
সেরা ১০ বাংলা ছবি
শেষ আপডেট: 28 December 2024 11:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংস্কৃতিমনস্ক বাঙালি আড্ডায় বাংলা সিনেমা থাকবে না, এমন হয় না। বক্তব্যে উঠে আসে, দারুণ, ভাল, দুর্দান্ত মোটামুটি, দেখার কোনও মানেই হয় না কিংবা পয়সা নষ্ট। তবে বাংলা ছবি নিয়ে যুক্তি-তক্কো কিংবা গল্পে মেতে ওঠার আগে অবশ্যই খোঁজ রাখতে হবে সেরা ১০ বাংলা ছবির যা মুক্তি পেয়েছে চলতি বছরে। ‘দ্য ওয়াল’-এর সেরা ১০ বাংলা ছবি! (Look Back 2024)
নন্দিতা-শিবপ্রসাদের ছবি। লম্বা রেসের ঘোড়া, যা দৌড়চ্ছে আজও। একদিকে ‘পুলিশ’ আবির, অন্যদিকে ‘ডাকাত’ শিবপ্রসাদের জবরদস্ত আমনাসামনা দেখার মতো। তুখড় অ্যাকশন সিকোয়েন্স। চর্চিত গান ‘ডাকাতিয়া বাঁশি’ এবং গানের লিরিক্স ‘বেশি তাকাস না বিয়ে দেবো কেন্দে মরে যাবি!’
সৃজিত-দেব কম্বোয় কুপোকাত দর্শক। টানটান থ্রিলার। সঙ্গে স্বস্তিকার ‘স্বাভাবিক’ অভিনয় এবং রূক্মিণীর একেবারে ‘ভিন্ন’ অভিনয় ভর করে বাংলা ছবির চলতি মুরশুমে ‘টেক্কা’ই। দেব-এর লুক এবং শেষ সিনের ট্যুইস্টের চমক নিয়ে চর্চা হয়েছে সিনেমহলে। হিট ডায়ালগে হালকা ‘সৃজিত’মাফিক গালাগাল আছে! এই যা!
সাদামাটা সাদাকালো ছবি। চন্দন সেন আর আকাশে মেঘের অভিনয় দেখবার মতো। বারবার দেখবার মতো। দৃশ্যকল্প, ক্যামেরাশিল্প, আবহ, আলো কিংবা সম্পাদনা এ সবের ধার ধারেনি পরিচালক অভিনন্দন বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রকৃতি প্রেম ও পরিণতি। শহুরে কংক্রিটের জঙ্গলে একটি মেঘলা প্রেমের গল্প। চন্দন সেন ছাড়াও ছবিতে রয়েছেন ব্রাত্য বসু-দেবেশ রায়চৌধুরীরা।
প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণার ৫০তম ছবি। এতগুলো বছর পরেও ‘কেমিস্ট্রি’ অক্ষত। পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের সাজানো ‘রোমান্টিক থ্রিলার’-এর বুনোট নিপুণতায় সাজানো। অনুপমের সুরের স্বর স্থবির একেবারেই নয়। ‘যোগ্যতা’র সঙ্গেই প্রমাণ দিয়েছে ‘অযোগ্য আমি’। শিলাজিৎ, লিলি চক্রবর্তী, অম্বরীশ ভট্টাচার্য, সুদীপ মুখোপাধ্যায় অনসম্বল কাস্টিংয়ের অভিনয়, স্বাভাবিক ভাবেই চোখ টেনেছে।
ছবিতেই প্রথম পরিচালক হলেন মানসী সিনহা। মুখ্য চরিত্রে অপরাজিতা-শাশ্বত। নির্ভেজাল প্রেম বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাঁধ ভেঙে ঢুকে পড়ে প্রৌঢ়া শ্রীতমা দেবী এবং প্রবীন শর্মা নামে এক প্রৌঢ়র জীবনে। তবে তাতেও ঝঞ্ঝাট আছে। সমাজ। অফুরান ‘হাহাহিহি’ নিয়ে টোটাল ‘মৌজ’ এবং মজে থাকার ছবি। পরিচালকের কথায়, এটা আমাদের ‘সবার’ গল্প!
