দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা ও পরিচালক মনোজ কুমার প্রয়াত। শুক্রবার ভোর ৪:০৩ মিনিটে মুম্বইয়ের কোকিলাবেন ধীরুভাই অম্বানি হাসপাতালে ৮৭ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন, যার মধ্যে লিভার সিরোসিস ও হৃদরোগজনিত অসুস্থতাও ছিল।
মনোজ কুমার ভারতীয় সিনেমার অন্যতম দেশপ্রেমিক অভিনেতা ও পরিচালক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর অসামান্য কাজের জন্য তিনি ‘ভারত কুমার’ উপাধি অর্জন করেন। তার মৃত্যুতে বলিউড জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চলচ্চিত্র নির্মাতা অশোক পণ্ডিত বলেন, 'ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে এক বিশাল ক্ষতি হয়ে গেল।'
১৯৩৭ সালে ব্রিটিশ ভারতের অ্যাবটাবাদে (বর্তমানে পাকিস্তান) জন্ম নেওয়া মনোজ কুমারের আসল নাম হরিকৃষ্ণ গোস্বামী। ১৯৫৭ সালে ‘ফ্যাশন’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন তিনি। তবে তার কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় ব্রেক আসে ‘কাচ কি গুড়িয়া’ (১৯৬১) সিনেমায়। মনোজ কুমার সবচেয়ে বেশি পরিচিত তাঁর দেশাত্মবোধক সিনেমাগুলোর জন্য। তাঁর উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে, ‘শহিদ’ (১৯৬৫), ‘উপকার’ (১৯৬৭), ‘পুরব অউর পশ্চিম’ (১৯৭০), ‘রোটি, কাপড়া অউর মাকান’ (১৯৭৪), ‘ক্রান্তি’ (১৯৮১)।
শুধু অভিনয় নয়, পরিচালক হিসেবেও তিনি দারুণ সফল ছিলেন। ‘হরিয়ালি অউর রাস্তা’, ‘ও কৌন থি’, ‘হিমালয় কি গদমে’, ‘দো বদন’, ‘পাথর কে সনম’, ‘নীল কমল’, ‘ক্রান্তি’—এই সব ছবির সাফল্য তাকে বলিউডের অন্যতম সফল পরিচালক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
অভিনেতার প্রয়াণে শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন ছবি।
মনোজ কুমারের সিনেমা শুধু দর্শকের মন জয় করেনি, তাঁকে বহু সম্মানও এনে দিয়েছে। ১৯৯২ সালে পদ্মশ্রী ও ২০১৫ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার পান তিনি।
বলিউডের এই মহান শিল্পীর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বহু তারকা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। মনোজ কুমার চিরকাল রয়ে যাবেন তাঁর সিনেমার মধ্য দিয়ে, তার দেশপ্রেমিক ভাবনার মধ্যে। ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।