বলিউড পরিচালক মহেশ ভাট সম্প্রতি চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি করলেন, বলেছেন টাকার লোভে এক ব্যক্তিকে মানুষের মাংস খাইয়েছিলেন। নেটিজেনরা তীব্র প্রতিক্রিয়ায়।

মহেশ ভাট
শেষ আপডেট: 4 October 2025 13:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউডের প্রবীণ পরিচালক মহেশ ভাট সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি করে বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছেন। মেয়ে পূজা ভাটের পডকাস্টে তিনি জানান, কেরিয়ারে উন্নতির লক্ষ্যে এক তান্ত্রিকের নির্দেশে তিনি এক ব্যক্তিকে নিজের হাতে নরমাংস ভক্ষণ করিয়েছিলেন। মহেশ ভাটের এই স্বীকারোক্তির জেরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র ট্রোল এবং সমালোচনা।
মহেশ ভাট জানান, যখন তাঁর বয়স কুড়ির কোঠায় এবং তিনি মারাত্মক আর্থিক অনটনে জর্জরিত, তখন এক বন্ধুর (অরুণ দেশাই) সঙ্গে তিনি কেরিয়ারে উন্নতি আসবে, এই চিন্তা করে কাজটা করেন।
ঘটনাটি ব্যাখ্যা করে মহেশ ভাট বলেন, বিনিয়োগকারীর সঙ্গে দেখা করতে বিহার যাওয়ার আগে তাঁরা বারাণসীতে এক অঘোরী বাবার (তান্ত্রিক) সঙ্গে দেখা করেন। সেই তান্ত্রিকের হাতে ছিল মদের বোতল, এবং তিনি নাচছিলেন। তান্ত্রিক তাঁদের তন্ত্র-মন্ত্রে বিশ্বাস না করার বিষয়টি অনুভব করেন এবং পরদিন আবার আসতে বলেন।
মহেশ ভাট বলেন, "পরদিন তিনি একটি পুরিয়া বের করে আমাদের হাতে দিয়ে বলেছিলেন, এতে ঘাট (শশ্মান) থেকে আনা মানুষের মাংস রয়েছে। এটা নিয়ে যাও এবং তোমাদের বিনিয়োগকারীকে খাইয়ে দাও, তিনি অবশ্যই টাকা দেবেন।"
মহেশ ভাট ও তাঁর বন্ধু তখন এটিকে 'গুপ্তধনের চাবি' মনে করেছিলেন। তাঁরা গয়ায় পৌঁছে জানতে পারেন, ওই বিনিয়োগকারী ছিলেন গয়ার এক প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাড়িওয়ালা, যিনি মশারি টাঙিয়ে থাকতেন এবং তাঁর সঙ্গে থাকত বন্দুকধারী নিরাপত্তারক্ষী।
কীভাবে এই নরমাংস খাওয়ানো যায়, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়ে শেষমেশ তাঁরা ওই পুরিয়া থেকে নরমাংস বের করে পানের সঙ্গে মিশিয়ে বিনিয়োগকারীকে খাইয়ে দেন।
মহেশ ভাট বলেন, "আস্তে আস্তে পান মুখের কাছে নিয়ে চিবিয়ে খেতে শুরু করেন তিনি। আমরা ভেবেছিলাম তীরটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে।" মহেশ ভাট ভেবেছিলেন এবার তাঁর অর্থের সমস্যা মিটবে, কিন্তু এক মাস পর তিনি হতাশ হন, কারণ ওই ব্যক্তি কোনও টাকাই দেননি।
মহেশ ভাটের এই বক্তব্য শুনে তাজ্জব হয়েছেন নেটিজেনরা। রেডিটে তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। অনেকেই তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একজন ইউজার লিখেছেন, "এ কেমন মানুষ। শীঘ্রই ওঁর থেরাপি বা মানসিক চিকিৎসা প্রয়োজন।" অন্য একজন লিখেছেন, "আলিয়া যে নাম অর্জন করেছে, তা ডুবিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন বাবা।"