
শেষ আপডেট: 30 August 2021 13:06
সোনা মা এমনই উত্তররাধিকারীর সন্ধানে। এইরকম চরিত্র কিন্তু আমি আগে করিনি। বঙ্কিমচন্দ্র, শরৎচন্দ্রের ক্লাসিক সিরিয়াল করেছি বা লীনাদি, স্নেহাশিসের লেখা গল্প করেছি। কিন্তু এরকম গ্ল্যামারাস ঠাকুমার চরিত্রে কাজ করতে খুব ভাল লাগছে। বম্বের শশী-সুমিত প্রোডাকশনস ভীষণ প্রফেশানাল, তাই কাজ করতেও বেশ লাগছে।
ফিল্মে আপনার সমসাময়িক অভিনেত্রীরা আজও ঠাকুমার চরিত্র পেলে আঁতকে ওঠেন এবং রিজেক্ট করে দেন। তাঁরা মায়ের চরিত্রও খুব ভেবে করেন। ঠাকুমা করলে তাঁরা ভাবেন স্টারডমে আঘাত হানবে। আপনি এত সহজ ভাবে ভাবেন কী করে?
আমি তো থিয়েটারের লোক, আমি নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছি। মঞ্চে এখনও পর্যন্ত আমি নায়িকারই চরিত্র করি। কিন্তু সবকিছুর তো একটা সিস্টেম আছে। কেন ঠাকুমা নয়? রানি রাসমনির চরিত্র যদি সতেরো-আঠেরো বছরের মেয়ে করতে পারে তাহলে আমি কেন ঠাকুমা নয়? আমাদের সতেরো-আঠেরোতে বিয়ে হলে ঠাকুমা কি হতাম না! থিয়েটারের মেয়ে হয়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র করার জন্য তো আমি বসে আছি। আমি তো বলব চরিত্রটার জন্য আমাকে বেছে ওরা ঠিক কাজ করেছে। চরিত্রটা ঠিক মর্যাদা পেয়েছে। কেন লোকে এতকিছু বলছে জানি না। আমার তো কোনও অসুবিধে নেই ঠাকুমা করতে। যেখানে স্ক্রিপ্টের সিংহভাগ জুড়েই এই চরিত্রটা।
দু-একজন অভিনেত্রী থাকতেই পারেন, যাঁরা করতে চান না। ঠিক আছে, তাঁদের লোকে কমবয়সি চরিত্রে মেনে নিলে ভালই। আমার মিষ্টি সোনা মা চরিত্রটাও লোকে মেনে নেবে আশা করি। তাঁরা করেন না বলে আমি কেন করব না? আমার পছন্দ হয়েছে তাই করছি।
অনেকেই বলছে, নির্বাচনে পরাজিত হয়ে পাপিয়া অধিকারী সিরিয়ালে ফিরে গেলেন। কী বলবেন এ বিষয়ে?
অভিনয়টা তো আমার ধর্ম এবং কর্ম, সেই শুরু থেকেই। কর্মটা বাদ দিয়ে তো হয় না। হেরে গিয়ে অভিনয় করছি তা নয়। এ কাজ আমি দীর্ঘদিন করে চলেছি। কেন শতাব্দী (রায়) তাপস (পাল)রা তো যাত্রা করত রাতের পর রাত। ওঁদের তো মমতা ব্যানার্জী বলেছিলেন তোমরা সবই করতে পারো। আমি তো একটা সিরিয়াল করছি।
https://youtu.be/B2ExrVAFeOY
অনেকেই বলছে হেরে গেল বিজেপি। সবাই ভুল বোঝাচ্ছে। একটা পার্টির কিছুদিন আগে কোনও অস্তিত্ব ছিল না। তারা এবার সাতাত্তরটা আসন পেয়েছে। এটা একটা বিরাট জয়। আসলে পরাজয় মানে 'পরে জয়'। পরে জয় পাবে জনতা পার্টি, আমি নিশ্চিত। আমার কাছে রাশি রাশি চিঠি আসছে রাজ্যের অধঃপতন নিয়ে। কত মানুষ ঘরছাড়া, বাগনানে একটি মেয়েকে গণধর্ষণ করা হয়েছে, একজন মুসলিম শিক্ষিত ডাক্তারবাবু বিজেপিকে পছন্দ করেন বলে তিনি ঘরছাড়া। কেউ আমাদের দলকে পছন্দ করে বলে তাঁদের অন্য পার্টির লোকরা এসে মারবে?
