দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর পরে তাঁর পরিবারের অভিযোগ, সুশান্তের অ্যাকাউন্ট থেকে এমন অ্যাকাউন্টে নাকি টাকা ট্রান্সফার হয়েছে যা সুশান্তের নয়। এই ঘটনায় তাঁর বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তীর দিকে আঙুল তোলে অভিনেতার পরিবার। অথচ মুম্বই পুলিশের তরফে জানিয়ে দেওয়া হল, সুশান্তের অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি রিয়ার অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফারের কোনও প্রমাণ মেলেনি।
কয়েক দিন আগে বিহারের পটনার রাজেন্দ্র নগর পুলিশ স্ট্রেশনে সুশান্তের বাবা কৃষ্ণ কুমার সিং রিয়া ও আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে এফআইআর করেন। সেখানে তিনি বলেন, সুশান্তের অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫ কোটি টাকা অন্য একটি অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়েছে। অথচ সেই অ্যাকাউন্টটি সুশান্তের নয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার মুম্বইয়ের পুলিশ কমিশনার পরম বীর সিং জানিয়েছেন, “সুশান্তের বান্ধবী রিয়ার নামে অভিনেতার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫ কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আছে। কিন্তু সুশান্তের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখা গেছে সেখানে ১৮ কোটি টাকা ছিল। এখনও সাড়ে চার কোটি টাকা রয়েছে অ্যাকাউন্টে। সুশান্তের অ্যাকাউন্ট থেকে রিয়ার অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা ট্রান্সফারের কোনও প্রমাণও নেই।”
মুম্বইয়ের পুলিশ কমিশনার আরও জানিয়েছেন, মৃত্যুর দিনকয়েক আগে নিজের নাম গুগলে খুঁজেছিলেন অভিনেতা। বিশেষত তাঁর ম্যানেজার দিশা স্যালিয়ানের আত্মহত্যার ঘটনার সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে মিডিয়াতে কোনও খবর রটছে কিনা, এই বিষয়ে সার্চ করেছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, যন্ত্রণাহীন মৃত্যুর উপায়, স্কিৎজোফ্রেনিয়া ও বাইপোলার ডিসঅর্ডার নিয়েও গুগলে খোঁজাখুঁজি করেছিলেন সুশান্ত। তাঁর মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ ঘেঁটে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
মুম্বই পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য, অভিনেতার মৃত্যুর পর থেকে তাঁর আত্মীয় ও অনাত্মীয়, ঘনিষ্ঠ কর্মচারী, বান্ধবী ও তাঁর পরিবারের লোকজন সহ মোট ৫৬ জনের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। প্রত্যেকের জবানবন্দি নিয়েই নাকি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে সুশান্ত বাইপোলার ডিসঅর্ডারে ভুগছিলেন। তার জন্য চিকিৎসা চলছিল। তিনি নিয়মিত ওষুধও খেতেন। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে যন্ত্রণাহীন মৃত্যুর উপায়, বাইপোলার ডিসঅর্ডার নিয়ে গুগলে কেন সার্চ করছিলেন সুশান্ত, সেটাই ভাবাচ্ছে। কমিশনার পরমবীর বলেছেন, ঠিক কী পরিস্থিতিতে অভিনেতার মৃত্যু হয়েছে, এই মৃত্যুর সঙ্গে কোন কোন ঘটনা জড়িয়ে রয়েছে সেটাই এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য।
সুশান্তের মৃত্যুর তদন্ত নিয়ে চরম টানাপড়েন চলছে বিহার ও মুম্বই পুলিশের মধ্যে। বিহার পুলিশ দাবি করেছে, তদন্তে সঠিকভাবে সহযোগিতা করছে না মুম্বই পুলিশ। বিহারের ডিজিপি গুপ্তেশ্বর পাণ্ডে দাবি করেছেন, তদন্তের জন্য বিহার পুলিশের আইপিএস বিনয় তিওয়ারি মুম্বই গেলে তাঁকে একরকম জোর করেই কোয়ারেন্টাইনে ঢুকিয়ে দেন বৃহন্মুম্বই পুরসভার আধিকারিকরা। তদন্তে বাধা দিতেই এই কাজ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এর জবাবে মুম্বই পুলিশের তরফে বলা হয়েছে, তারা সব রকমভাবে সাহায্য করছে। কিন্তু বিহার পুলিশই কোনও নিয়ম মানছে না।