আলাদা ছন্দে গল্প বলতে ভালবাসে প্রযোজনা সংস্থা ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশন। নতুন ছবি কর্পূর, যেন তারই পরবর্তী অধ্যায়।

শেষ আপডেট: 24 February 2026 12:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গল্প বলার নিজস্ব ছন্দ রয়েছে প্রযোজনা সংস্থা ফ্রেন্ডস কমিউনিকেশনের। সেই ভাবনাকেই এগিয়ে নিয়ে যেতে এই ছবির প্রযোজনায় হাত মিলিয়েছেন আদিপ্ত মজুমদার ও তাঁর সংস্থা কাহাক স্টুডিয়োজ। ফলে নতুন ছবি ‘কর্পূর’ যেন স্বাভাবিক ভাবেই সেই ধারারই পরের অধ্যায় হয়ে উঠেছে।
ঘোষণার মুহূর্ত থেকেই ছবিটি নিয়ে কৌতূহলের ঢেউ উঠেছিল দর্শকের মনে। কারণ, এর কেন্দ্রে রয়েছে এমন এক সত্য ঘটনা, যা সময়ের ধুলোয় চাপা পড়ে গেলেও কখনও মুছে যায়নি। আর এবার, ছবির পোস্টার মুক্তির পর প্রকাশ্যে এল ছবির টিজার—যা যেন এক অদৃশ্য দরজা খুলে দিল অতীতের অন্ধকার করিডরে। (korpur, arindam sil, kunal ghosh, Bratya Basu, Rituparna Sengupta)
পরিচালক অরিন্দম শীল তাঁর নিজস্ব সংবেদনশীলতায় নির্মাণ করেছেন এই ছবি, যার শিকড় প্রোথিত সাহিত্যিক দীপান্বিতা রায়-এর লেখা উপন্যাস অন্তর্ধানের নেপথ্যে-এর ভিতরে। তবে শুধু সাহিত্যিক বাস্তবতা নয়, সেই সত্যের সঙ্গে মিশেছে পরিচালকের কল্পনার সূক্ষ্ম পরত—যা গল্পটিকে আরও গভীর করে তুলেছে।
সময়টা ১৯৯৭। শহর তখনও এত দ্রুতগতির হয়নি, তবু তার ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে ছিল অনেক অজানা অন্ধকার। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়-এর ডেপুটি কন্ট্রোলার মনীষা মুখোপাধ্যায় প্রতিদিনের মতোই এক সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছেছিলেন, দিনের কাজ শেষও করেছিলেন। কিন্তু সেই দিনটি যেন আর শেষ হয়নি—কারণ তিনি আর কখনও বাড়ি ফেরেননি। হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে গেলেন মনীষা। সময় গড়িয়েছে, বছর কেটেছে, কিন্তু তাঁর আর কোনও সন্ধান মেলেনি।
তারপর, প্রায় দু’বছর পর, তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় একের পর এক ব্ল্যাঙ্ক মার্কশিট, যাতে ছিল তৎকালীন কন্ট্রোলারের সই। ধীরে ধীরে সামনে আসে আরও বিস্ময়কর তথ্য—তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের ইঙ্গিত। সত্য, ষড়যন্ত্র, ক্ষমতার জটিল বুনোটই ‘কর্পূর’-এর প্রাণ।
এই রহস্যঘন আবহেই তৈরি হয়েছে ছবির চরিত্ররা। নিখোঁজ মনীষা সেনের ভূমিকায় দেখা যাবে জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত-কে, যিনি এর আগে অরিন্দম শীলের ‘মায়াকুমারী’তে অভিনয় করেছিলেন। মনীষার স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করছেন স্বয়ং পরিচালক অরিন্দম শীল। রাজনৈতিক নেতার ভূমিকায় রয়েছেন সাহেব চট্টোপাধ্যায়, আর সাংবাদিকের চরিত্রে দেখা যাবে অর্পণ ঘোষাল-কে। তাঁর সঙ্গে সাংবাদিক ইন্টার্ন হিসেবে রয়েছেন লহমা ভট্টাচার্য।
তাঁরা কাজ করেন ‘এডিপি নিউজ’ নামে একটি পোর্টালে, যার সম্পাদক চরিত্রে অভিনয় করছেন অনন্যা ব্যানার্জী। ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি রয়েছে কুণাল ঘোষ-এর, যিনি একেবারেই ভিন্ন এক পর্দা-অবতারে নজর কেড়েছেন। পাশাপাশি রয়েছেন ব্রাত্য বসু, রুমকি চট্টোপাধ্যায়, কণাদ মৈত্র, সঞ্জীব সরকার, সন্দীপ ভট্টাচার্য, প্রদীপ্ত রায়, অভিষেক বিশ্বাস, পায়েল রায় এবং তপস্যা দাশগুপ্ত—যাঁরা প্রত্যেকে নিজেদের চরিত্রে গল্পের শরীরে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন।
এই ছবির প্রযোজক ফিরদৌসল হাসান স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘কর্পূর’ শুধু একটি থ্রিলার নয়। এটি তুলে ধরেছে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার এক বিস্মৃত অধ্যায়—যেখানে সত্যি আর অজানার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে এক নিঃশব্দ প্রশ্ন। আগামী ১৯ মার্চ, বড়পর্দায় ‘কর্পূর’ আলো দেখার অপেক্ষায় থাকবে দর্শক—হয়তো কোনও হারিয়ে যাওয়া সত্য আবার ফিরে আসবে, কিংবা আরও গভীর হয়ে যাবে রহস্যের অন্ধকার।