
শেষ আপডেট: 6 April 2023 10:41
যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে-যাওয়া গীতি... এসো হে বৈশাখ এসো এসো।
নববর্ষ মানেই পুরনোকে বিদায় জানিয়ে নতুনকে আহব্বান। কিন্তু সব পুরনোকে কি ভুলে যাওয়া যায়? যায় না! তাই প্রবীণ মানুষরাও ভুলতে পারেন না তাঁদের ফেলে আসা পয়লা বৈশাখের স্মৃতি। টালিগঞ্জ পাড়ার প্রবীণ অভিনেতা, সকলের ভালবাসার, পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Paran Banerjee) ভেসে গেলেন তাঁর ফেলে আসা ছেলেবেলার পয়লা বৈশাখের দিনগুলিতে। শুনলেন শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।
আমার ছেলেবেলা কেটেছে উত্তর কলকাতায়। নববর্ষর আমেজ উত্তর কলকাতাতেই সবচেয়ে বেশি অনুভূত হত। সেখানে মিষ্টির দোকান, গয়নার দোকান, দর্জির দোকান সব জায়গাতেই হালখাতা হত। সেসব দোকান থেকে নিমন্ত্রণ করে হলুদ ছাপ মারা, স্বস্তিক আঁকা খাম আসত।
নতুন বছরে নতুন জামাকাপড়ও হত। নতুন জামার গন্ধতেই মাতোয়ারা হতাম। নতুন জামা পরার অনেক আগে থেকেই গন্ধটা শুঁকতাম। বিকেলবেলা বড়দের হাত ধরে বা কাছাকাছি দোকানগুলো নিজেই ঢুঁ মারতাম। সেসব দোকানে গেলেই মিষ্টির প্যাকেট পাওয়া যেত, যা ছিল বড়ই আনন্দের। প্রতিটা দোকান ফুল দিয়ে সাজানো হত। সবার গায়ে গোলাপ জল ছেটানো হত।

তিন চারটে মিষ্টির প্যাকেট, তিন-চারটে ক্যালেন্ডার নিয়ে বাড়ি ফেরার মজাই ছিল আলাদা। প্রচুর ক্যালেন্ডার জমত। সে যুগে একটা পেরেকে তিন-চারটে ক্যালেন্ডার ঝোলানো থাকত। বেশিরভাগ ক্যালেন্ডারেই ঠাকুর দেবতার ছবি থাকত। এমনও দেখা গেছে বছর শেষ হয়ে গেছে কিন্ত তার ভিতর যে ভাল একটা মা কালীর ছবি রয়েছে সেটা বাঁধিয়ে পাশে ঝোলানো হল।
চৈত্র মাস তখন সবে শেষ হয়েছে, গাজন উৎসবের একটা আমেজ থেকে যেত। পরে এল চৈত্র সেল। তার পরই রবীন্দ্র জয়ন্তী। সবকিছু মিলিয়ে মিশিয়ে একটা মানুষের সমন্বয় হত, যেটা আজকাল হারিয়ে গেছে। এখনকার বাঙালিদের কাছে নিউ ইয়ার ইংরেজি বছরের গুরুত্ব বেশি। অনেক বাঙালি হয়তো বলতেই পারবে না, এই পয়লা বৈশাখটা বাংলার কত সাল? এটা আমাদের লজ্জার জায়গা, কষ্টের জায়গা তবু মেনে নিতে হয়।

পয়লা বৈশাখের একটা গন্ধ থাকে, এখন আর সেই গন্ধটা নেই। এখন বাঙালিয়ানার ব্যাপারটা প্রায় মুছে গেছে বললেই চলে। আমি এখন আলাদা করে আর পয়লা বৈশাখ দিনটার গন্ধ পাই না। দিনটার গুরুত্ব পাই না। নববর্ষকে কেন্দ্র করে আলাদা করে দিন কাটানোর সেই পরিবেশও নেই, সেই মনটাও নেই। এখন অন্যদিনের সঙ্গে পয়লা বৈশাখের কোনও তফাত খুঁজে পাওয়া যায় না।
তবু কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান বা চ্যানেল এই দিনগুলোকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠান করে। তাতে করে একদিনের জন্য হলেও দিনটার গুরুত্ব বোঝানো যায়। আমাদের রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন পালনের মতো আর কী! একদিনই তাঁকে খুব মনে পড়ে। সারা বছর তাঁর কোনও নাম গন্ধ শুনতে পাওয়া যায় না। আমি কাউকে কোনও অভিযোগ করছি না, কিন্ত মহাকালের নিয়মে অতীত ভেবে অনুতাপ করছি। সেই ছেলেবেলায় আমরা যেমন পয়লা বৈশাখ পেয়েছিলাম, সেটা এখন আমার নাতনি পাচ্ছে না। পরিবেশ, কালচার সবকিছুই বদলে গেছে। এখন সবটাই অঙ্ক কষা। আবেগের অন্য ব্যাখ্যা এখন।

তবু সবাইকে বলি, নতুন বাংলা বছর সবার ভাল কাটুক, সবাই ভাল থাকুক, সবাইকে আমার স্নেহশিস ও ভালবাসা।
কেরিয়ারে ধাক্কা, ভুল নারীসঙ্গ, অবসাদ! ভাসান হল টলিউডের কার্তিক ঠাকুরের