আয়োজকরা জানিয়েছেন, সকল সঙ্গীতপ্রেমী মানুষকে এই অনুষ্ঠানে উন্মুক্ত আমন্ত্রণ।

শেষ আপডেট: 26 November 2025 20:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক সুরভরা সন্ধ্যার সাক্ষী হতে চলেছে কলকাতা। আগামী শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫—শহরের ঐতিহ্যবাহী শিশির মঞ্চ রাঙিয়ে উঠবে বাংলা গানের আবেগে, সুরে, স্মৃতিতে। ‘ডক্টর শ্রীলেখা রাহা ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে এবং ‘সুমনার গান পরিবার’-এর নিবেদনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশেষ সঙ্গীতানুষ্ঠান ‘সঙ্গীতাঞ্জলি’। পুরো অনুষ্ঠানটির পরিবেশনায় থাকবেন সমকালীন বাংলা সঙ্গীত জগতের অন্যতম প্রতিভাবান শিল্পী ও কম্পোজার সুমনা চ্যাটার্জী। সন্ধ্যার সঞ্চালনার দায়িত্বে থাকছেন শাল্মলী রায়।
আসানসোলের শিল্পতরঙ্গময় পরিবেশ থেকে উঠে আসা ছোট্ট সুমনার জীবনে গান যেন জন্মের আগেই ঢুকে পড়েছিল। মাত্র আড়াই বছর বয়সে ঠাকুমার কাঠের পিঁড়িকে হারমোনিয়ামের মতো সাজিয়ে বসে গান গাওয়া—সেই খেলাই হয়ে ওঠে তাঁর সঙ্গীতের প্রথম সাধনা। বাবা সন্তোষ ভট্টাচার্য আর মা মিত্রা দেবীর অনুপ্রেরণায় সুমনার সুরযাত্রা শুরু, আর সেই পথই তাঁকে আজকের পরিচিত সুমনা চ্যাটার্জীতে পরিণত করেছে।
আসানসোলের শৈশবেই পাপড়ি মুখোপাধ্যায় ও লিপি মুখোপাধ্যায়ের কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের পাঠ, আর তবলায় তাল ধরিয়েছেন সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়। পরে সুযোগ আসে পণ্ডিত দীননাথ মিশ্রের কাছে রাগসঙ্গীত শেখার, যা তাঁর গায়কীকে নতুন মর্যাদা দেয়।
শিল্পীর ভেতরের শিল্প সৃষ্টিতে অনেক সময় কঠোরতাই পথ দেখায়। সুমনার বেড়ে ওঠাও তার ব্যতিক্রম নয়। ছোটবেলায় হিন্দি গান গাওয়ার অনুমতি ছিল না, যা তাঁকে শৈলী ও রাগভিত্তিক গানের মাটিতে দৃঢ়ভাবে দাঁড় করায়। ভজন, নজরুলগীতি, রাগপ্রধান বাংলা গান—এসবে গড়ে ওঠে তাঁর গায়কীশক্তির মূল ভিত।
এরপর তিনি পাড়ি দেন সঙ্গীতের প্রাণকেন্দ্র কলকাতায়। এখানে অনসূয়া মুখোপাধ্যায় ও বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ তপন সিনহার কাছে তাঁর গানের রং আরও গাঢ় হয়। তপন সিনহার তত্ত্বাবধানে তিনি তৈরি করেন নিজের আলাদা ধারা, বাংলা আধুনিক গানের সুরে এক নতুন মেলবন্ধন।
২০০৫ সালে কলকাতা থেকে এক জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো’র প্রথম স্থান জয় করে সুমনা পৌঁছে যান মুম্বইয়ের সঙ্গীতজগতে। মাতৃত্বকালীন বিরতি তাঁকে সাময়িকভাবে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল মূলস্রোত থেকে। কিন্তু সুমনা নামের শিল্পীকে থামায়নি কোনও বিরতি। অদম্য সাধনা তাঁকে আবার ফিরিয়ে আনে মঞ্চে, আলোয়, কাজের ছন্দে।
২০১৯ সালে তাঁর মৌলিক বাংলা গান ইউটিউবে প্রকাশ পেয়েই শ্রোতাদের দৃষ্টি কাড়ে। এর আগেই, ২০১৭ সালে ‘আশা অডিও’ থেকে মুক্তি পাওয়া রবীন্দ্রসঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’–তে তাঁর গায়কী প্রশংসিত হয় শ্রোতামহলে। শুভমিতা, নচিকেতা থেকে রাঘব চট্টোপাধ্যায়—বাংলার বহু খ্যাতিমান শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি।
শিশির মঞ্চের আলো জ্বলবে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায়। মঞ্চে উঠবেন সুমনা চ্যাটার্জী—নিজের দীর্ঘ সঙ্গীতযাত্রার ফুল তুলে ধরে। তাঁর পরিবেশনায় থাকছে বাংলা আধুনিক গান, লোকগীতি, নস্টালজিক সুর এবং তাঁর নিজস্ব কম্পোজিশন, যার অনেকগুলির সুরকার ও গীতিকার তিনি নিজেই।
এক মঞ্চে স্রষ্টা, সুরকার, গীতিকার ও শিল্পী—এই চার রূপে সুমনাকে দেখতে পাওয়াই ‘সঙ্গীতাঞ্জলি’-র বড় আকর্ষণ। আয়োজকরা জানিয়েছেন, সকল সঙ্গীতপ্রেমী মানুষকে এই অনুষ্ঠানে উন্মুক্ত আমন্ত্রণ।