দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তী ও আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে পটনায় এফআইআর করেছেন সুশান্তের বাবা কৃষ্ণকুমার সিং। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে মুম্বইয়ে তদন্ত করতে এসেছে পটনার রাজেন্দ্র নগর পুলিশ স্টেশনের কয়েকজন আধিকারিক। কিন্তু মুম্বইয়ে তাঁদের কখনও বিএমডব্লু, কখনও জাগুয়ার, আবার কখনও অটো-রিকশা বা মোটরবাইকে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে। এই ঘটনা অবাক করেছে সবাইকে।
গত তিনদিন ধরে মুম্বইয়ে রয়েছেন ওই আধিকারিকরা। কিন্তু তদন্তে মুম্বই পুলিশের থেকে তাঁরা সেরকম সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলেই অভিযোগ করেছে বিহার পুলিশের ওই দল। তাই তদন্তের জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গাড়ি ব্যবহার করতে হচ্ছে তাঁদের।
বৃহস্পতিবার বান্দ্রার কোটাক মহীন্দ্রা ব্যাঙ্কের শাখায় যান আধিকারিকরা। যাওয়ার সময় তাঁরা একটি সাদা রঙের বিএমডব্লু নিয়ে যান। এই গাড়ির ছবি ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। যদিও ফেরার সময় আবার বিএমডব্লুর পরিবর্তে অটো-রিকশাতে ফিরেছেন তাঁরা।
সেদিন সন্ধেবেলাতেই আবার সুশান্তের প্রাক্তন প্রেমিকা অঙ্কিতা লোখান্ডের বাড়ি যাওয়ার সময় একটি জাগুয়ারে যান ওই তদন্তকারী অফিসাররা। সেই ছবিও ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়।
বুধবার মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চের এক আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন বিহার পুলিশের আধিকারিকরা। সেখানে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়নি। যদিও মিডিয়ার সামনে দিয়ে মোটরবাইকে করে সেখান থেকে চলে যান ওই আধিকারিকরা।
বিহার পুলিশের কাছে সুশান্তের বাবার করা ৬ পাতার এফআইআর-এ তিনি জানিয়েছেন যে সুশান্তের কোটাক মহীন্দ্রা ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থেকে এমন একটি অ্যাকাউন্টে ১৫ কোটি টাকা ট্রান্সফার হয়েছে, যে অ্যাকাউন্ট সুশান্তের নয়। এই ১৫ কোটি টাকা কার অ্যাকাউন্টে গিয়েছে, তার সঙ্গে রিয়া এবং সুশান্তের কী যোগ রয়েছে, এইসব খতিয়ে দেখতে এ বার তদন্তে নেমেছে ইডি।
এখনও আর্থিক তছরুপের কোনও মামলা কারও বিরুদ্ধেই রুজু করা হয়নি। সুশান্তের বাবার করা এফআইআর-এর সব কিছু খুঁটিয়ে দেখে তারপরেই বিবেচনা করা হবে। বিহার পুলিশের কাছে সুশান্তের বাবার করা এফআইআর-এর প্রতিলিপি চেয়ে পাঠিয়েছে ইডি। পাশাপাশি রিয়ার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং আর্থিক লেনদেন বিশদে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ইডির তদন্তকারী আধিকারিকরা।
সুশান্তের দুটি স্টার্ট আপ কোম্পানির একটিতে শীর্ষ পদে ছিলেন রিয়া এবং অন্যটিতে ছিলেন অভিনেত্রীর ভাই শৌভিক। দুটি কোম্পানিরই ডিরেক্টর পদে আসীন ছিলেন রিয়া ও তাঁর ভাই। এমনকি জানা গিয়েছে, মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার যে ফ্ল্যাটে এই দুই কোম্পানির অফিসগুলি ছিল সেগুলির মালিক রিয়ার বাবা। সূত্রের খবর, ইডির পাশাপাশি এই দুই কোম্পানির যাবতীয় খুঁটিনাটি তথ্য খতিয়ে দেখছে বিহার পুলিশও।