
গ্রাফিক্স: শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 6 February 2025 19:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গানের জগতের মণিমুক্তো লতা মঙ্গেশকর, যাঁকে 'কুইন অফ মেলোডি', 'নাইটেঙ্গেল অফ ইন্ডিয়া', এবং 'ভয়েস অফ মিলেনিয়াম' নামে অভিহিত করা হয়। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালে ৯২ বছর বয়সে প্রয়াত হন 'কোকিল কণ্ঠী' গায়িকা। আট দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ভারতীয় সঙ্গীত জগতকে সমৃদ্ধ করেছেন।
লতা মঙ্গেশকর ৩৬টি ভাষায় গান গেয়েছেন এবং তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ভারতরত্ন, দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার এবং তিনটি জাতীয় পুরস্কারের মতো সম্মান। তার গাওয়া গানগুলো যেন চিরকালীন হয়ে থাকবে, যেমন তিনি নিজেই বলেছিলেন, 'মেরি আওয়াজ হি পহেচান হ্যায়...' তবে, অনেকেই হয়তো জানেন না যে গানের পাশাপাশি তিনি সঙ্গীত পরিচালনাও করেছেন।

১৯৫৫ সালে মারাঠি ছবি 'রাম রাম পাভহানে'-তে সঙ্গীত পরিচালনা দিয়ে তাঁর সঙ্গীত পরিচালকের পথচলা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে 'মারাঠা তিতুকা মেলভাভা' (১৯৬৩), 'মোহিত্যাঞ্চি মঞ্জুলা' (১৯৬৩), 'সাধি মানসে' (১৯৬৫) এবং 'তামবাড়ি মাটি' (১৯৬৯) ছবিতে সঙ্গীত পরিচালনা করেন। 'সাধি মানসে' ছবির জন্য মহারাষ্ট্র স্টেট গভর্মেন্টের বেস্ট মিউজিক ডিরেক্টর অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন তিনি।

এছাড়াও, লতা মঙ্গেশকর ছিলেন একজন প্রযোজকও। ১৯৫৩ সালে তিনি প্রথম মারাঠি ছবি 'ভাদাল' প্রযোজনা করেন। পরে আরও তিনটি সিনেমা প্রযোজনা করেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ১৯৯০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত 'লেকিন'। গুলজার পরিচালিত এই ছবির সঙ্গীত রচনা করেন তাঁর ভাই হৃদয়নাথ মঙ্গেশকর এবং ছবির গান 'ইয়ারা সিলি সিলি' দর্শকদের মনে বিশেষভাবে জায়গা করে নেয়।
দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি আর কোনও ছবি প্রযোজনা না করলেও, তাঁর কণ্ঠস্বর এবং সঙ্গীত নিয়ে কাজ করতে থাকেন। ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি কোভিডে আক্রান্ত হন এবং হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়, এবং ৬ ফেব্রুয়ারি তিনি মাল্টিপল অর্গান ডিসফাংশন সিনড্রোমে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। লতা মঙ্গেশকর, ভারতের সর্বশ্রেষ্ঠ গায়িকা, তাঁর অবদান ও সঙ্গীতের মাধ্যমে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।