
শ্যাম বেনেগাল ও নাসিরুদ্দিন শাহ।
শেষ আপডেট: 24 December 2024 11:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় সিনেমায় অন্যধারার ছবি করার পথ দেখিয়েছিলেন যাঁরা, শ্যাম বেনেগাল (Shyam Benegal) তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তাঁর অসাধারণ সৃষ্টি সারা বিশ্বে তাঁকে সুপরিচিত ও স্বতন্ত্র করে তুলেছিল। দীর্ঘদিন ধরে কিডনির অসুখে ভোগার পরে, ২৩ ডিসেম্বর, ৯০ বছর বয়সে মুম্বইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। কিংবদন্তি এই পরিচালকের মৃত্যুতে শোকাহত অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ (Naseeruddin Shah), তাঁর কেরিয়ারের শুরু হয়েছিল বেনেগালের সঙ্গেই।
একটি সাক্ষাৎকারে নাসিরুদ্দিন শাহ বলেন, ‘শ্যাম বেনেগাল আমার জীবনে কী ছিলেন, তা কয়েকটি কথায় বলা সম্ভব নয়। যখন কেউ আমার প্রতি বিশ্বাস রাখেনি, তখন তিনি রেখেছিলেন। তিনি এবং তাঁর স্ত্রী নীরা বেনেগাল আমার কঠিন সময়ে অসম্ভব সাহায্য করেছেন। আমি আজ যা হয়েছি, তাঁর জন্যই।’
নাসিরুদ্দিন শাহ তাঁর অভিনয় কেরিয়ারের প্রথম কাজ করেছিলেন শ্যাম বেনেগালের ‘নিশান্ত’-এ। ১৯৭৫ সালের সে ছবিটি গ্রামীণ ভারতের সামন্ততান্ত্রিক সময়ের ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নারীদের শোষণ নিয়ে কথা বলেছিল। সে সময়ের পটভূমিতে তো বটেই, সর্বকালীন ভাবেই এ ছবি গভীর প্রাসঙ্গিক।
সে ছবিতে গিরীশ করনাড, অমরীশ পুরি, শাবানা আজমি, এবং স্মিতা পাটিলের মতো শিল্পীদের পাশাপাশি, নবাগত হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন নাসিরুদ্দিন শাহ।
নাসির বলেন, ‘শ্যাম বেনেগাল আমাকে আমার জীবনের প্রথম চলচ্চিত্র দিয়েছিলেন, প্রথম বেতনও তিনিই দিয়েছিলেন। তিনি নিজের কাজেও অত্যন্ত উদার মানসিকতা পোষণ করতেন, বহু নতুন পরিচালকদের জন্যও দরজা খুলে দিয়েছিলেন, যাঁরা নিজের মতো করে ছবি বানাতে চেয়েছিলেন।’
১৯৭৬ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবে পাম ডি'অর-এর জন্য মনোনীত হয়েছিল ‘নিশান্ত’। ১৯৭৭ সালে সেরা হিন্দি ছবির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পায় নিশান্ত। লন্ডন, মেলবোর্ন এবং শিকাগো চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয়, যেখানে এটি গোল্ডেন প্ল্যাক সম্মান পায়।
নাসিরুদ্দিন শাহ আরও উল্লেখ করেন, ‘বেনেগাল সবসময় ছোট বাজেটের চলচ্চিত্র নির্মাণ করতেন এবং কোনও বড় তারকার ওপর নির্ভর না করেই দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করার অদ্ভুত ক্ষমতা ছিল তাঁর।’
পরবর্তীকালে বেনেগালের সঙ্গে নাসিরুদ্দিন শাহ আরও বেশ কিছু বিখ্যাত চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন, যেমন মন্থন, জুনুন, মান্ডি, ত্রিকাল—ইত্যাদি।
শ্যাম বেনেগালের মৃত্যু ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে একটি অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর মতো অন্যরকম দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন পরিচালক যুগে যুগে বিরল। তাঁর তৈরি করা ছবিগুলি শুধু সমাজের কথা বলে না, মানুষের অনুভূতিকেও স্পর্শ করে। তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে।