন অটল আত্মবিশ্বাসে—কারণ তিনি জানেন, শেষমেশ জয়ী হয় ভালোবাসার আলোই। তাই আজ ইয়াশ রোহান কেবল একজন অভিনেতা নন, মানবতারও উজ্জ্বল আলোকস্তম্ভ।
অভিনয়ে সাফল্য, ব্যক্তিত্বে দৃঢ়তা আর ভালোবাসায় ভরা হৃদয়—সব মিলিয়ে ইয়াশ রোহান আজ সময়ের অন্যতম উজ্জ্বল নাম। অন্ধকার ট্রোলিংয়ের ঝড়ে ক্লান্ত না হয়ে তিনি আলো ছড়ান আরও বেশি। কারণ তিনি জানেন—মানুষকে জেতা যায় কেবল অভিনয়ে নয়, মানবতার শক্তিতেই। আর তাই ইয়াশ রোহান আজ এক আলোকবর্তিকা, যিনি শিখিয়ে দিচ্ছেন—শেষ পর্যন্ত জয় হয় ভালবাসারই।