
শেষ আপডেট: 4 February 2023 06:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'জীবন গিয়েছে চলে আমাদের কুড়ি-কুড়ি বছরের পার— তখন হঠাৎ যদি মেঠো পথে পাই আমি তোমারে আবার!'
না, সেখানে মেঠো পথ হয়তো ছিল না, তবে ভালবাসাকে ফিরে পাওয়ার তীব্র বাসনা ছিল। বছরের সংখ্যাটাও ২০ নয়, ২৫। কথা হচ্ছে, 'টাইটানিক'-এর (Titanic) জ্যাক এবং রোজকে (Jack and Rose) নিয়ে। সত্যি যদি পঁচিশ বছর পর দু'জনকে একসঙ্গে দেখা যেত, তাহলে কেমন হত? কিন্তু তা তো সম্ভব নয়। সিনেমায় সেই ভয়াবহ জাহাজ দুর্ঘটনার পর প্রেমিকা রোজকে বাঁচাতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছিল জ্যাকের। কিন্তু সেও তো অন্যদের মতো বেঁচে থাকতে পারতো, এই ভাবনা দর্শকদের ছবি দেখার পর থেকেই ছিল। কিন্তু ছবি মুক্তির পঁচিশ বছর পর অবশেষে সেই একই আক্ষেপ শোনা গেল 'টাইটানিক'-এর পরিচালক জেমস ক্যামেরনের (James Cameron) গলাতেও।
২৫ বছর ধরে বহু আলোচনা, তর্ক-বিতর্ক হয়েছে এ নিয়ে। সিনেমা দেখে অনেকেই বলেছিলেন, জ্যাকের প্রতি অবিচার করা হয়েছে গল্পে। তাঁদের দাবি ছিল, যেখানে অনেকেই 'টাইটানিক' দুর্ঘটনার পর দরজার পাল্লা, ছোট লাইফ বোটে চেপে প্রাণ বাঁচিয়ে নিচ্ছিলেন, সেখানে তো জ্যাককে নিজের জীবন বাঁচানোর কোনও সুযোগই দেওয়া হয়নি। এত অভিযোগ-অনুযোগ সত্ত্বেও বিগত ২৫ বছর ধরে এ বিষয়ে নীরব ছিলেন পরিচালক। অবশেষে এত বছর পর সেই নিয়ে আক্ষেপ শোনা গেল তাঁর গলাতেও।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে 'টাইটানিক' নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ক্যামেরন একপ্রকার স্বীকার করেই নিলেন যে, "ওই দুর্ঘটনার রাতে জ্যাক প্রাণে বেঁচে যেতে পারত। হয়তো রোজের মতো দরজার পাল্লায় উঠে প্রাণ বাঁচাতে পারত না, কিন্তু অন্য অনেক উপায় ছিল নিজেকে বাঁচিয়ে নেওয়ার। মোট কথা, ওই ভয়াবহ দুর্ঘটনার মোকাবিলা করার উপায় ছিল জ্যাকের কাছে। কিন্তু সে কোনওটাই করেনি। বলা ভাল, চিত্রনাট্য তাকে করতে দেয়নি।"
কিন্তু এর বিপরীতেও নিজের মতের ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। ক্যামেরনের দাবি, "জ্যাক হয়তো রোজের সেই দরজার পাল্লায় উঠে নিজেকে বাঁচিয়ে নিতে পারত। কিন্তু সে ওই ঝুঁকিটা নিতে চায়নি। রোজের নিরাপত্তার কথা ভেবে, নিজের ভালবাসাকে বাঁচিয়ে রাখতেই জ্যাক নিজের জীবন বলি দিয়েছিল। এটাই ছিল জ্যাকের চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য।"
সম্প্রতি ন্যাশনাল জিওগ্রাফির সঙ্গে একটি নতুন তথ্যচিত্রে কাজ করেছেন 'টাইটানিক'-এর পরিচালক। সেখানেই নিজের ভাবনাগুলো প্রকাশ্যে এনেছেন ক্যামেরন। সেই তথ্যচিত্রের নাম ‘টাইটানিক: ২৫ ইয়ারস লেটার উইথ জেমস ক্যামেরন’। সেখানে দেখা গেছে, সিনেমায় জ্যাকের মৃত্যু নিয়ে হওয়া যাবতীয় বিতর্কগুলি বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানীদের নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে পুনর্বিবেচনা করেছেন জেমস ক্যামেরন। টাইটানিক ডুবে যাওয়ার রাতে আটলান্টিক মহাসাগরের ওই ঘটনাস্থলে কী কী হতে পারত সেই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেছেন সবাই।
সেই গবেষণাতেই দেখা গেছে যে,জ্যাক যদি রোজের পাশাপাশি ওই দরজার পাল্লায় উঠে অন্তত শরীরের উপরের অংশটুকু ভাসিয়ে রাখত এবং রোজ যদি নিজের লাইফ জ্যাকেট জ্যাককে পরিয়ে দিত, তাহলেই জ্যাক বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যেতে পারত। কিন্তু চিত্রনাট্য জ্যাককে সেই সুযোগটুকুই দেয়নি। হয়তো চরিত্রটির ভবিতব্যই ছিল তাই।
আরও এক পৃথিবী: লন্ডনে বাঙালিয়ানা! কৌশিক, তাসরিনদের নিয়ে জীবনের গল্প বললেন অতনু