
শেষ আপডেট: 9 November 2023 13:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড আবহের পর কোনও ছবি নিয়ে দেশজুড়ে যদি বাঁধনহারা উচ্ছ্বাস দেখা যায়, তাহলে নিঃসন্দেহে তার নাম ‘পাঠান’। চলতি বছর জানুয়ারি মাসে মুক্তি পাওয়া শাহরুখ খানের এই কামব্যাক সিনেমা নিয়ে তাঁর অনুরাগীরা তো বটেই, সাধারণ সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যেও তুমুল আগ্রহ ছিল। যশ রাজ ফিল্মসের ‘স্পাই ইউনিভার্স’ নিয়ে বিশাল উন্মাদনা দেখা গিয়েছিল শহর কলকাতাতেও। কিন্তু সেই একই ‘গুপ্তচর ব্রহ্মাণ্ড’-এর ‘টাইগার ৩’ নিয়ে সেভাবে কোনও আলোচনাই নেই ‘সিটি অফ জয়’-এ। সেই ছবি ধরা পড়েছে অগ্রিম বুকিংয়েও।
‘পাঠান’ হোক বা ‘জওয়ান’ শাহরুখের দু’টি ছবিই কোনও বড় উৎসবে মুক্তি পায়নি। তবুও সিনেমার অগ্রিম বুকিং থেকে শুরু করে প্রথম এক সপ্তাহের ব্যবসা ছিল দুর্দান্ত। দু’টি ছবিই বলিউডের ইতিহাসে বক্স অফিস আয়ের নিরিখে রেকর্ড তৈরি করেছিল। কিন্তু সেখানে দিওয়ালি থাকা সত্ত্বেও সলমনের ‘টাইগার ৩’ নিয়ে কলকাতায় দর্শকদের উন্মাদনায় ভাঁটা পড়েছে। যশ রাজের স্পাই ইউনিভার্সের সিনেমা হয়েও যেখানে ‘পাঠান’ দেখতে কাকভোরে হলে ছুটেছিলেন দর্শক, সেখানে ‘টাইগার ৩’-র প্রাইম টাইমের শো-গুলির টিকিটও পুরো বিক্রি হয়নি।
কেন এরকম অবস্থা সলমনের ছবিটির? সিনেমা বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, ‘ভাইজান’-এর শেষ কয়েকটি ছবি একেবারেই আশাপ্রদ ব্যবসা করেনি বক্স অফিসে। এমনকী দর্শকদের মন ভরাতেও ব্যর্থ হয়েছেন সলমন। তাই কলকাতার দর্শকদের মধ্যে ‘টাইগার ৩’ নিয়ে সেরকম উন্মাদনা দেখা যাচ্ছে না। আবার কারও মতে, পশ্চিমবঙ্গে শাহরুখের ছবির সঙ্গে বলিউডের অন্য অভিনেতাদের সিনেমার তুলনা টানলে ভুল হবে। শাহরুখ বাংলায় ঘরের ছেলের মতো। তাই ওঁর কোনও ফ্লপ ছবিও দেশের অন্যান্য রাজ্যের থেকে এখানে বেশি আয় করে।
গত রবিবার থেকে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ‘টাইগার ৩’-এর অগ্রিম বুকিং। অনলাইন টিকিট বিক্রয়কারী সংস্থার সাইটে চোখ রাখলে দেখা যাবে, প্রথমদিন অর্থাৎ ১২ নভেম্বর শহরের বেশিরভাগ মাল্টিপ্লেক্স এবং সিঙ্গল স্ক্রিনের অজস্র টিকিট এখনও অবিক্রিত। প্রায় সর্বত্রই প্রত্যেকটি শোয়ের সিংহভাগ টিকিট এখনও বিক্রিই হয়নি। এরমধ্যে কলকাতার দু’টি বড় সিঙ্গল স্ক্রিনে মুক্তিই পাচ্ছে না সলমনের ছবি। একটি টালিগঞ্জ এরিয়ার ‘নবীনা’, অপরটি হাতিবাগানের ‘স্টার’। এর পিছনে ছবির প্রযোজনা সংস্থারই দোষ দেখছেন সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যুক্ত সবাই।
কেন এমন অভিযোগ যশ রাজের বিরুদ্ধে? জানুয়ারিতে ‘পাঠান’ মুক্তির সময়েও দেখা গিয়েছিল প্রযোজনা সংস্থা ‘পাঠান’ চালানোর জন্য সিনেমা হল মালিকদের একটি শর্ত দিয়েছিল। সেটি হল, তাঁদের ছবি সেখানে প্রদর্শিত হলে অন্য কোনও ছবি আর সেখানে দেখানো যাবে না। সেইসময় আর বড় কোনও ছবি মুক্তি না পাওয়ায় হল মালিকরা সেই শর্ত মেনে নিয়েছিলেন। তবুও বাংলা ছবি ‘কাবেরী অন্তর্ধান’ এমন শর্তের জেরে ক্ষতির মুখে পড়েছিল। কিন্তু এইসময় পুজোয় মুক্তি পাওয়া বাংলা ছবিগুলো এখনও চলছে। তাই ‘টাইগার ৩’-কে জায়গা দেননি বেশ কিছু হল মালিক।
আর এই কারণেই নবীনা, স্টারের মতো সিনেমাহলে শো পায়নি সলমনের নতুন ছবিটি। আসলে ‘নো শো পলিসি’ নিয়ে সিনেমা হল মালিকদের মধ্যে একটা চাপা ক্ষোভ ছিলই। তাই হাতের কাছে আরও বেশ কিছু ছবি পেতেই ‘টাইগার ৩’-কে দূরে সরিয়েছেন তাঁরা। পশ্চিমবঙ্গে সিনেমার ডিস্ট্রিবিউটর মারফত জানা গিয়েছে, শুধু স্টার বা নবীনা নয়, শহর এবং শহরতলির আরও অনেক সিঙ্গল স্ক্রিনে জায়গা পায়নি সলমন খানের ছবি। আসলে সবারই ব্যবসার কিছু পলিসি থাকে। কেউ তা মানবে, কেউ মানবে না। এতে সিনেমার ব্যবসায় বিশেষ ক্ষতি হবে না।