
শেষ আপডেট: 14 February 2023 14:47
তাঁর জন্ম ভালবাসার দিনে। কিন্তু তাঁর হৃদয় ভেঙেছিল বারবার, ভালবাসার হাহাকার নিয়ে জীবন কেটেছিল নায়িকার। তিনি বম্বের স্বপ্নসুন্দরী মধুবালা (Madhubala)। তাঁর জন্মলগ্নে জ্যোতিষী হাত দেখে বলেছিলেন, 'এ মেয়ে অনেক খ্যাতি লাভ করবে, কিন্তু সুখী হতে পারবে না (Lovestory)।'
মধুবালা গানেগানেই বলেছেন, 'পেয়ার কিয়া তো ডরনা কেয়া।' ভালবাসার আকুতিতে বারবার ডুবেছেন মধুবালা। কিন্তু কোনও পুরুষকেই প্রকৃত জীবনসঙ্গী করে পাননি। কথায় আছে, অতি বড় সুন্দরী না পায় বর, অতি বড় ঘরণী না পায় ঘর। সেই কথা অক্ষরে অক্ষরে মিলে যায় মধুবালার জীবন পাতার সঙ্গে।
১৯৩৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি এক নিম্নবিত্ত গরিব পরিবারে জন্ম নিল এক কোল আলো করা শিশুকন্যা। জন্ম থেকেই দারিদ্র্য তাঁর পিছু ছাড়েনি। মেয়ের নাম রাখা হল মুমতাজ জাহান দেহলভী। বাবা আতাউল্লা খান ছিলেন পেশোয়ারের ইয়ুসুফজায়ি পাঠান। আতাউল্লা পেশোয়ারের একটি তামাক কোম্পানিতে চাকরি খুইয়ে সংসার নিয়ে চলে আসেন বম্বেতে। অভাব আর অসহায়তার মাঝে মুমতাজের পাঁচ ভাইবোন মারা যায়। বম্বে ডকে বিস্ফোরণের ঘটনায় হারিয়ে যায় তাঁদের ঝুপড়ি ঘরও। সংসারের হাল ধরতে শেষ অবধি ছোট্ট মুমতাজকেই কিশোরী বয়সে ফিল্ম লাইনে নেমে পড়তে হয়। রূপের জোরে সুযোগ মিলতে খুব বেশি দেরি হয়নি।
১৯৪২ সালে বেবি মমতাজ নাম নিয়ে 'বসন্ত' ছবি দিয়ে অভিনয় জীবনের শুরু মাত্র ন'বছর বয়সে। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে মুখ তখন এই নাবালিকা। খেলাধুলো আর পড়াশোনা করার বয়সে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে এসে পড়ল। শিশুশিল্পী থেকে নায়িকা হতেও খুব বেশি সময় লাগেনি। সুন্দর মুখশ্রী মুমতাজের নাম দেবিকা রানি রাখলেন মধুবালা। 'মহল' ছবিতে অভিনয় করে রাতারাতি তারকা হয়ে যান মধুবালা। রবীন্দ্রনাথের 'ক্ষুধিত পাষাণ' অবলম্বনে ছবিটি তৈরি হয়েছিল, যাতে ছিল লতা মঙ্গেশকরের প্রথম আসমুদ্রহিমাচল হিট গান। ১৯৪৯ সালে বম্বে টকিজ হাউসে মুক্তি পাওয়া প্রায় ভৌতিক ছবি ‘মহল’-এ দেখা গেল, অশোককুমারের সঙ্গে কিশোরী সুন্দরী মধুবালাকে। সে ছায়ায়, কুয়াশায়, প্রাসাদবাড়ির নানা কক্ষে ঘুরতে ঘুরতে, নায়ককে উদভ্রান্ত করে মিলিয়ে যেতে যেতে গাইতে লাগল 'আয়েগা, আয়েগা, আয়েগা আনেওয়ালা।’
পাঁচের দশকে নার্গিস, মীনাকুমারীদের সরিয়ে বক্সঅফিসের প্রথমা হিট নায়িকা হয়ে উঠলেন মধুবালা। মধুবালার স্টারডমের সঙ্গে তুলনা করা হত হলিউড নায়িকা মারলিন মনরো-কে।

