দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডোরাকাটা বাঘ উড়ে উড়ে চলেছে লাফ দিয়ে। তার পিঠে বসে ছোট্ট প্রিয়া, মুখে তার মাস্ক। বাঘের নাম সাহস, আর সে বাঘ কথাও বলতে পারে! তার গলায় স্বর দিয়েছেন বিদ্যা বালান! সব মিলিয়ে সে এক ভারী মজার ব্যাপার। এই মজাই এবার সত্যি হতে চলেছে বছরের শেষে।
কোভিড আবহেই শেষ হতে চলল ২০২০ সাল। কেমন কেটেছে এবছর, এই প্রশ্নের উত্তর মোটামুটি সবার জানা। কিন্তু এত কিছুর মধ্যেই শিশুদের কেমন কেটেছে এটা ভেবে দেখেছেন একবারও? আচ্ছা, ভাবুন তো যদি আপনাকে ছোটবেলায় একটা গোটা বছর গৃহবন্দি থাকতে বলা হত? কেমন হত! বন্ধু বান্ধব ছাড়া, খেলাধুলা ছাড়া একা একা এতগুলা দিন কাটানো মুখের কথা না।
এবার আসছে এক দুর্দান্ত সুখবর। ভারতীয় সুপারহিরো 'প্রিয়া' আবার ফিরে এসেছে। খুব শীঘ্রই মুক্তি পেতে চলেছে 'প্রিয়া'স মাস্ক' অ্যানিমেটেড ফিল্ম। পরবর্তীতে কমিক্স বইয়ের আকারেও প্রকাশ পাবে এটি। সিনেমায় ডাবিং আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন বিদ্যা বালান, ম্রুনাল ঠাকুর, সাইরাহ কবির আরও অনেকে।
ছোট দৈর্ঘ্যের এই সিনেমায় দেশ-বিদেশের মেয়ে আর্টিস্টদের অবদানটাই বেশি। যেমন 'প্রিয়া'র চরিত্রে ডাবিং করেছেন অভিনেত্রী ম্রুনাল ঠাকুর। 'সাহস'-এর ডাবিং করেছেন অভিনেত্রী বিদ্যা বালান। আসলে সেখানেই রয়েছে চমক। সাহস হল প্রিয়ার পোষ্য, একটি বাঘ। বাঘের কণ্ঠ বিদ্যা কীভাবে একইরকমভাবে তুলে ধরলেন, না শুনলে বিশ্বাস করতে পারবেন না। তবে এমন ধরনের শিক্ষনীয় বিষয়ের সিনেমা যে শুধু ছোটরাই উপভোগ করবে তা হয়, বড়রাও তাদের সঙ্গে দেখে আনন্দ পাবেন।
'প্রিয়া'স মাস্ক' গল্পটা ছোট ছোট শিশুদের কোভিড ১৯ সম্পর্কে এবং এই বিষয়ে সঠিক ধারণা, তথ্য দিয়ে তাদের বুঝতে সাহায্য করবে। একইসঙ্গে মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীরা তাঁদের স্বার্থ বলিদান দিয়ে কীভাবে এই সময় প্রত্যেকের পাশে দাঁড়িয়েছেন সে সম্পর্কেও একটা ধারণা প্রত্যেকের আসবে। দেখা যাবে প্রিয়া, মিনার সঙ্গে বন্ধুত্ব করে তার মানসিক জোর বাড়াতে সাহায্য করছে। এই সময় মিনা যেন ভেঙে না পড়ে, তার চেষ্টাও সে কথা। পরে পাকিস্তানি সুপারহিরো বর্খার সঙ্গে সে হাত মেলায়, যাতে এই ভাইরাস এক দেশ থেকে অন্য দেশে ছড়িয়ে না পড়ে।
এই প্রিয়াই ভারতের প্রথম মহিলা সুপারহিরো। হিরোইন না বলে 'সুপারহিরো'ই বলা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রথা ভাঙার চেষ্টা করেছেন লেখক ও পরিচালক। তাঁরা জানিয়েছেন, খুব কঠিন একটা বিষয়কে সহজ ভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। আশা করা যাচ্ছে কারও বুঝতে অসুবিধা হবে না। শিশুরা কমিক্স পড়তে ভালোইবাসে। ফলে প্রিয়া পড়লে এই সুপারহিরো সম্পর্কে যেমন জানতে পারবে, তেমনই করোনা ভাইরাস সম্পর্কে অনেক ধারণা তাদের হবে, মাস্ক পরার প্রয়োজনীয়তাও তারা বুঝতে পারবে।
ছোট থেকেই সাধারণত পুরাণের গল্প পরেই শিশুরা বড় হয়। তখন তাদের মনের মধ্যে এই বিষয়টা ঢুকে যায়, যে সুপারহিরো মানেই কোনও পুরুষমানুষ বা ছেলে। সেই তথাকথিত ভাবধারাকে ভাঙতেই 'প্রিয়া শক্তি' নিয়ে আসা হয়েছিল। আর কমিক্সের মাধ্যমে কঠিন বিষয়গুলো সহজভাবে বুঝতে পারা যায়। ফলে শিশুরা যেমন শিখবে, তেমনই উপভোগ করবে জানিয়েছেন লেখক।
পরিচালক জানিয়েছেন লকডাউনের শুরু থেকেই শিশুদের জন্য কিছু একটা করার করা তাঁর মাথায় ঘুরছিল। কারণ ওরা ভূগোল, ইতিহাস, অঙ্ক, বিজ্ঞান সবটা নিয়ে পড়াশোনা করে। কিন্তু কীভাবে নিজেকে ভালবাসতে হয়, কীভাবে নিজের যত্ন নিতে হয় সেটা ওরা শেখেনি। কেউ তাদের শেখায়ও না। ফলে এমন একটা বছর, যখন আতঙ্কে, ভয়ে, ঘরে বসেই কেটে গেল তখন শিশুদের কথা মাথায় রেখেই এই অ্যানিমেটেড সিনেমাটি বানানোর কথা তিনি ভেবেছিলেন।