নিজের নাম, কণ্ঠস্বর, ছবি এবং পরিচয়ের অপব্যবহার রুখতে এবার আইনের দ্বারস্থ হলেন জনপ্রিয় গায়ক জুবিন নৌটিয়াল।

শেষ আপডেট: 19 February 2026 18:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিজের নাম, কণ্ঠস্বর, ছবি এবং পরিচয়ের অপব্যবহার রুখতে এবার আইনের দ্বারস্থ হলেন জনপ্রিয় গায়ক জুবিন নৌটিয়াল। বৃহস্পতিবার তিনি দিল্লি হাই কোর্ট-এ একটি মামলা দায়ের করেন, যেখানে তিনি তাঁর ব্যক্তিত্বের অধিকার বা ‘পার্সোনালিটি রাইটস’ সুরক্ষার আবেদন জানান। (Jubin Nautiyal, Delhi HC)
তবে মামলার শুনানির শুরুতেই আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে। উত্তরাখণ্ডে বসবাসকারী জুবিন কেন নিজের রাজ্যের আদালতে না গিয়ে দিল্লি হাই কোর্টে এলেন? বিচারপতি সরাসরি তাঁর আইনজীবীর কাছে জানতে চান, উত্তরাখণ্ডের আদালত কি এই ধরনের মামলা শুনতে অক্ষম? সেখানে কি আদালত নেই বা তারা কি নির্দেশ দিতে পারে না?
জুবিনের আইনজীবী যুক্তি দেন, দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলি রয়েছে—যেমন ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক এবং টেলিযোগাযোগ বিভাগ। এই কারণেই দিল্লি হাই কোর্টে আসা হয়েছে। কিন্তু আদালত এই যুক্তিকে যথেষ্ট বলে মনে করেনি। বিচারপতি প্রশ্ন করেন, উত্তরাখণ্ডের আদালত কি অভিযুক্তদের ডেকে নির্দেশ দিতে পারে না? সেখানে কি গুগল বা অন্যান্য সংস্থার উপর কোনও আইনি নিয়ন্ত্রণ নেই? শুধু মন্ত্রক দিল্লিতে আছে বলেই কি দেশের অন্য সব আদালতের এক্তিয়ার অকার্যকর হয়ে যাবে?
জুবিন তাঁর আবেদনে অভিযোগ করেছেন, একাধিক ব্যক্তি ও সংস্থা তাঁর অনুমতি ছাড়াই তাঁর নাম, কণ্ঠস্বর, ছবি, পরিচয় এবং ব্যক্তিত্বের অন্যান্য অংশ ব্যবহার করছে। তাঁর দাবি, এই ব্যবহার সম্পূর্ণ অননুমোদিত এবং এটি তাঁর পার্সোনালিটি ও পাবলিসিটি রাইটস লঙ্ঘন করছে। পাশাপাশি এটি তাঁর ট্রেডমার্ক, কপিরাইট এবং অন্যান্য মেধাস্বত্বেরও লঙ্ঘন। তবে এই মামলায় এখনও আদালতের পক্ষ থেকে কোনও চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
শুনানির সময় জুবিনের আইনজীবী আদালতকে জানান, তাঁর মতো আরও অনেক তারকাও সম্প্রতি দিল্লি হাই কোর্টে একই ধরনের আবেদন করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিবেক ওবেরয়। কিন্তু আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এই ধরনের মামলায় দেওয়া অন্তর্বর্তী নির্দেশ কোনও স্থায়ী নজির তৈরি করে না।
গত এক বছরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার পর একাধিক তারকা তাঁদের ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষায় দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছেন অমিতাভ বচ্চন, অনিল কাপুর, সালমান খান, ঐশ্বর্য রাই, জ্যাকি শ্রফ, জুনিয়র এনটিআর, কুমার শানু, নাগার্জুন, দলের মেহেন্দি এবং করন জোহর। তাঁদের অভিযোগ, AI-generated কনটেন্ট এবং ডিপফেকের মাধ্যমে তাঁদের ছবি ও কণ্ঠস্বর বিকৃতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
জুবিন নৌটিয়ালের মামলাও সেই বৃহত্তর বাস্তবতারই অংশ, যেখানে শিল্পীরা এখন শুধু গান বা অভিনয় নয়, নিজেদের পরিচয় এবং অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইও লড়ছেন। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি, তবে এই মামলা ইতিমধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—ডিজিটাল যুগে একজন শিল্পীর নিজের পরিচয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ কতটা সুরক্ষিত।