মধুবালার জন্ম প্রেমের দিনে। আর প্রেমের দিন মানেই গোলাপ। মধুবালা তাঁর ভালবাসার মানুষদের চিরকাল গোলাপ পাঠাতেন। তাঁর প্রথম প্রেমিক পাড়াতুতো দাদা লতিফ। পেশোয়ার ছেড়ে যখন মধুর পরিবার প্রথম কিছু বছর দিল্লিতে ছিল, তখন প্রেমিক লতিফের সঙ্গে আলাপ। যখন বম্বের উদ্দেশে মধুবালা দিল্লি ছাড়েন, তখন লতিফের জন্য একটি গোলাপ রেখে এসেছিলেন। সেই লাল গোলাপ ছিল তাঁদের ভালবাসার স্মৃতিচিহ্ন।
আজীবন মধুবালার সেই গোলাপ লতিফ সযত্নে রেখে দিয়েছিলেন নিজের কাছে। নিজের ভালবাসাকে রুপোলি পর্দার রানি হতে দেখে চমকিতও হতেন। পরে মধুবালার অকাল মৃত্যুর সময়ে অভিনেত্রীর কবরে সেই লাল গোলাপই রেখে এসেছিলেন লতিফ। পরিণতি পায়নি প্রেম, তবু নীরব ভালবাসার কথা গাঁথা হয়েছিল মধুবালার মৃত্যুতে। যতদিন লতিফ বেঁচেছিলেন, প্রতি বছর ২৩ ফেব্রুয়ারি মধুবালার মৃত্যুর দিন মধুর কবরে গোলাপ রেখে আসতেন।
পরবর্তী প্রেমিক কেদার শর্মা। কেদার শর্মা মধুকে ফিল্মে প্রথম বড় ব্রেক দিয়েছিলেন। দু'জনের বয়সের তফাত থাকা সত্ত্বেও প্রথম দেখাতেই নবীনা মধুবালার প্রেমে পড়েন প্রবীণ কেদার। কিন্তু মধুবালার দিক থেকে প্রেম ছিল না। একতরফা ভালবাসায় কেদার মধুবালার সঙ্গ পেলেও সেই প্রেম পরিণতি পায়নি। পিতৃসম কেদার শর্মাকে মনের মানুষ বানাতে পারেননি মধুবালা।

পরবর্তী পুরুষ যিনি এই তালিকায় রয়েছেন তিনি কামাল আমরোহী। কামাল আমরোহীর একক পরিচালক হিসেবে নিজের ডেবিউ ছবি ছিল ‘মহল’। অশোক কুমার নায়িকার ভূমিকায় চান সুরাইয়াকে। কিন্তু সুরাইয়ার চেয়ে নবাগতা মধুবালা নতুন মুখ, তাই তাঁকে নিলে ছবি বেশি হিট হবে বলে মধুবালার ছবি অশোক কুমারের দিকে এগিয়ে দেন কামাল আমরোহী। ষোলো বছরের মধুবালাই ফাইনাল হন। মধুবালা নায়িকা রূপে সুযোগ পান কামাল আমরোহীর জন্যই।
প্রথমদিকে এই প্রেম মধুবালার দিক থেকে একতরফা ছিল, কিন্তু বিবাহিত কামাল আমরোহীও সাড়া দিয়েছিলেন মধুর প্রেমে। মধুবালা ও কামাল মেকআপ রুমে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাটাতেন এবং মধুর জীবনে এই প্রেম পর্ব ছিল সেরা সময়। কামাল আমরোহী মধুবালার চেয়ে বয়সে অনেকটাই বড় হওয়ায় কখনও শাসনে, কখনও আবার স্নেহে রাখতেন মধুকে। মধুও আমরোহীকে ভালবেসে সুখী ছিলেন, কারণ মধুবালার বাবা আতাউল্লাহ খান এই সম্পর্ককে সম্মতি দিয়েছিলেন। আশীর্বাদ করেছিলেন। অথচ এই মধুবালার বাবাই মেয়ের সঙ্গে দিলীপ কুমারের প্রেমে পরবর্তীকালে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।

আমরোহীর প্রথমা স্ত্রী অবশ্য কোনও সেলেব্রিটি ছিলেন না। এর পরে মধুবালার সঙ্গে প্রেম চলাকালীনই মীনাকুমারীকে তাঁর পরের ছবিতে কাস্ট করেন আমরোহী। তখনই প্রেমেও পড়েন মীনার। লুকিয়ে বিয়ে হয়ে যায় আমরোহী-মীনার। সে সময়ে আমরোহীর আগের পক্ষের তিন-তিনটি সন্তান ছিল। সব জেনেও মাত্র আঠারো বছর বয়সের মীনা দেহমন সঁপে দিলেন আমরোহীকে।
এদিকে মধুবালাও তখন আকুল আমরোহীর জন্য। তিনি দেখা করতে চাইতেন আমরোহীর সঙ্গে এবং চাইতেন আমরোহীর স্ত্রী হিসেবে বৈধ স্বীকৃতি। শেষমেশ কামাল আমরোহী মধুবালাকে বলে দেন, মীনাকুমারীর সঙ্গেই মধুবালাকে মানিয়ে নিয়ে থাকতে হবে। এ কথা শুনে অবসাদে ডুবে যান মধুবালা। তবে অবসাদ থেকে ঘুরেও দাঁড়ান মধুবালা। তিনি তাঁর উপার্জনের সঞ্চিত ন’লক্ষ টাকা রীতিমতো ‘অফার’ করেন কামাল আমরোহীকে, যাতে তিনি মীনাকুমারীকে ডিভোর্স দিয়ে মধুবালাকেই বিয়ে করে স্ত্রীর সম্মান দেন।

