
নন্দিতা রায়, খরাজ মুখার্জি
শেষ আপডেট: 3 April 2025 18:40
গত কয়েক বছরে বাংলা মূলধারার ছবিতে রুচি আর বাণিজ্যকে একসঙ্গে মিলিয়েছেন যে পরিচালক-জুটি তাঁরা হলেন নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। আজ নন্দিতা রায়ের জন্মদিন। এই সফরের শুরুটা কিন্তু নন্দিতা রায়ের শিক্ষা আর প্রেরণাতেই শুরু করতে পেরেছিলেন শিবপ্রসাদ।
বছর বছর একাধিক সুপারহিট ছবিতে হাউসফুল বোর্ড ঝুলিয়েছেন তাঁরা। ২০১১ সালে 'ইচ্ছে' ছবি দিয়ে শুরু হয়েছিল তাঁদের দর্শক মন জিতে নেওয়া। এরপর 'বেলা শেষে','হামি','বেলা শুরু','মুক্তধারা','গোত্র' একের পর এক ছবিতে দর্শক মন জিতে নিয়েছেন পরিচালকদ্বয়। এই পিরিচলক জুটির ছবিতে কমেডি রোল থেকে ভিলেনি চরিত্র-জমিয়ে অভিনয় করেছেন খরাজ মুখোপাধ্যায়।
দ্য ওয়াল- কে একান্ত সাক্ষাৎকারে খরাজ মুখোপাধ্যায় জানালেন 'নন্দিতা রায়ের জন্মদিনে ছবিতে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে প্রথমে বলতে চাই সবাই বলে 'শিবুর ছবি আসছে' বা 'শিবুর ছবিটা কী ভাল লাগল'। কিন্তু ছবিগুলোতে দুজনেরই সমান অবদান রয়েছে। 'শিবুর ছবি' বললেও নন্দিতা রায়ের মধ্যে এতটুকু কমপ্লেক্স কাজ করেনা। শিবু আর নন্দিতাদির বোঝাপড়া এতটাই ভাল। প্রথমত নন্দিতা রায় শিবপ্রসাদের থেকে বয়সে অনেক সিনিয়র এবং তিনি একজন মহিলা। সাধারণত এসব ক্ষেত্রে মহিলাদের কমপ্লেক্স বেশি থাকে। সেটা কিন্তু নন্দিতা রায়ের মধ্যে একদম দেখিনি। নন্দিতা রায় অসম্ভব ইগো ফ্রি মানুষ।
নন্দিতা রায় সেই মানুষ যিনি শিবপ্রসাদকে নায়ক বানিয়ে সাফল্য এনেছেন বাংলা ছবিতে। শিবুর অভিনয় ক্ষমতা ছিল কিন্তু সেটাকে এমন বাণিজ্যসফল করে তোলার কারিগর তো নন্দিতা রায়। 'কন্ঠ' ছবিতে শিবু যে অসাধারণ অভিনয় করেছে সেখানে পরিচালনা তো নন্দিতাদির। চুপ করে মনিটরের সামনে বসে উনি সবটা সামলান।
শিবপ্রসাদ নন্দিতাদির থেকে অনেকটাই জুনিয়র
কিন্তু বাজারে শিবপ্রসাদ নন্দিতার সম্পর্ক নিয়েও গসিপ ছিল একসময়। সেসবের কেয়ার করেননি ওঁদের দুজনের কেউই। ভেবে দেখুন ,কতখানি দুজন দুজনকে বোঝেন।'
'বেলা শেষে' ও 'বেলা শুরু' ছবিতে বড় জামাই-এর চরিত্রে খরাজের অভিনয় ভীষণ ভাবে সাড়া ফেলছিল দর্শক মনে। আবার 'হামি' ছবিতে দাপুটে কাউন্সিলরের চরিত্রে খরাজ অনবদ্য। নিজের জনপ্রিয় চরিত্র গুলি নিয়ে খরাজ জানালেন দ্য ওয়াল কে "আমার কাছে শিবু যখনই চরিত্র নিয়ে এসেছে বুঝেছি নন্দিতাদি আমাকে ভেবেই সংলাপ লিখেছেন। কাকে কোন চরিত্রে মানাবে সেই নিয়ে অনবদ্য কাস্টিং করেন নন্দিতা রায়। আমার বড় জামাইয়ের চরিত্র যে এত হিট সেটাতে শিবপ্রসাদ-নন্দিতা রায় দুজনের অবদান রয়েছে। এই যে 'বেলা শেষে' তে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও স্বাতীলেখা সেনগুপ্তর জুটিকে পর্দায় মধ্যবিত্ত মোড়কে ফুটিয়ে তোলা, সবার পোশাক পরিকল্পনা, সবটাই করেছেন নন্দিতা রায়। একেবারে নীরবে উনি পেছনে থেকে কাজ করে চলেন, যা আমরা টের পাইনা। কিন্তু সবটা ওঁর নিয়ন্ত্রণে থাকে।
থিয়েটারের থেকেও বহু অভিনেতাকে ছবিতে নিয়েছেন নন্দিতাদি। 'গোত্র'তে আমার চ্যালা যে চোরটা ছিল, সেই ছেলেটিকে আমার নাট্যদল থেকে নেন নন্দিতাদি।
আমায় একবার নন্দিতাদি বললেন 'খরাজ তুমি অতি অভিনয় একটু কম কর তাহলে ভিলেনের অভিনয় আরো ভাল হবে'। এটাই তো শিক্ষা। বেলা শেষে- তে আমি নিজের শাল পরে শ্যুটিং করেছিলাম। নন্দিতাদি বলেছিলেন খরাজ তুমি নিজের শাল ব্যবহার কর। সেই শাল এখনও আমার আলমারিতে আছে। আবার পুজোর দৃশ্যে নাচের সময় নন্দিতাদি এসে আমার কানেকানে বলে গেলেন 'এমন ভাবে নাচো, যেন মনে হয় তুমি একটু সুরাসক্ত অবস্থায় রয়েছ'। এই ডিটেলিং ওঁনার আসল জাদু। কাজ করতে গিয়ে কোনও অসুবিধে হলে আমি সবসময় নন্দিতাদিকেই বলেছি।
সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বিপরীতে আমার জামাইয়ের রসায়ন এত ভাল হয়েছিল তাঁর অবদান যেমন নন্দিতা-শিবপ্রসাদের, ততটাই সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের। আমি বহু আগে সৌমিত্রদার নির্দেশনায় ওঁর সঙ্গে 'প্রাণতপস্যা' নাটক করেছি। যাই হোক ,নন্দিতাদির জন্মদিনে অনেক শুভেচ্ছা জানাই। শান্ত মাথায় নিখুঁত কাজ করে দুর্গার মতো 'উইন্ডোজ' প্রোডাকশনকে আগলে রাখেন আমাদের দিদি। বাংলা চলচ্চিত্রের উল্লেখযোগ্য পরিচালক রূপেও নন্দিতা রায় সবার মনে আছেন, থাকবেন।'