
শেষ আপডেট: 1 August 2023 15:49
বলিউডের 'ট্র্যাজেডি কুইন' নামে চিরখ্যাত মীনাকুমারী (Meenakumari)। মাত্র আটত্রিশে অকালে ঝরে গিয়েছিলেন এই নক্ষত্র। পর্দাতেও তিনি আবেগমিশ্রিত চরিত্র সবথেকে বেশি ফুটিয়ে তুলতে পারতেন। বেশিরভাগই দুঃখের চরিত্র প্রাণ পেত মীনার চোখেমুখে। যখন মধুবালা, নার্গিসরা গ্ল্যামারের ঝড় তুলছেন পর্দায়, তখন গভীর মনস্তাত্ত্বিক অভিনয়ে মন জয় করে নেন মীনাকুমারী। দর্শকদের চোখের জল বাঁধ মানত না পর্দায় মীনার অভিনয় দেখে।

বাঙালিদের মধ্যেও বলিউডের সবথেকে প্রিয় নায়িকা ছিলেন মীনা। বাঙালি নায়িকার চরিত্রে সবার আগে আসত মীনাকুমারীর নাম। বারবার বাংলা ছবির যখন রিমেক হয়েছে বলিউডে তখন সেসব ছবির নায়িকা হয়েছেন মীনাকুমারী।
এমনই তিনটি ছবির কথা বলব আজ। যে তিনটি ছবিতে বাংলার তিন দেবী অভিনয় করেছেন। কিন্তু এই তিনটি ছবি যখন রিমেক হয়েছে তখন একজন নায়িকা কমন। তিনি মীনাকুমারী।

মীনাকুমারীর আর এক নাম ছোটি বহু। ছোট বৌঠান। বিমল মিত্রের 'সাহেব বিবি গোলাম' অবলম্বনে হিন্দি ছবি 'সাহেব বিবি গুলাম'-এ ছোট বৌয়ের রোল করেন মীনাকুমারী। তবে এর আগেই বাংলায় 'সাহেব বিবি গোলাম' কালজয়ী ছবি। পটেশ্বরী ছোট বউয়ের চরিত্র করেছিলেন বাংলার স্বপ্নসুন্দরী অভিনেত্রী সুমিত্রা দেবী।

সুমিত্রা দেবী কিন্তু বেশ কয়েকটি হিন্দি ছবিতেও কাজ করেছেন। ফিল্মফেয়ার প্রচ্ছদে তাঁর লক্ষ্মীশ্রী মুখের ছবি শোভা পেত। লাক্স সাবানের বিজ্ঞাপনেও তিনি ছিলেন জনপ্রিয় মুখ। ১৯৫৬ সালে বাংলা ছবি 'সাহেব বিবি গোলাম' পরিচালনা করেন কার্তিক চ্যাটার্জী। অভিনয়ে উত্তমকুমার, সুমিত্রা দেবী, নীতীশ মুখোপাধ্যায়, ছবি বিশ্বাস, অনুভা গুপ্ত। ১৯৬২-তে 'সাহেব বিবি গুলাম' হিন্দিতে করলেন গুরু দত্ত। ছোটি বহুর চরিত্রে মীনাকুমারী পেলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতি। অভিনয়ে গুরু দত্ত, মীনাকুমারী, রেহমান, ওয়াহিদা রেহমান। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুরে গীতা দত্তের মদিরাভরা কণ্ঠ মীনাকুমারীর লিপে দুলিয়ে দিল সারা ভারতের হৃদয়। 'না যাও সাঁইয়া, চুরাকে বাইয়া'। গুরু দত্তর এই ছবি বিদেশের মঞ্চেও প্রদর্শিত হয়েছিল।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'মেজদিদি'কে আমরা খুঁজে পাই আমাদের সবার পরিবারের মেজো দিদির মধ্যেই। মা ও দিদি একাধারে যেন মেজদিদি। আর মেজদিদি বললেই আমাদের মনে পড়ে কানন দেবীর মুখ। ১৯৫০ সালে কানন দেবীর শ্রীমতী পিকচার্সের নিবেদনে এল 'মেজদিদি'। নামভূমিকায় কাননবালা। এই ছবি এতটাই সুপারহিট হয় সেযুগে, যা শ্রীমতী পিকচার্সকে দাঁড় করিয়ে দেয় সফল ভাবে। এমন একটি চরিত্র, যা সবার মনে বসেছিল। কাননের বিকল্প হয় না মেজো দিদির চরিত্রে। কিন্তু হিন্দিতেও মেজদিদি হল। কাননের জুতোতে পা গলালেন মীনাকুমারী। মীনা ছাড়া কেই বা পারতেন অমন মাতৃত্ববোধ পর্দায় ফোটাতে!

১৯৬৭-তে বাঙালি পরিচালক হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় এল 'মাঝলি দিদি'। চরিত্র চিত্রনে মীনাকুমারী, ধর্মেন্দ্র, ললিতা পাওয়ার, সারিকা, শচীন। তবে এই ছবি সেভাবে সফলতা পায়নি মীনার অন্য ছবির মতো। কাননের বিকল্প রূপেও মীনাকে মেনে নেয়নি বাঙালিরা। বক্সঅফিসে সাড়া জাগায়নি মীনার এই ছবি। তবে মীনার অভিনয় প্রশংসিত হয়।

তপন সিনহা ছায়া দেবীকে নিয়ে করলেন 'আপনজন'। ছায়া দেবীর শ্রেষ্ঠ অভিনয় এই 'আপনজন'। ছায়া দেবী চরিত্রাভিনেত্রী মায়ের রোলেই চিরবন্দিত হলেও, তিনি 'আপনজন' ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র। তাঁকে ঘিরেই কয়েকজন যুবকের গল্প। ১৯৬৮-র সাড়া জাগানো ছবি হিসেবে আপনজন সবার প্রিয়। আনন্দময়ীর এক বৃদ্ধার চরিত্রেও যে হাউসফুল বোর্ড ঝোলে, দেখালেন তপন সিনহা।

১৯৭১ সালে আপনজনের রিমেক 'মেরে আপনে' করলেন গুলজার। আনন্দময়ী ছায়া দেবীর চরিত্রে আবারও মীনাকুমারী। এছাড়াও অভিনয় করেন বিনোদ খান্না, শত্রুঘ্ন সিনহা, ড্যানি, দেবেন বর্মা, আসরানি। তপন সিনহা গুলজারকে বলেছিলেন ছায়া দেবীকেই হিন্দি রিমেকে নিতে। ছায়া দেবীর হিন্দি উচ্চারণ ছিল দারুণ। কিন্তু গুলজার হিন্দি ছবির বক্সঅফিস ভেবেই স্টারভ্যালু মাথায় রেখে মীনাকুমারীকে নায়িকা করেন।

মুমতাজ আজও যেন বার্বি ডল! ক্যানসার জয় করে, ৭৬ বছর বয়সেও এভারগ্রিন ফ্যাশন আইকন তিনিই