
শেষইচ্ছে কি পূর্ণ হয়েছিল নার্গিসের?
শেষ আপডেট: 22 April 2025 18:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সঞ্জয় দত্তের জীবন বিতর্কিত। জেল-নারীসঙ্গ... অভিযোগের পাহাড়ে তাঁর অবস্থান। তবে যে নারীর কাছে বারেবারে নিজেকে সমর্পণ করেছেন সঞ্জয় তিনি তাঁর মা, নার্গিস-- পাঁচের দশকে প্রথম সারিতে যার নাম উচ্চারিত হত প্রতিনিয়ত। দীর্ঘদিন ক্যানসারে ভুগে ১৯৮১ সালে মারা যান নার্গিস।
ইচ্ছে ছিল, ছেলেকে অভিনয় করতে দেখবেন, সেই ইচ্ছে পূরণ হয়নি তাঁর। সঞ্জয় দত্তের প্রথম ছবি 'রকি' মুক্তির মাত্র কিছু দিন আগে মারা যান তিনি। আরও এক ইচ্ছে ছিল নার্গিসের। ইসলাম ধর্মাবলম্বী নার্গিস চেয়েছিলেন মৃত্যুর পর তাঁর দেহ যেন কবরস্থ করা হয়। ওদিকে নার্গিস বিয়ে করেন সুনীল দত্তকে, ধর্মে যিনি হিন্দু! মৃত্যুর পর নার্গিসের শেষ ইচ্ছে কি পূর্ণ হয়েছিল? সত্যি নিয়ে অকপট নার্গিস কন্যা প্রিয়া দত্ত।
শেষের সময় বড়ই ভয়ঙ্কর, বুঝেছিলেন নার্গিস। এক সপ্তাহে সাতটি অস্ত্রোপচারের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল তাঁকে। বিদেশে হচ্ছিল চিকিৎসা। চিকিৎসকেরা জানিয়ে দিয়েছিলেন নার্গিসের শরীর ওই সাতটি অস্ত্রোপচারের ধকল নিতে নাও পারেন। তবে নার্গিস পেরেছিলেন। অভিনেত্রী বোধহয় বুঝতে পেরেছিলেন সময় বেশি নেই। ঘরে ফেরার টান টের পারচ্ছিলেন প্রতি মুহূর্তে। চাইলেন ভারতে ফিরতে।
ফেরেনও, ধুমধাম করে বিবাহবার্ষিকী পালিত হয় সে বার। নার্গিস জানতেন, এটিই তাঁর শেষ উদযাপন। ভারতে ফিরলেন, স্বাস্থ্যও ফিরল খানিক। ছেলে সঞ্জয়ের রকির প্রিমিয়ারের মাত্র চার দিন আগেই আচমকাই চলে গেলেন নার্গিস। সালটা ১৯৮১।

প্রিয়ার কথায়, "সঞ্জয় ভেঙে পড়েছিল। মা কিছুই দেখে গেলেন না! রকির প্রিমিয়ারে বাবার পাশে চেয়ারটা ফাঁকা ছিল। মা থাকলে ওখানে বসেই তো ছবিটা দেখছেন। মায়ের শেষকৃত্য ছিল দেখবার মতো। সারা ভারত থেকে পুরোহিতদের ডেকেছিলেন বাবা। অনেকেই বাবাকে বলেছিলেন হিন্দুমতে সৎকার করতে, তিনি হিন্দু বাড়ির বউ। কিন্তু বাবা গুরুত্ব দিয়েছিলেন মায়ের ইচ্ছেকেই। পুরোহিতের উপস্থিতিতেই মাকে কবরস্থ করা হয়।" প্রিয়া জানান, কবরের মাটি নিয়ে এরপর তাঁরা হরিদ্বারও যান। সেখানে মাটি-বিসর্জনও হয়েছিল।
নার্গিসের মৃত্যুর পর ভেঙে পড়েছিলেন সুনীল দত্ত। মাঝরাতে ঘুম থেকে উঠে ঠায় বসে থাকতেন স্ত্রীর কবরের পাশে। চোখ দিয়ে গড়াত জল। অন্যদিকে মায়ের অভাব ভুলতে সঞ্জয়ও জড়িয়ে পড়েন নানাবিধ নেশায়। আচমকাই যেন টালমাটাল হয়ে পড়ে দত্ত পরিবারের অন্দরমহল।
