
শেষ আপডেট: 21 December 2018 07:16
২০০৫ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে অ্যাসিড অ্যাটাকের শিকার হন লক্ষ্মী। বয়সে প্রায় দ্বিগুণ, গুড্ডা নামের এক ব্যক্তি কুপ্রস্তাবে সাড়া না পেয়ে, ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য লক্ষ্মীর মুখে অ্যাসিড ছুড়েছিলেন। কেবল মুখ নয়, বিকৃত হয়ে গিয়েছিল লক্ষ্মীর দেহের আরও অনেক অংশ। অল্প সময়ের মধ্যেই তার কিশোরা শরীরে চলেছিল অসংখ্য কাটা-ছেঁড়া। হয়েছিল বহু জটিল অস্ত্রোপচার।
[caption id="attachment_63567" align="aligncenter" width="700"]
লক্ষী যেমন ছিলেন, যেমন আছেন।[/caption]
প্রথমটায় মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন লক্ষ্মী। আয়নায় নিজেকে দেখতেও ভয় পেতেন তিনি। তবে নিজের চেষ্টায় ঘুরে দাঁড়ান তিনি। আইনের সাহায্যে শাস্তি দেন অপরাধীদের। খোলা বাজারে অ্যাসিড বিক্রি এবং প্রাপ্তবয়স্কদের হাতে যেন কোনও ভাবেই অ্যাসিড না পৌঁছোয় সেই ক্ষেত্রেও বিপুল পরিবর্তন এনেছে লক্ষ্মীর এই ঘটনা। ভারতে 'স্টপ অ্যাসিড অ্যাটাক' ক্যাম্পেনের প্রধান মুখও এই লক্ষ্মীই। লড়াই করে জিতে নিয়েছেন সব প্রতিকূলতা। জিতেছেন সামাজিক ট্যাবুগুলোও। বিয়ে করেছেন ভালবেসে, জন্ম দিয়েছেন সন্তানের। হার না-মানার এক জ্বলন্ত উদাহরণ আজ তিনি। অনেক মানুষের আদর্শ।
[caption id="attachment_63557" align="aligncenter" width="970"]
লক্ষ্মীর সঙ্গে দেখা করেন মেঘনা।[/caption]
এ বার এই সাহসিনীর চরিত্রেই অভিনয় করবেন দীপিকা পাড়ুকোন!
তবে লক্ষ্মী কিন্তু মোটেই একা নন। সারা দেশে অসংখ্য অ্যাসিড অ্যাটাক সারভাইভার বেঁচে আছেন বহু যন্ত্রণা নিয়ে। আইনি লড়াইয়ের জটিলতায় পথ হারিয়েছেন কেউ, কেউ আবার চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সংস্থানই করে উঠতে পারেননি। সমাজের চোখ থেকে বাঁচতে অন্ধকারে তলিয়ে গিয়েছেন কেউ কেউ, কেউ কেউ শেষ করে দিয়েছেন জীবনও। তার মধ্যেই বারবার ছিটকে এসেছে ঘুরে দাঁড়ানোর রূপকথারা। তাঁদেরই এক জন মনীষা পৈলান।
এ রাজ্যের জয়নগরের বাসিন্দা মনীষা বছর দুয়েক আগে অ্যাসিডে ঝলসে যান তাঁর প্রতিবেশী এক যুবকের হাতে। শত লড়াই শেষে মনীষার মনের জোরের কাছে হার মেনেছে বাধারা। তিনি গলা উঁচু করে বলেছেন, 'আমি মুখ ঢাকব না।' তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, অ্যাসিড শুধু চামড়া পোড়াতে পারে, স্বপ্ন নয়। দীপিকার নতুন ছবি প্রসঙ্গে মনীষা বলছেন, "লক্ষ্মীর গল্প সিনেমার মধ্যে দিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছবে, এর চেয়ে ভাল কিছু হয় না।" এই সমস্যা নিয়ে যে এত বড় কাজ হচ্ছে, এত মানুষ জানছেন, পাশে দাঁড়াচ্ছেন, তা নিয়ে রীতিমতো আশাবাদী মনীষা।
তবে সেই সঙ্গেই তাঁর আশঙ্কা অন্য জায়গায়। বলছেন, "এত আলো, এত প্রচারে যেন চোখ ধাঁধিয়ে না যায় আমাদের। আমাদের লড়াইয়ের মূল দু'টো অস্ত্র আইন এবং চিকিৎসা-- এ দু'টো যেন ভোঁতা হয়ে না যায়। আসল জয় সেই লড়াইয়ের পরেই আসবে, আসল উদযাপন সেই জয়ের পরেই আসবে। তার আগে নয়।" মনীষার আক্ষেপ, অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে লক্ষ্মী, বা তিনি নিজে, বা তাঁর মতো আরও অনেকের উপরেই বারবার আলো পড়েছে। আলোচনার কেন্দ্রে এসেছেন তাঁরা। কিন্তু পরিচিতি যত সহজ হয়েছে, তত সহজ হয়নি আইনি পদ্ধতি বা চিকিৎসার পথ। সেইখানটায় একাই লড়তে হয় সব কিছুর পরে। "আমায় আজ অনেকে চেনে। কিন্তু তবু আমার শত লড়াইয়ের পরেও, আমার পাড়ায় আজও আমার চোখের সামনে ঘুরে বেড়ায় অভিযুক্ত সেলিম। তাই একটা সময় পরে মনে হয়, আসল লড়াইটায় ফাঁক থেকে যাচ্ছে।"-- বলেন মনীষা।
[caption id="attachment_63565" align="aligncenter" width="910"]
মনীষা যেমন ছিলেন, যেমন আছেন।[/caption]
বলিউডের বহু পরিচালক ইতিমধ্যেই বানিয়ে ফেলেছেন বায়োপিক। তবে বেশির ভাগ বায়োপিকের কেন্দ্রে রয়েছেন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব বা অভিনেতা। এ বার মেঘনা গুলজার সেই ট্রেন্ড ভাঙতে চলেছেন। অ্যাসিড অ্যাটাক সারভাইভার লক্ষ্মীর জীবনকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হবে সিনেমার গল্প।
দীপিকা জানিয়েছেন, মেঘনার থেকে ছবির গল্প শোনার পরেই রাজি হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। লক্ষ্মীর জীবনের গল্প ভীষণ ভাবে প্রভাবিত করেছিল তাঁকে। দিন কয়েক আগে বিয়ে সেরেই শ্যুটিং ফ্লোরে ফিরেছিলেন দীপিকা পাড়ুকোন। শুরু হয়েছিল ম্যাগাজিনের ফটোশ্যুট দিয়ে। বিদেশি ম্যাগাজিনের কভার গার্ল হিসেবে দীপিকার বোল্ড ফটোশ্যুট উষ্ণতা ছড়িয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। জানা গিয়েছে, এ বার মেঘনার এই নতুন ছবির শ্যুটিংও খুব তাড়াতাড়ি শুরু করতে চলেছেন নায়িকা।