
শেষ আপডেট: 6 April 2023 10:38
তিনি বাংলা ছবির লিলি ফুল। লিলি চক্রবর্তী (Lily Chakraborty)। দমদম মতিঝিলের আবাসনের জানলা দিয়ে ঝিলের দিকে তাকিয়ে ভাবতে থাকেন তাঁর ফেলে আশা আনন্দঘন নববর্ষ দিনের কথা। বাংলা চলচ্চিত্রের এবং সমসাময়িক বাংলা সিরিয়ালের ব্যস্ততম অভিনেত্রী তিনি আজও। লিলি চক্রবর্তী (Lily Chakraborty) শোনালেন তার মেয়েবেলা ও যৌবনের পয়লা বৈশাখের নানা গল্প। শুনলেন শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।
আমরা আদতে ছিলাম প্রবাসী বাঙালি। আমার ছোটবেলা কেটেছে মধ্যপ্রদেশে। ওখানে বেশিরভাগ লোক অবাঙালি। তারা নববর্ষ কী বুঝত না। পয়লা বৈশাখ কী মানেই জানত না কেউ। মধ্যপ্রদেশে আমাদের বাড়িতেই নববর্ষ হত। মা রান্নাবান্না করতেন, কাছাকাছি থাকা আত্মীয়-স্বজনরা আসতেন, হইহই হত, এই আর কী। পরবর্তীকালে আমার মা নান্দীকারের বিখ্যাত অভিনেত্রী দীপালী চক্রবর্তী হন। তারপর তো একটু বড় হতে কলকাতা চলে এলাম। ফিল্মে অভিনয়ে চলে এলাম।তখন পয়লা বৈশাখ একদম বদলে গেল।তখন পয়লা বৈশাখ মানেই ছবির মহরত। মহরতে যেতাম। বছরের প্রথম দিন কাজ করলে সারা বছর কাজ থাকবে এটাই মানত সবাই। তাই পয়লা বৈশাখে ছবির মহরত মাস্ট ছিল। আর যখন নাটক করতে গেলাম তখন ছুটির দিন মানেই ডাবল শো হত। তখন বাঙালিদের কাছে বাংলা নাটক দেখা নতুন বছরে মাস্ট ছিল।সেসব দিন আজকাল আর নেই।

নববর্ষ এলেই মনে পড়ে আমার ব্যক্তিগত কথা। আমার স্বামী অজিতের কথা। আমার স্বামীর নাম ছিল অজিত ঘোষ। বিয়ের আগেই আমি লিলি চক্রবর্তী নামে বিখ্যাত। তাই আমার স্বামী বললেন লিলি চক্রবর্তী নামেই যখন তুমি বিখ্যাত হয়েছ তখন এই পদবী থাক, আমার পদবী আর তোমায় দিতে হবে না। প্রেম-বন্ধুত্বের মাধুর্যে অজিত আমায় এমন ভাবে জড়িয়ে ছিল যে ফিল্মের কারও সঙ্গে কখনও জড়িয়ে পড়ার কথা ভাবিনি। উনি আমায় আগলে রেখেছিলেন। অজিত ছিল আমার অভিভাবক, আমার সেক্রেটারি, আমার মাস্টারমশাই আমার সবকিছু।

তখন খুব রোগা ছিলাম। অজিতের কথামতো ডিমের কুসুমের সঙ্গে এক চামচ ব্র্যাণ্ডি ছিল আমার বাঁধা। রোজ নিজে হাতে ফলের রস করে খাওয়াত। কমলালেবু, আঙুর, বেদানা যখন যেটা পাওয়া যায়। ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই আড়ালে বলত, লিলি হল বরের পুতুল। এভাবে নাকি সম্পর্ক টেকে না। কিন্ত আমি ওদের ভুল প্রমাণ করে দিয়েছিলাম। অজিত ছিল বলেই আমি এত সুন্দর ভাবে কেরিয়ার আর পরিবার ব্যালেন্স করে চলতে পেরেছিলাম। উনি আমাকে একটা নির্মল জীবন উপহার দিয়েছিলেন।

আজকাল অজিতকে ছাড়া মাঝেমধ্যে খুব ফাঁকা লাগে। আমাকে এখন আর কেউ শাসন করে না। কেউ ফলের রস বানিয়ে মুখের সামনে এগিয়ে ধরে না।
নববর্ষ এলেই মনে হয় অজিতের কথা। পয়লা বৈশাখে কাজের সময় ছাড়া বাড়িতেই থাকতাম। আমার স্বামী বাজার করে আনতেন। আমার ভাইবোনেরা আসত সবাই। খাওয়া-দাওয়া হতো। আমাকেই রান্না করতে হত। অন্য কেউ রান্না করলে আমার বর খাবে না। আমার ভাইবোনরাও চাইত দিদি রান্না করুক। তখন তো বিরিয়ানির অত চল ছিল না, আমরা খেতামও না, অত ভাল লাগত না বিরিয়ানি। বাঙালি খাবারই আমি বানাতাম। আমার হাতের তৈরি মাংসের চপ আর কচুরি আমার বরের প্রিয় ছিল।