ওদিকে কামাল ও মধুবালার সম্পর্কের কথা মীনাকুমারীও জেনে যান। তিনি ডিভোর্স দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। কারণ মীনা নিজেও কামালকে ডিভোর্স দিয়েই পেয়েছিলেন। মধুবালা চাননি, আমরোহীর রক্ষিতা পরিচয়ে থাকতে। তাই এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসেন। পরদিকে মীনা আর আমরোহীর সংসারও খুব সুখের হয়নি।
এরপর সত্যি যে পুরুষকে ভালবেসেছিলেন মধুবালা তিনি অভিনেতা প্রেমনাথ। যখন মধুবালা স্টার তখন প্রেমনাথ একজন নবাগত। মাত্র ছ'মাস স্থায়ী হয় ওঁদের প্রেম। বাধা হয়ে দাঁড়ায় ধর্ম। প্রেমনাথ মধুবালাকে ধর্মান্তরিত হতে বলেছিলেন কিন্তু মধুবালা রাজি হননি। ভেঙে যায় প্রেম। এখানেই ইতি সম্পর্কের।

দেবিকা রানিই প্রথম নায়ক করেন দিলীপকুমারকে। তখন তাঁর নাম ইউসুফ খান। হিন্দু নাম নিতে হবে, দেবিকা রানির অনুরোধ। তাই পেশোয়ারের ছেলে ইউসুফ খান হলেন ভারতীয় সিনেমার দিলীপ কুমার। প্রথম ছবি ‘জোয়ার ভাঁটা’। পরিচালক ছিলেন বাঙালি, অমিয় চক্রবর্তী। এই ছবিতে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করেন রুমা গুহঠাকুরতা।
মধুবালা আর দিলীপ কুমারের প্রেমের শুরু হয়েছিল ‘তারানা’ ছবির সেটে। এরপর এই জুটির প্রেম গাঢ় হয়, তাঁরা পরপর ছবি করতে থাকেন। কিন্তু দুজনের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ান মধুবালার পিতা আতাউল্লা খান। ‘নয়া দৌড়’ সিনেমার আউটডোর সেট পড়ে এক বিতর্কিত জায়গায়। এর আগে সেখানে অন্য ছবির শ্যুটে অন্য এক নায়িকার পোশাক ছিঁড়ে দিয়েছিল মত্ত জনতা। সেই ভয় এড়াতে, মধুর বাবা চাননি তাঁর মেয়ে সেখানে গিয়ে শ্যুট করুক। কিন্তু ছবির প্রযোজক ও পরিচালক বিআর চোপড়া শ্যুটিং স্পট পরিবর্তন করতে রাজ হননি। তখন মধুর বাবা কোর্টে কেস করেন বিআর চোপড়ার বিরুদ্ধে।

কোর্টে কেস উঠলে ‘নয়া দৌড়’ ছবিতে মধুর বিপরীতে নায়ক দিলীপ কুমার সমর্থন করেছিলেন বিআর চোপড়াকে, মধুর বাবাকে নয়। উল্টে দিলীপ কুমার কোর্টে দাঁড়িয়ে মধুর বাবাকে বলেছিলেন ‘আপনি একজন স্বৈরচারী।’
এই কথা শুনে মধুবালার বাবা তীব্র রেগে গিয়ে মেয়েকে বেরিয়ে আসতে বলেন ওই ছবি থেকে। তাঁর সঙ্গে দিলীপ কুমারের ইগোর লড়াই শুরু হয়। দিলীপ কুমার মধুকে বলেন, বাবাকে ছেড়ে তাঁর কাছে চলে আসতে। মধু বলেন, 'আমাদের বাড়ি এসে বাবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নাও। আমরা আবার এক হই।' দিলীপ নিজের ইগো খুইয়ে তা করেননি। সেই শুরু ভাঙনের। শেষমেষ মুঘল-ই-আজম, স্বপ্নের ছবির কথা, বড় বাজেটের কথা ভেবেই দিলীপ-মধু ছবিতে কাজ করতে রাজি হন। কিন্তু দু'জনের মধ্যে ছিল বিস্তর দূরত্ব। যদিও ছবির রোম্যান্টিক দৃশ্য দেখে বোঝার উপায় নেই সে সব। মুঘল-ই-আজম ছবিতেও মধুর পিতার মতোই ভিলেন হয়ে দাঁড়ান পৃথ্বীরাজ কাপুর। ঠিক যেন বাস্তবের চিত্রনাট্য হয়ে ওঠে ছবিটি। দিলীপকুমার-মধুবালার প্রেম এভাবেই অপূর্ণ রয়ে গেল।

