কেদারনাথ দর্শনের আগে হলফনামা বিতর্কে জড়ালেন সারা আলি খান। এনিয়ে কী বললেন কঙ্গনা রানাউত?

কঙ্গনা রানাউত ও সারা আলি খান
শেষ আপডেট: 18 March 2026 21:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বদ্রীনাথ ও কেদারনাথ দর্শনকে ঘিরে নতুন বিতর্কে জড়ালেন সারা আলি খান (Sara Ali Khan)। মন্দিরে প্রবেশের আগে তাঁকে ‘হলফনামা’ জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মন্দির কমিটি— আর সেই সিদ্ধান্ত ঘিরেই নেটমাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। এই আবহেই সরব হলেন কঙ্গনা রানাউত (Kangana Ranaut), যিনি বরাবরই হিন্দু ধর্ম ও ঐতিহ্যের পক্ষে সরব।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কঙ্গনা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, মন্দির কোনও পিকনিক স্পট নয়, যেখানে ইচ্ছে হলেই যাওয়া যায়। তাঁর মতে, কেউ যদি সত্যিই হিন্দু দেবদেবীর প্রতি বিশ্বাসী হন এবং নিজেকে ভক্ত বলে মনে করেন, তবে একটি হলফনামায় সেই বিশ্বাসের কথা জানাতে আপত্তির কোনও কারণ থাকা উচিত নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন বারবার সেলিব্রিটিরা নিয়মের ঊর্ধ্বে থাকতে চান।
কঙ্গনার বক্তব্যে আরও উঠে আসে মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষার প্রসঙ্গ। তাঁর মতে, এই দায়িত্ব মন্দির কর্তৃপক্ষের, এবং অ-হিন্দু বা মিশ্র ধর্মীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি।
এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। সরাসরি সারাকে উদ্দেশ্য করে কঙ্গনা বলেন, উপস্থিত প্রত্যেকেই ‘সনাতনী’, কারণ জন্মের পর থেকেই সবাই সনাতন ধর্মের অংশ। তাঁর ব্যাখ্যায়, ‘সনাতন’ শব্দের অর্থই যার শুরু বা শেষ নেই— এবং অন্য ধর্মগুলির তুলনায় এই ধর্মই চিরন্তন সত্য।
সারাকে কটাক্ষ করে কঙ্গনা আরও যোগ করেন, তাঁর যদি হিন্দু দেবদেবীর প্রতি আস্থা থাকে, তবে নিজেকে সনাতনী হিসেবে পরিচয় দিতে আপত্তি কোথায়? একটি কাগজে লিখে জমা দিলেই তো বিষয়টি মিটে যেতে পারে— একে বড় ইস্যু করার প্রয়োজন নেই বলেই মনে করেন তিনি।
উল্লেখ্য, উত্তরাখণ্ড চারধাম মন্দির কমিটির চেয়ারম্যানের নির্দেশ অনুযায়ী, যাঁরা অ-হিন্দু বা যাঁদের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তাঁদের মন্দিরে প্রবেশের আগে হলফনামা জমা দিতে হবে। কঙ্গনার এই মন্তব্য সেই সিদ্ধান্তকেই আরও জোরালো সমর্থন জোগাল।
বিশেষত, সারার পারিবারিক পরিচয়, যেখানে তাঁর বাবা মুসলিম এবং মা হিন্দু— সেই প্রসঙ্গ টেনেই এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। কঙ্গনার মন্তব্য ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় মেরুকরণও স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে।