
বাবার সঙ্গে মেয়ে।
শেষ আপডেট: 15 November 2024 23:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'ফাইট কোনি ফাইট... ' যে উদ্যম নিয়ে একসময় বলেছিলেন লড়তে, সেই উদ্যম ২০২০ সালে হার মেনেছিল বেলভিউর এক সজ্জায়।
সমস্ত নাম, যশ, খ্যাতি, প্রতিভা মিশে গিয়েছিল শূন্যে। অস্ত্রোপচার, লাইফ সাপোর্ট, চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা, অনুগামীদের ভালবাসা, ছেলে-মেয়েদের কাতর আর্তিও কাজ করেনি। জীবনে হার না মানা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় মৃত্যুর কাছে পরাজয় শিকার করেছিলেন ২০২০ সালের আজকের দিনে।
নিজের স্বপ্ন, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ দিয়ে তৈরি করা সন্তানদের রেখে গিয়েছিলেন। আজ সেই পৌলোমী বসুর চোখ দিয়েই কিংবদন্তী শিল্পীকে ফিরে দেখা দ্য ওয়ালের।
অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে অনেকেই চেনেন। কিন্তু ব্যক্তি সৌমিত্রকে? না হয়তো চেনেন না কেউই। তিনি যে ভীষণভাবে জঙ্গল ভালবাসতেন, তা অনেকেরই অজানা। জঙ্গলের ওপর লেখা বই পড়তে মুখিয়ে থাকতেন। ঘুরে বেড়াতে চাইতেন সবুজের মাঝে। সেটাই ছিল তাঁর ফেভারিট ডেস্টিনেশন। গাছ-পালাদের সঙ্গে মনের টান ছিল। ভালবাসা ছিল আলাদা রকমের। সেই ভালবাসার টানের জেরেই ছেলে-মেয়েদের নিয়ে পৌঁছে যেতেন পালামৌ।
পালামৌ। সারি সারি গাছ, পাখিদের ডাক, সবুজ ঘন জঙ্গল আরও কত কী। নিজের ভালবাসার গাছেদের সঙ্গে আলাপ করাতেন সন্তানদের। পরিচয় করাতেন চেনা আকাশের। মাটির গন্ধের সঙ্গে ভাব জমাতেন ছোট্ট দুই ভাই-বোন। সেকথা আজও মনে পড়ে পৌলোমীর।
রাস্তায় সাঁওতাল পরগনা থেকে মায়ের কেনা গয়না আজও যত্নে রেখেছেন। হয়তো মায়ের গন্ধ পান। কিন্তু বাবার... বাবা বললেই তাঁর মনে পড়ে ঘুরতে গিয়ে গাড়িতে গান গাওয়া, বাড়িতে পড়াশোনা, গান, ছবির আলোচনা, মিষ্টি হাসি ও স্নিগ্ধ একটা মানুষের কথা। চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ে। পৌলমী ফিরে যান ছোটবেলায়।
বাবার সঙ্গে কাটানো সমস্ত মুহূর্ত আজও টাটকা। বাবা নেই, সেই স্মৃতিই সারাক্ষণ ঘুরে বেড়ায়। যা গভীর ক্ষত তৈরি করেছে তাঁর মনে, সেকথাও অকপটে স্বীকার করেন। জানান, মৃত্যুবার্ষিকীতে একটা করে সংখ্যা যত বাড়ছে, ঝড়ের গতিতে সময় এগোচ্ছে, বাবাকে ততটাই মিস করেন তাঁর মিটিল।
বাবার দেখানো পথে বাবাকে খুশি করতেই থিয়েটারে অভিনয় শুরু করেছেন। একজন ভারতনাট্যম শিল্পীকে অভিনয় করার সাহস জুগিয়েছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্য়ায়ই। তাঁর মৃত্যু বার্ষিকীতে তাঁর লেখা নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসে। অভিনয়ে তাঁর প্রিয় মিটিল। শ্রদ্ধা জানানোর এর চেয়ে ভাল পথ আর কী হতে পারে।