মৃণাল সেনের বায়োপিক। পরিচালনায় আবার সৃজিত মুখুজ্জে। স্বাধীনতার দিন মুক্তি পায় ছবি। ‘মৃণাল’ হন চঞ্চল চৌধুরী। আর ‘মৃণাল’ করেন মেকআপ আর্টিস্ট সোমনাথ কুন্ডু। ছবির গল্প ‘মৃণাল সেনের গল্পের মতো এগোয়। স্পটলাইট যে সিনে পড়তে বাধ্য তা হল রবীন্দ্রনাথের মরদেহ নিয়ে বিশৃংখলা, শেষ যাত্রা। আর কানে বেজে ওঠে সাহানা বাজপেয়ীর কণ্ঠে ‘কহো কানে কানে/ শোনাও প্রাণে প্রাণে /মঙ্গল বারতা’।
‘দেব’দর্শন। রাত দুটো থেকে ঠিকিট বিক্রি। সিনেমাহল হাউসফুল। এমন ক্রেজ বাঙালি হালফিলে দেখেনি। পর্যাপ্ত সিেনমাহল মারপ্যাঁচ পেরিয়ে ‘খাদান’এ ঢুকতে পেরেছেন দর্শক। রাগড লুক এবং ক্লিন শেভড দুই লুকেই দেব দেখা দিয়েছেন। কয়লাখনিতে অ্যাকশন থ্রিলার জমে উঠেছে। দেব তাঁর গানেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, বছর শেষে সিনেমাহলে কে এসেছে, গানে-গানে, ‘যা যা বলে দে - তোর বাপ এসেছে!’
সন্তান, সন্তান, সন্তান, সন্তান, সন্তান, সন্তান...পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর ছবি প্রমোশনে বারবার এই শব্দের ব্যবহার নজিরবিহীন। ছবিতে তিন ‘চক্রবর্তী’। ঋত্বিক-মিঠুন এবং রাজ স্বয়ং! ফ্যামিলি ড্রামা ছবিতে ছাপ রেখেছেন রাজের রিয়েল স্ত্রী শুভশ্রী। ছবির বিষয়বস্তু পরিচিত। বয়স্ক বাবা-মায়ের শেষ আশ্রয় সন্তানের সান্নিধ্য নয়, বৃদ্ধাশ্রম। দক্ষিণী ফিল্মের দাপটে মধ্য এবং দক্ষিণ কলকাতায় শো পায়নি ‘সন্তান’!
'হুব্বা' মস্তান। বাস্তবের মস্তান। তাই তোলাবাজি, যৌনতা এবং ত্রাস হুব্বা শ্যামলের জীবনের রোজননামচা ওয়ার্কলোড। ব্রাত্য বসুর ছবিতে বলিউডি ডনদের প্রভাব পড়েনি উল্টে হুগলিপারের 'হুব্বা' শ্যামলের সেই রোয়াব মনে করিয়ে দেয় 'ডন' হুব্বা বিমল। আর যা বাকি থাকে, মোস্তাফা করিমের অভিনয় পুষিয়ে দিয়েছে।
পরিচালক তথাগতর উদ্দেশ্য সৎ। নিজে পশুপ্রেমী। তাই পথকুকুরদের প্রতি সংবেদনশীল হওয়ার বার্তা নিয়েই এই ছবি। অভিনয়ে বিক্রম। অ্যাকশন এবং থ্রিল মিশে ছবি জমজমাট। অবলা পশুদের গুরুত্ব দিয়ে বাংলায় প্রায় ছবিই হয়নি। তাদের ন্যূনতম অধিকারের জন্য লড়াইয়ের প্রয়োজন রয়েছে। ছবির পরতে পরতে এই চেতনাকেই বারবার স্পষ্ট হয়েছে।