যদিও নিজেকে শ্রীরামকৃষ্ণর আসনে বসাচ্ছেন না মমতা। তিনি বলছেন ঠাকুর যখন পরম আত্মীয় হয়ে যান তখন আর তাঁর সঙ্গে কোনও আড়াল থাকে না।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স: শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 12 September 2025 16:24
মমতা শঙ্কর অভিনয়, নৃত্য জীবনের পাশাপাশি আধ্যাত্মিক জীবনে ভীষণ ভাবে বিশ্বাসী। রূপোলি পর্দার নায়িকা হয়েও তিনি কখনও গ্ল্যামার জীবনে বিশ্বাস করেননি। আভিজাত্য তাঁর ব্যক্তিত্বে। মেকআপ নয়, মুখের নির্মল হাসিতেই তিনি অপাপবিদ্ধা। নায়িকা জীবন পার করে আধ্যাত্মিক জীবনের সন্ধান পেয়েছেন তিনি। আর মমতাকে এই আলোর সন্ধান দিয়েছিলেন সত্য সাই বাবা। বাবার চরণে নিজেকে সমর্পণ করেছেন মমতা।
দ্য ওয়ালে সম্প্রতি মমতা শঙ্কর এক দীর্ঘ ভিডিও সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। যে সাক্ষাৎকার সামাজিক মাধ্যমে ভীষণ ভাবেই চর্চিত এখন। নিজের বাড়ির পুজোর নিয়মের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন এই সাক্ষাৎকারে মমতা শঙ্কর।
মমতা শঙ্কর আরাধ্য ঈশ্বর সত্য সাইবাবা। সঙ্গে হিন্দু ধর্মের দেবদেবীও রয়েছে তাঁর ঠাকুরের আসনে। ঠাকুরের ভোগ রান্না করা নিয়ে বৈপ্লবিক কথা বলেছেন মমতা শঙ্কর দ্য ওয়াল আড্ডায়। মমতা বলেন 'বলে না ঠাকুরের ভোগ চাখতে নেই! কিন্তু ঠাকুরকে উৎসর্গ করার আগে আমি ভোগ চেখে দেখে নিই, নুন মিষ্টি ঠিক আছে কিনা। আমার মা অমলা শঙ্কর সবসময় ভোগ রাঁধার সময় চেখে দেখতেন নুন মিষ্টির স্বাদ ঠিক আছে কিনা। আমার বাগানে বেল ফুল হয়। আমি বেল ফুল তুলে শুঁকলে যে ভাল লাগাটা লাগে তখন আমি সেটা বাবাকে দিই। এত খুশি হয়ে গেল আমার মনটা তখন আমি বললাম বাবা তুমি এটা নাও। আমি খেয়ে যদি দেখি ভোগের নুন মিষ্টি সব ঠিক আছে তখন আমি ঠাকুরকে দিই।'
মমতা শঙ্করের এই মন্তব্যে আবারও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঠাকুরের ভোগ রান্না করার সময় যেখানে চাখা দূর, কথা বলতে নেই। সেখানে মমতা শঙ্কর বলছেন তিনি ঠাকুরকে দেবার আগে নিজে ভোগ চেখে দেখেন। যদিও এই মতামতের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন মমতা।
তিনি বলেন দ্য ওয়াল আড্ডায় 'আমি তো মা, আমি যখন আমার ছেলেদের খাওয়াতাম ছোটবেলায়, আগে আমি খেয়ে দেখতাম। শুধু নুন মিষ্টি নয়, খাবারটা খারাপ হয়নি তো, কিছু পড়েনি তো সেগুলো আমি ভাল দেখলেই তবে ঠাকুরকে দেব। আজকে তপস্বী শবরীর গল্প কী? তিনি রামের প্রত্যেকটা কুল খেয়ে দেখেছেন মিষ্টি, তারপর বলেছেন রাম তুমি খাও। রামকৃষ্ণ দেব নিজে খেয়ে মা কালীকে বলতেন 'মা এবার তুই খা।'
যদিও নিজেকে শ্রীরামকৃষ্ণর আসনে বসাচ্ছেন না মমতা। তিনি বলছেন ঠাকুর যখন পরম আত্মীয় হয়ে যান তখন আর তাঁর সঙ্গে কোনও আড়াল থাকে না। নিজের ভাল লাগার জিনিস সবসময় ঠাকুরকে নিবেদন করা যায়।