উলুবেড়িয়া থেকে এবছর আমি নির্বাচনে বিধায়ক পদে প্রার্থী ছিলাম। উলুবেড়িয়া বাগনানের শিক্ষিত লোকেরা ফোন করে বলছেন, 'তৃণমূলের লোকেরা এসে বলছে ঘর থেকে বেরিয়ে যা তোর বউয়ের সঙ্গে শোব।' শুধু তাঁরা ভারতীয় জনতা পার্টিকে পছন্দ করে তাই। তখন মনে হয় বিরোধী ছেলেগুলোকে ছুটে গিয়ে এক থাপ্পড় মারি।
নির্বাচনের সময় আপনার ফেসবুক লাইভেও দেখছিলাম আক্রমণের শিকার হয়েছেন আপনি
ভদ্রতাকে কেউ দুর্বলতা ভাবলে মুশকিল। আমি সজ্জন শিক্ষিত মানুষের মতো প্রতিবাদ করি। সেটার জন্যও অনেক কিছু ফেস করতে হয়। উলুবেড়িয়া হাসপাতালে গিয়ে বিরোধীদের তলোয়ার নিয়ে অসভ্যতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় আমায় এসে মারধর করে, যা ভাবতেও পারি না। আমি বলেছিলাম, ঈশ্বর তৃণমূলদের সুমতি দিন। সুমতিটা না এলে না কুমতিটা কাটবে না।
যখন বামফ্রন্ট ক্ষমতায় ছিল তখন তো বামেরা তৃণমূল বা কংগ্রেসদের অফিসে আগুন লাগিয়ে দেয়নি। রাজনৈতিক কপর্দকশূন্যতার নির্দশন এরা। সংবাদপত্র পোর্টাল এসব ঘটনা জনসমক্ষে আনছে না আর বিদ্বজ্জনরা সব দেখেও চুপ।
আমি কিন্তু রাজনীতি ছাড়িনি। অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অনেক কাজ করছি। ফেসবুক লাইভ অনুষ্ঠান করি প্রতি রোববার 'সাদা চোখে অকপটে চায়ের চুমুকে পাপিয়া'। যেখানে শেক্সপিয়ার, রবীন্দ্রনাথের আদর্শ থেকে বর্তমান রাজনীতি নিয়ে আলোচনা করি। পঞ্চাশ পর্ব হবে যেটার খুব শিগগিরি।
একসময় তো মেগা আসার আগের যুগে 'আমার নাম বকুল' ধারাবাহিকে বকুল নামে আপনি ভীষণ জনপ্রিয় হন ঘরেঘরে।
আমার মনে আছে, 'আমার নাম বকুল' সপ্তাহে একদিন করে হতো। তখন 'আমার নাম বকুল' দেখতে রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যেত। ঠিক যেমন 'মহাভারত' শুরু হলে হত। আর আমাকে বকুলদি বলে ডাকা হত। যেখানেই যেতাম সবাই বকুলদি বলে ডাকত। তার আগে বহু সিনেমা করেছি। 'প্রতীক' বা 'দেবীবরণ' ছবির বিবি পায়রা তো তারও আগে। তাই ছবি করতাম বলে সিরিয়াল করতে রাজি হচ্ছিলাম না নব্বই দশকে। কিন্তু বকুল নামেও খুব জনপ্রিয় হই। তখন সিরিয়ালের ক্লাসটা একদম বাড়ির ঘরোয়া ক্লাস। আজও দেখুন আপনি এত বছর পরে আমায় বকুল বলে মনে রেখেছেন।
আরও পড়ুন: কাবুলিওয়ালার বাঙালি বৌ হিসেবে ভাবা হয়েছিল দেবশ্রী, মনীষাকে
মনে পড়ছে, 'আমার নাম বকুল'-এর শীর্ষসঙ্গীত গেয়েছিলেন হৈমন্তী শুক্লা। গানটা ছিল 'জীবনে কত না বকুল ঝরে যায়' (নিজেই গাইলেন দু'লাইন)। সবার মুখে মুখে তখন এই গান। আমি যে ফাংশনে যেতাম তখন এই গানটা আমায় গাইতে বলা হত। আমার সিনেমার গান 'বিবি পায়রা', 'তুমি কৃষ্ণ তুমি বিষ্ণু' তো গাইতেই হবে কিন্তু 'জীবনে কত না বকুল ঝরে যায়' এই গানটাও গাওয়ার অনুরোধ আসত।
এখন তো প্যানডেমিকে ফাংশন কোনও সুদূরের ইতিহাস মনে হয়। শুধু ফাংশন নয়, যাত্রা, নাটক, ম্যাজিক শো, সার্কাস, বাউল গান-- সবেতেই যে এত লোক কাজ করেন, তাঁদের মাথাপিছু পরিবারে অন্তত চারজন করে সদস্য আছেন। এখন এই কয়েক লক্ষ মানুষ একেবারে খেতে পাচ্ছেন না। জানেন তো, তাঁদের কোনও কাজ নেই। এই নিয়ে সরকারপক্ষ কিছু ভাবছেন? শুধু নিজেদের লোকরা কাজ পাচ্ছে। আমি আমার মতো চেষ্টা করছি যদি কাজের সুযোগ আনা যায়। ছোটবেলা থেকে এনজিও করছি রাজনীতিতে আসা সেই কারণেই, যদি বড় মাপে এনজিও করতে পারি। এবার নির্বাচনে জিতিনি, সামনের বার প্রার্থী হয়ে নিশ্চয়ই জিতব।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'