
শেষ আপডেট: 29 January 2024 01:38
রেটিং: 3.5/5
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'তু হি রে... তেরে বিনা ম্যায় ক্যায়সে জিউ'... গানটা দু লাইন গাইতে গাইতে মনোজ বাজপেয়ী গোটা ৮টা এপিসোড মাতিয়ে গেলেন। সঙ্গে ছিলেন কঙ্কনা সেন শর্মার মত অভিনেত্রী। এই প্রথম দুজনের জুটিকে দেখা গেল পর্দায়। পরিচালক অভিষেক চৌবেকে প্রথমেই এই একটা কারণে দশে দশ দিতে ইচ্ছে করে। তবে সিরিজটা দেখার পর বোঝা যায় যে তা সম্ভব নয়। কিন্তু কেন?

গল্পটা প্রেমের! গল্পের নায়ক উমেশ পিল্লাই (মনোজ বাজপেয়ী), যে পাগলের মত ভালোবাসে স্বাতীকে (কঙ্কনা সেন শর্মা)। কিন্তু স্বাতী বিবাহিতা। স্বাতীর বর প্রভাকর শেট্টি (মনোজ বাজপেয়ী) প্রচুর সম্পত্তির অধিকারী। যাকে স্বাতী ভালোবাসে ঠিকই, তবে ভালবাসায় সেই আকুল ভাবটা নেই। সে চায় তার নিজের একটা রেস্তোরাঁ তৈরি হোক। এদিকে রান্নাটা সে একেবারেই ভালো করে না। স্বাতীর তৈরি স্যুপ খেলে বমি হয়ে যাওয়ার জোগাড় হয় সবার। এদিকে রেস্তোরাঁ বানানোর জন্য যে রেস্ত দরকার, সেটাও প্রভাকরের নেই। তবে তার দাদা অরবিন্দ শেট্টির (শায়াজি শিন্ডে) আছে। কিন্তু দাদা জানে ভাই একটা অকর্মার ঢেঁকি! তাকে টাকা দেওয়া মানে লস হওয়া কেউ আটকাতে পারবে না। এদিকে প্রভাকর বোঝে বউয়ের অন্য কারোর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে। তাই সে ভাড়া করে একজন প্রাইভেট ডিটেক্টিভকে। তার ক্যামেরায় স্বাতী ও উমেশের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবিও ওঠে। তবে সেটা প্রভাকরের হাতে পড়ার আগেই অ্যাকসিডেন্টে মৃত্যু হয় সেই প্রাইভেট ডিটেক্টিভের। শুরু হয় সিরিজের প্রথম মৃত্যু! এরপর গল্পের গাড়ি এদিক ওদিক ঘুরতে ঘুরতে, ঘটনার ঘনঘটা পেরিয়ে যেতে যেতে ৮ খানা এপিসোড পর থামে।
এরচেয়ে বিশদে বলে সিরিজটা মাটি করা উচিৎ হবে না!

এখানে মনোজ ও কঙ্কনা ছাড়াও অভিনয় করেছেন শায়াজি শিন্ডে, অনুলা নভলেকর, নাসার, লাল, আনবু থাসার, কানি কুসরুটি, আরও অনেকে। গল্পের প্রয়োজনে প্রতিটা চরিত্র আসে যায়। তবে প্রত্যেকে নিজেদের মত করে ছাপ ফেলে যায়। মনোজ বাজপেয়ীর ডাবল রোলকে যুক্তিসহ কাহিনীর ছন্দে ফেলায়, একবারের জন্যও মনে হয় না এটা আজগুবি।

বলিউডে ডার্ক কমেডি থ্রিলার কমই বানানো হয়েছে। বানানো হলেও সেটাকে শেষ অবধি ধরে রাখতে পারেনি। এখানেও খানিকটা তাই হয়েছে। প্রথম ৪টি এপিসোড এক ভাবে বসে দেখা গেলেও, তারপরেরগুলো যেন বাড়তি মনে হতে থাকে। সিরিজের শেষটা একটু মিনিমালিজম ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে তৈরি করতে পারত। গোটা সিরিজের থ্রিলটা যেন শেষের গতানুগতিক ফ্যাকাশে দৃশ্যতে এসে থমকে যায়!
তবে মুঠো আলগা হলেও অভিষেকের হাত ফস্কে যায়নি। প্রতিটা চরিত্রে যারা অভিনয় করেছে তারা নিজেদের সবটা দিয়ে বেশিরভাগ জায়গায় ধরে রেখেছে সিরিজের মান ও টানটান উত্তেজনা। ঘটনাগুলিকে সঙ্গী করে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও মানানসই। অন্ধাধুন, ডার্লিংস, দেব ডি, মনিকা ও মাই ডার্লিং এই ধরনের উঁচু মানের ডার্ক কমেডির সঙ্গে সমানে সমানে পাল্লা দিতে পারবে 'কিলার স্যুপ'।

'কিলার স্যুপ' পুরোটা বিস্বাদ না হলেও আরেকটু মশলাদার করাই যেত!