দ্য ওয়াল ব্যুরো: রিল লাইফের ভিলেন থেকে রিয়েল লাইফের হিরো!
সম্প্রতি দক্ষিণী অভিনেতা প্রকাশ রাজের সম্পর্কে এই মন্তব্য করেছিলেন এক শিল্পপতি। কিন্তু প্রকাশ একা নন। লকডাউনের সংকটে সেই তালিকায় আরও এক নক্ষত্রকে দেখছে দেশ। তিনি সোনু সুদ!
মনে করুন তো সিনগুলো! দাবাংয়ের ছেদি সিং কিংবা সিম্বার দূর্বা রানাডে। পর্দায় যিনি জনজীবনের ত্রাস, বাস্তবের রাজপথে তিনি ভরসা, ত্রাতা।
রাস্তা দিয়ে পিলপিল করে হেঁটে যাচ্ছে লোক। কাঁধে ব্যাগ, কোলে বাচ্চা। তাঁরা হাঁটছেন। গত ১০ মে মহারাষ্ট্রের ঠাণে বাসস্ট্যান্ডে থমকে দাঁড়িয়েছিলেন সোনু। হেঁটে যাওয়া প্রায় সাড়ে তিনশো শ্রমিকের উদ্দেশে সুঠাম চেহারার অভিনেতার জিজ্ঞাসা ছিল, যাবেন কোথায়? এ ভাবে হেঁটে কদ্দূর ?
জুতোর সোল খুইয়ে ফেলা, গোড়ালি ফেটে রক্ত বেরোতে থাকা এক শ্রমিকের জবাব ছিল কর্ণাটক। মুহূর্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সোনু। তারপর রূপকথা!
https://twitter.com/rohitkhilnani/status/1259803028535693315?s=08
যোগাযোগ করেন মহারাষ্ট্র সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতরের সঙ্গে। তারপর কর্ণাটক সরকারের সঙ্গে ইমেল চালাচালি। দু'ঘণ্টার মধ্যে কর্ণাটক এবং মহারাষ্ট্র সরকার সবুজ সংকেত দেয় সোনুকে। তারপরই শুরু হয় যুদ্ধকালীন তৎপরতা। ওই রাতটা থানেতে কয়েকটি অস্থায়ী তাঁবু টাঙিয়ে রাখার বন্দোবস্ত করা হয় ৩৫০ জন কর্ণাটকের শ্রমিককে। পরের দিন সকালে ১০টি বাস চলে আসে সেখানে। পৌঁছে যান সোনু। সঙ্গে খাবার এবং জল।
বাসের ব্যবস্থা কে করল? মহারাষ্ট্র সরকার? না। তাহলে কর্ণাটক সরকার? নাহ তাও নয়। তবে? 'সেই ছেদি সিং।' একদম ব্যক্তিগত উদ্যোগে। তারপর একটার পর একটা দিন গেছে আর মারাঠা মুলুকের এ প্রান্ত সে প্রান্ত থেকে আবদার এসেছে সোনুর কাছে। বাড়ি ফিরিয়ে দেবেন ভাইয়া? বয়স্ক মহিলা কাতর আর্জি নিয়ে বলেছেন, আমাদের বাড়ি ফিরিয়ে দাও না বেটা! বাজ পাখির কলিজা নিয়ে ২৪ মে পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি মানুষকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন সোনু। তাঁদের কারও বাড়ি পাঞ্জাবের জলন্ধর তো কারও উত্তরপ্রদেশের অমেঠী। কেউ বিহারের পাটনা তো কেউ পুদুচেরি থেকে কাজ করতে গিয়েছিলেন মহারাষ্ট্রে।
https://twitter.com/MOHDAZA94741220/status/1260061018736099329?s=08
অনেকে বলছেন, সোনু যেন নতুন যুগের সুষমা স্বরাজ! কেন? প্রয়াত সুষমা যখন বিদেশমন্ত্রী ছিলেন তখন দেশের বাইরে কেউ সমস্যায় পড়লে একটা টুইট করলেই হল! কাতারে আটকে পড়া হাওড়ার ডোমজুড়ের শ্রমিক হোক বা তেহেরানে আটকে পড়া হায়দরাবাদের ইঞ্জিনিয়র, সুষমার কানে যাওয়া মানেই ব্যবস্থা একটা হবেই। হতও তাই।
আর এই লকডাউনের মধ্যে যেখানে পরিযায়ী শ্রমিকরা সংকটে পড়ছেন, অনেকেই সোনুকে উদ্দেশ করে টুইট করছেন। আর মুশকিল আসান হয়ে হাজির হচ্ছেন ছ'ফুট তিন ইঞ্চির 'বাহুবলী।'
ফারহা খান থেকে বরখা দত্ত কিংবা কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি-- সোনুর এই উদ্যোগে আপ্লুত। তাঁরা যেমন শুভেচ্ছায় ভরিয়ে দিচ্ছেন অভিনেতাকে তেমনই আশীর্বাদ, ভালবাসা উজাড় করে দিচ্ছেন ইতিমধ্যে বাড়ি পৌঁছে যাওয়া বহু মানুষ।
https://twitter.com/SonuSood/status/1264198708851208192?s=08
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে সোনু বলেছেন, পাঞ্জাবের এক বৃদ্ধা বাড়ি পৌঁছে যাওয়ার পর তাঁকে বার্তা পাঠিয়েছেন, লকডাউন মিটলেই তিনি নিজে হাতে পরোঠা বানিয়ে পাঠাবেন।
প্রচারের আলোয় না এসে কাজটা করে যেতে চান সোনু। বলছেন, মানুষের এই দুর্দশার সময়ে চুপ করে ঘরে বসে থাকা যায় না! যেন সেই বাংলা কবিতার অমোঘ উচ্চারণ, "মানুষ বড় কাঁদছে, তুমি মানুষ হয়ে পাশে দাঁড়াও।"
আবার কেউ কেউ বলছেন, এই কাজটাই তো সরকারের করা উচিত ছিল। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে।