
শঙ্কর চক্রবর্তী ও উৎপল দত্ত
শেষ আপডেট: 29 March 2025 14:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক সময়ে অভিনেতা শঙ্কর চক্রবর্তী ছিলেন প্রবাদপ্রতিম উৎপল দত্ত-র (Utpal Dutt) নাট্যগোষ্ঠীর একজন গুরুত্বপূর্ণ নাট্যক্রমী। তাঁর দেখা জীবনের চেয়ে ‘বৃহদাকার’ মানুষটির আজ জন্মদিন। বেঁচে থাকলে আজও তিনি পা রাখতেন ছিয়ানব্বইতে। তিনি নেই, তবে আজও মানুষটিকে নিয়ে কথা বলার সুযোগ খোঁজের অভিনেতা শঙ্কর চক্রবর্তী। দ্য ওয়াল-এর পক্ষ থেকে ফোনে ধরা হলে, খানিক চুপ থেকে অভিনেতা বললেন, ‘কোনও দিন তাঁকে 'স্যর' বলে ডাকিনি। নিজেই বারণ করতেন। দাদা বলতাম। উৎপলদা। সেই ডাকেও তাঁর ভীষণ অসুবিধে ছিল। একদিন ডেকে বললেন, “বাঙালিদের এই জ্বালা, সব কিছু ছোট করে দেবে, অমুকদা, তমুকদা! পুরোটা বলতে কী অসুবিধে?” প্রথম দিকে উৎপলদাদা বলতাম, কিন্তু বেশি দিন সেটা চলেনি। তাই ঘুরেফিরে সেই উৎপলদা। পরে অবশ্য সে ডাকে তিনি নিজেই অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলেন।’
অভিনেতা উৎপল দত্তকে সিনেমায় দেখা এক রকম। আর থিয়েটারের উৎপল দত্ত যেখানে তিনি একা সব দিক সামলাচ্ছেন তা নিশ্য়চই একেবারে অন্য রকম? ‘ও রকম স্টলওয়ার্টের সঙ্গে অভিনয় করার স্বপ্ন দেখাই যায়, কিন্তু সেই স্বপ্ন সত্যি হওয়ার অন্তিম মূহূর্তে যে কী পরিমাণ ভয় কাজ করে, তা শুধু অন্তর্যামী জানেন।’
স্মৃতি থেকে তেমনই এক ঘটনার কথা উঠে এল শঙ্কর চক্রবর্তীর কথায়, ‘তখন আইপিটিএ (ইন্ডিয়ান পিপলস্ থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশন) খড়দা শাখায় অভিনয় করছি। তৎকালীন মন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তীর আমার অভিনয় দেখে ভাল লাগে। তিনি তখন শোভাদিকে (শোভা সেন, উৎপল দত্তর স্ত্রী) আমার কথা বলেন। তখন ‘মহাবিদ্রোহ' নাটকের শো চলছিল রবীন্দ্রসদনে, আমি গেলাম। ঢুকলেন উৎপল দত্ত। শোভাদি আলাপ করিয়ে বললেন, “এই ছেলেটাকে সুভাষ পাঠিয়েছে।” শুনে উনি বললেন, “বাহ! ভাল, ভাল।” আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম চুপ করে। গলা শুকিয়ে একেবারে কাঠ! একটাও কথা বলতে পারিনি। এটা ছিল উৎপলদাকে প্রথম সামনাসামনি দেখা।’
ব্যাকস্টেজের কাজকর্ম থেকে শুরু। কসটিউম প্রপস দেখাশোনা, স্ক্রিপ্টের কাজ। এ সব করতে করতে ঠিক কবে যে ১৪০/২৪ নেতাজি সুভাষ বোস রোড কলকাতা-৪০, পাকাপাকি জায়গা হয়ে গেল শঙ্কর চক্রবর্তীর জীবনে তা এখন আর মনে পড়ে না।
‘উৎপলদার (Utpal Dutt) বাড়িটাই ছিল রিহার্সাল রুম। তখন রিহার্সাল চলছে ‘বণিকের মানদণ্ড’র। উৎপলদা, হঠাৎ আমাকে দেখিয়ে বলে উঠলেন, ‘এই চরিত্রটা ওই নতুন ছেলেটি... কী যেন নাম? শঙ্কর, ও করবে।’ শুরু হল পিএলটিতে শঙ্কর চক্রবর্তীর যাত্রা। তখন অভিনেতা ‘কল্লোল', ‘নীল সাদা লাল’, ‘অগ্নিশয্যা' নাটক করছেন আর রোজ ‘উৎপলদা’কে দেখে অবাক হয়েছেন। ‘একটা মানুষ, যাঁর এত ব্যাপ্তি ! সাহিত্য থেকে সংগীত, মঞ্চসজ্জা থেকে সংলাপ, সঙ্গে ও রকম জাঁদরেল অভিনয়।’
শঙ্কর চক্রবর্তী বললেন, ‘ভীষণ বড় মাপের মানুষ ছিলেন। শুধু অভিনয় দিয়ে উৎপল দত্তকে চেনা অসম্ভব। একটা মানুষ ‘আজকের শাহজাহান', 'কল্লোল'-এর মতো নাটক লিখেছেন। প্রবন্ধ লিখেছেন। অভিনয় করেছেন। পরিচালনা করেছেন। মঞ্চটা নিজের হাতে এঁকেছেন। তারপর মনু দত্ত- সুরেশ দত্তরা সেই মতো মঞ্চ তৈরি করেছেন। নাটকের মিউজিক কী হবে, সেটাতেও উনি। ওয়ার্ল্ড মিউজিক নিয়ে পড়াশোনা করতেন নিয়মিত। ওরকম 'লার্জার দ্যান লাইফ' মানুষকে সামনে থেকে দেখা আমার অভিনয় জীবনের পরম প্রাপ্তি।’