
শেষ আপডেট: 18 October 2023 13:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্তমান যুগে মাল্টিপ্লেক্সের রমরমা! এসি প্রেক্ষাগৃহে, চিজ পপকর্ন খেতে খেতে, ঠান্ডা পানীয়তে চুমুক দিয়ে সোফায় হেলান দিয়ে সিনেমা দেখতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে বেশিরভাগ দর্শক। কলকাতাও সেদিক থেকে পিছিয়ে নেই। কিন্তু তারপরেও এই শহর এবং শহরতলির একাংশ দর্শক আজও বাংলা সিনেমা দেখার জন্য নন্দনের উপরেই নির্ভলশীল। কারণ, মাল্টিপ্লেক্সে একটা সিনেমার টিকিটের দাম কম করে হলেও ২৫০-৩০০ টাকা। সঙ্গে কোল্ডড্রিঙ্ক-পপকর্ন নিয়ে আরও ৫০০ টাকা। একজনের জন্যই যদি এত টাকা খরচ হয়, সেখানে পরিবারের দু-তিনজন সদস্য মিলে যাওয়া হলে কমপক্ষে ১৫০০ টাকা খরচ তো হবেই।
উল্টোদিকে নন্দনে এখনও সর্বনিম্ন টিকিট মূল্য ৩০ টাকা। এরপর ৫০ এবং ব্যালকনিতে ৭০ টাকা। আবার নন্দন ২-এ সমস্ত টিকিটের দামই ৩০ টাকা। তাই বাংলা সিনেমা দেখার জন্য আজও মধ্যবিত্ত বাঙালি দর্শকদের একাংশ নন্দনের উপরেই ভরসা রাখে। এই কারণে ছবি নির্মাতারাও চান তাঁদের সিনেমা নন্দনে একটা শো পাক। আর প্রযোজক-পরিচালকদের সেই ইচ্ছাপূরণ করে এবার পুজোতেও খোলা থাকছে শহরের এই বিখ্যাত সরকারি সিনেমা হল। এইমুহূর্তে নন্দনে মেরামতির কাজ চলছে। তা ঠিক সময়মতো শেষ হয়ে গেলেই আগামী শুক্রবার, ষষ্ঠীর দিন থেকে সাধারণ দর্শকদের জন্য খুলে যেতে পারে প্রেক্ষাগৃহ।
তবে নন্দন চালু হলেও সেখানে পুজোর সময় মুক্তি পেতে চলা প্রত্যেকটি ছবিই প্রদর্শিত হবে কিনা, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ‘দশম অবতার’, ‘বাঘা যতীন’, ‘রক্তবীজ’, ‘জঙ্গলে মিতিন মাসি’—এই চারটি ছবিই এবছর ভাল ব্যবসা করবে বলে আশাবাদী। তবে নন্দনে সিনেমাগুলি মুক্তি পেলে, তা যে আরও বেশি দর্শকের কাছে পৌঁছে যাবে, সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। উল্লেখ্য, যেহেতু সরকারি সিনেমাহল, তাই কয়েক বছর আগে অবধিও পুজোর সময় বন্ধ করে দেওয়া হত নন্দন। তখন মেরামতির কাজ চলত। পরে চলচ্চিত্র উৎসবের সময় সর্বসাধারণের জন্য আবার খুলে দেওয়া হত। তবে এখন সেই নিয়ম বদলেছে।