
শেষ আপডেট: 15 January 2023 08:20
চৈতালি দত্ত
ধারাবাহিকে অভিনয়ের আগে তিনি মূলত নাটক, থিয়েটার করতেন। 'এই পথ যদি শেষ না হয়'-এর হাত ধরে তাঁর ধারাবাহিকের জগতে প্রথমবার পা রাখা। সেই ধারাবাহিকটি (serial) বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। 'সাত্যকি'র চরিত্রে অভিনয় করে এক লহমায় দর্শকের মন জয় করে নিয়েছিলেন ঋত্বিক মুখোপাধ্যায়।
কিছুদিন আগেই 'এই পথ যদি শেষ না হয়' ধারাবাহিকের পথ চলা শেষ হয়। এতে ঋত্বিকের ভক্তরা খুবই দুঃখ পেয়েছিলেন। তবে তাঁর অনুরাগীদের জন্য আরও একবার সুখবর এল। ২ জানুয়ারি থেকে জি বাংলায় (Zee Bangla) সোম থেকে শুক্র রাত ১০.৩০ টার সময় শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক 'মন দিতে চাই' (Mon Dite Chai)। আর সেখানেই সোমরাজ বন্দোপাধ্যায়ের ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা যাচ্ছে ঋত্বিককে।

তাঁর বিপরীতে রয়েছেন 'আয় তবে সহচরী'-খ্যাত অরুণিমা। জুটি হিসেবে ঋত্বিক-অরুণিমা এই প্রথমবার ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন। নতুন এই ধারাবাহিকটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন 'নেতাজী', 'সাত ভাই চম্পা', 'ভক্তের ভগবান শ্রীকৃষ্ণ' ইত্যাদি বহু জনপ্রিয় ধারাবাহিক-খ্যাত পরিচালক অমিত দাস।

'মন দিতে চাই' নামটি শুনেই মনে হচ্ছে মূলত এটি রোমান্টিক ধারাবাহিক। এটি অন্যান্য ধারাবাহিক থেকে কতটা আলাদা? সে প্রশ্ন করতেই পরিচালক অমিত বললেন, 'দেখুন ধারাবাহিকের গল্পের ক্ষেত্রে অনেক সময় আমরা বলি যে দর্শকদের নতুন স্বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমি কিন্তু সে রকম বিশ্বাস করি না। সব ধারাবাহিকে রোমান্স, বিচ্ছেদ দুইই থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। এখানে মুখ্য দু'টি চরিত্র। ধারাবাহিকের নায়িকা তিতির। মেদিনীপুরে ঘাটালের মেয়ে। সে নামী ফ্যাশন ডিজাইনার হওয়ার স্বপ্ন দেখে। তারা চার বোন। মা সেলাইয়ের কাজ করেন। বাবা বাসের কন্ডাক্টর। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে একটু দুর্বল হলেও পরিবারের সকলে একে অপরের সুখ দুঃখের সাথী। তাদের নিজেদের মধ্যে ভীষণ মিলমিশ রয়েছে। নানা বাধা-বিপত্তির মধ্যেও বাড়িতে সেলাইয়ের মেশিনে নানা রকম অর্ডার নিয়ে কাজ করে তিতির। সব সময় নতুন কিছু করার চেষ্টা করে সে।

অন্যদিকে আবার সোমরাজের পরিবার শিল্পপতি। তাদের নিজস্ব টেক্সটাইলের ব্যবসা রয়েছে। বাড়িতে তাঁর বাবা-মা, ঠাকুমা-ঠাকুরদা, পিসি-পিসেমশাই, কাকা-কাকিমা সব মিলিয়ে খুবই উচ্চবিত্ত একটি যৌথ পরিবার।

সোমরাজ আপাতভাবে ভাল মনের মানুষ হলেও ওর মধ্যে একটা সমস্যা রয়েছে। ছেলেবেলায় ওর মা ওকে ছেড়ে চলে যান। ফলে মাকে নিয়ে নানা রকমের কুকথা তার কানে আসে। যদিও তার মধ্যে কোনটাই সত্যি নয়। বাবা আবার বিয়ে করেন। বাড়িতে সৎমা রয়েছেন। ফলে সোমরাজ খুবই মহিলা বিদ্বেষী একজন পুরুষ। তার পরিবারের অন্যান্য মহিলাদের বিশ্বাস করলেও বাইরের কোনও মহিলাকে তিনি বিশ্বাস করেন না। সেই কারণেই তার অফিসে কোনও মহিলা কর্মী নেই।
সোমরাজ মনে করে, পুরুষদের সাফল্যের পেছনে মহিলারা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। শুধু তাই নয়, সোমরাজের বোনের সঙ্গে তিতিরের মাসতুতো ভাইয়ের বিয়ে ঠিক হয়। তিতিরের মাসি উচ্চবিত্ত। সেই সুবাদে সোমরাজ এবং তিতিরের সঙ্গে দেখা হয়। কিন্তু বিয়েবাড়িতে সোমরাজের সৎ ভাই আবার তিতিরের বড়দিকে দেখে মনে মনে পছন্দ করে ফেলে। এরপর সোমরাজ এক দুর্ঘটনার কবলে পড়লে সেখান থেকে তিতির সোমরাজকে রক্ষা করে। জ্ঞান ফিরলে সোমরাজ কিছুতেই বিশ্বাস করে না যে কোনও মেয়ে তাকে বাঁচাতে পারে। ফলে তিতিরের সঙ্গে তার টক্কর শুরু হয়।'

এভাবেই গল্প এখন এগিয়ে চলেছে। এরপর কী হবে? আদৌ কি তিতিরের সঙ্গে সোমরাজের কোনও সম্পর্ক তৈরি হবে? পারবে কি তিতির সোমরাজের মনের থেকে মহিলাদের প্রতি যে বিতৃষ্ণা রয়েছে তা দূর করতে? একই পরিবারে কি দুই বোনের বিয়ে হবে? সোমরাজের মা কি আবারও ফিরে আসবেন? তাঁর অন্তর্ধানের আসল রহস্য কি জানা যাবে?

এরকম নানা প্রশ্ন নিয়ে শুরু হয়েছে 'মন দিতে চাই' ধারাবাহিক। আগামী দিনে গল্প কোন দিকে মোড় নেয় সেই সম্পর্কে কিছু বলতে এই মুহূর্তে নারাজ পরিচালক। অভিনয় রয়েছেন ঋত্বিক মুখোপাধ্যায় (সোমরাজ ), অরুণিমা হালদার (তিতির)। অন্যান্য শিল্পীরা হলেন শ্রীতমা মিত্র, সোমাশ্রী, রব দে, সোহান বন্দ্যোপাধ্যায়, মালিনী বন্দ্যোপাধ্যায়, নন্দিনী চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ।
জোকার নারায়ণী স্টুডিওতে এখন জোরকদমে এই ধারাবাহিকের শ্যুটিং চলছে।
পাঠানের ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো-এ চমক দেবেন শাহরুখ-ভক্তরা! দেশের ২০০ শহরে অভিনব পরিকল্পনা