এরপর মধুবালার জীবনে এসেছিলেন প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী জুলফিকর আলি ভুট্টো, যিনি ছিলেন পাকিস্তানের নবম প্রধানমন্ত্রী। সেসময় জুলফিকর ছিলেন বম্বে হাইকোর্টের আইনজীবী। ফিল্ম জগতের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক ছিল।মুঘল-ই-আজম-এর শ্যুটিংয়ের সময় প্রায়ই ছবির সেটে পৌঁছে যেতেন জুলফিকর। শোনা যায়, মধুবালার সঙ্গে তিনি রীতিমতো ফ্লার্ট করতেন।এমনকি অভিনেত্রীর সঙ্গে প্রায়ই লাঞ্চ করতেও যেতেন তিনি। তবে মধুবালা তখনও দিলীপ কুমারের সঙ্গে বিচ্ছেদের বেদনা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি। এই প্রেম চর্চিত হলেও জুলফিকার বিয়ে করেননি মধুবালাকে।

প্রদীপ কুমারও মধুবালার রূপে মুগ্ধ ছিলেন। শাম্মি কাপুর তো মধুবালার সৌন্দর্যে পাগল হয়ে সংলাপ ভুলে গেছিলেন।
দিলীপ কুমারকে সাজা দিতেই কিশোরকুমারকে পছন্দ করেন মধুবালা। ১৯৬০ সালে সমস্ত অনির্ধারিত সম্পর্ককে বিদায় জানিয়ে কিশোরকুমারের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন মধুবালা। কিন্তু তখন লন্ডনে চিকিৎসা করাতে গিয়ে মধুবালার হার্টে ছিদ্র ধরা পড়ে। কিশোর স্পষ্ট জানিয়ে দেন, স্ত্রীর সেবার দায়িত্ব তিনি নিতে পারবেন না। বহু সময় তাঁকে আউটডোরে থাকতে হয়। মধুবালা আকুল মিনতি করেছিলেন জীবনের শেষ পুরুষটিকে ধরে রাখতে, কিন্তু একসঙ্গে থাকা সম্ভব হয়নি। ন'বছর সম্পর্ক থাকলেও সুখের সংসার হয়নি।
'চলতি কা নাম গাড়ি' ছবির সেট থেকে দুজনের আলাপ। শোনা যায় ভাসুর অশোক কুমারকেও একবার গোলাপ পাঠিয়েছিলেন মধুবালা। তখন অবশ্য তিনি কিশোরের স্ত্রী হননি। কিশোর মধুর চিকিৎসার খরচ বহন করলেও তাঁর পাশে কখনও থাকেননি। কিশোর কুমার মধুবালাকে বলেছিলেন, অভিনয় ছেড়ে দিতে। স্টুডিওপাড়ার দমবন্ধ পরিবেশে তাঁর কষ্ট হয়। মধু শোনেননি। মধুর বাপের বাড়ির লোকদেরও ছাড়তে বলেন কিশোর। তাও শোনেননি মধু। রুমা গুহঠাকুরতার পর মধুবালার আঁচলও বাঁধতে পারেনি খামখেয়ালি কিশোরকে। ছ'মাসে একবার হয়তো অসুস্থ মধুকে দেখতে আসতেন কিশোর কুমার। এমনকি মধুবালার মৃত্যুর সময়েও কিশোর কুমার আসেননি।

প্রায় ন'বছর ধরে চিকিৎসা চলেছিল মধুবালার। শেষদিকে যেন মধুবালার শরীর বিছানার সঙ্গে মিশে গেছিল। বেশিরভাগ সময় কফ জমে থাকত তাঁর ফুসফুসে। দুর্বল হৃদয় আর কতদিন টানতে পারে। ভারতীয় সিনেমার ভেনাস মধুবালার হার্ট ফুটো থাকলেও তাঁর হৃদয় ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিয়েছিল একের পর এক পুরুষের প্রত্যাখ্যান। প্রকৃত ভালবাসার মরীচিকার পিছনে ছুটে চলতে চলতে মধুবালার ভালবাসা শেষ হয়েছিল রক্তবমিতে। শেষ সময়ে কোনও ভালবাসার পুরুষ তাঁর পাশে ছিলেন না। একটাই গান বারবার শুনতেন মধু, 'রুলাকে গ্যয়া স্বপ্না মেরা'।

১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৩৬ বছরে চলে যান মধু। কিশোরকুমার না এলেও মধুবালার শেষ বিদায়ে কবরে গোলাপ রেখে গেছিলেন দিলীপ কুমার।