
গ্রাফিক্স: শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 11 April 2025 13:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৯৮৫ সাল। এক পারিবারিক হিন্দি ছবির জন্য প্রেক্ষাগৃহের বাইরে দেখা গেল দর্শকদের দীর্ঘ লাইন। কেউ তখনও জানতেন না, এই ছবি একসময় ইতিহাস হয়ে উঠবে। অথচ এমন নয় যে, এ ছবি সহজেই রূপালি পর্দায় এসেছিল। প্রায় দুই বছর ধরে মুক্তি আটকে ছিল। ডিস্ট্রিবিউটররা মুখ ফিরিয়েছিলেন। আর সেই প্রত্যাখ্যাত সিনেমাটিই হয়ে উঠেছিল যুগান্তকারী—নাম 'পেয়ার ঝুকতা নহি'।
১৯৮৩ সালে নির্মাণ সম্পূর্ণ হলেও, মুক্তি পায় দু’বছর পরে। কেন? কারণ ছবির নায়ক মিঠুন চক্রবর্তী—যিনি তখন অ্যাকশন আর ডান্সের জন্য পরিচিত—এবার সম্পূর্ণ নতুন অবতারে। একেবারে রোমান্টিক নায়কের চরিত্রে। সেই সময় ডিস্ট্রিবিউটররা ভাবতেই পারেননি, মিঠুনকে এভাবে দর্শক গ্রহণ করবেন। ফলে ছবিটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।
এই অবস্থায় প্রযোজক কেসি বোকাডিয়া নিয়ে ফেলেন বড় এক সিদ্ধান্ত। কারও সাহায্য না পেয়ে, তিনি নিজেই ছবিটি মুক্তি দেন ১৯৮৫ সালে। আর মুক্তির দিনই সব বদলে যায়। মুক্তির সঙ্গে সঙ্গেই ছবিটির জন্য দর্শকদের হুড়োহুড়ি শুরু হয়। মিঠুন চক্রবর্তী ও পদ্মিনী কোলাপুরীর রসায়ন মুগ্ধ করে সকলকে। পরিচালক বিজয় সাদানা ও প্রযোজক কেসি বোকাডিয়া রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে ওঠেন। মিউজিকও মন কাড়ে। লক্ষ্মীকান্ত-পেয়ারেলালের সুরে প্রতিটি গান হয়ে ওঠে শ্রোতাদের হৃদয়ের কথা।
এটি ছিল মিঠুন-পদ্মিনী জুটির প্রথম ছবি। তবে এই ছবিটি পাকিস্তানি ছবি 'আয়না'-র রিমেক। 'পেয়ার ঝুকতা নহি' প্রায় ''৭৫ সপ্তাহ'' ধরে সিনেমা হলে চলেছিল—এক অনন্য রেকর্ড। ছবিটির জন্য প্রথম পছন্দ ছিলেন না মিঠুন, বরং প্রস্তাব গিয়েছিল ঋষি কাপুরের কাছে। তিনি না করে দিলে, চরিত্রটি যায় মিঠুনের হাতে।
আজ এত বছর পরে ফিরে তাকালে বোঝা যায়, 'পেয়ার ঝুকতা নহি' কেবল একটি রোম্যান্টিক ছবি ছিল না। এটি ছিল সাহসিকতার এক গল্প—যেখানে একজন অভিনেতা নিজের চেনা ইমেজ ভেঙে নতুন কিছু করতে চেয়েছিলেন, একজন প্রযোজক সব হেরে গিয়ে নিজেই নিজের ছবি রিলিজ করলেন, এবং এক প্রেমের গল্প সব বাধা অতিক্রম করে জয়ী হল। সেই ছবিই হয়ে উঠল বলিউডের এক ‘আনসাং হিরো’।