
শেষ আপডেট: 18 July 2021 07:21
নানান রঙে রঙিন বলিউড অভিনেতা ফারহান আখতার। কখনও তিনি ক্যামেরার পিছনে, আবার কখনও ক্যামেরার সামনে, আবার কখনও তাঁর হাতে কলম, কখনও বা তিনি তুলে নিয়েছেন গিটার। সব আঙিনায় ফারহান সমান সপ্রতিভ। এবার ক্যামেরার সামনে ‘আজিজ আলি’র ভূমিকায় দাপট দেখালেন এই বলিউড সুপারস্টার। সম্প্রতি অ্যামাজন প্রাইম ভিডিও-তে মুক্তি পেল তাঁর অভিনীত ছবি ‘তুফান’। রাকেশ ওম প্রকাশ মেহেরা পরিচালিত এই ছবিতে তিনি এক বক্সারের ভূমিকায়। পর্দায় বক্সার হয়ে উঠতে এক লম্বা প্রস্তুতির মধ্যে দিয়ে তাঁকে যেতে হয়েছে। তাঁর এই নতুন অবতার নিয়েই এক ভার্চুয়াল সাক্ষাৎকারে ফারহান আখতারের মুখোমুখি দ্য ওয়ালের প্রতিনিধি মোনালিসা মুখোপাধ্যায়।
‘ভাগ মিলখা ভাগ’ এর চূড়ান্ত সাফল্যের পর ‘তুফান’-এর জন্য কি একটু চাপে ছিলেন?
ফারহানঃ চাপ ঠিক নয়। তবে নিজের কাছে নিজের একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। রাকেশ স্যরের ‘ভাগ মিলখা ভাগ’ ছবিতে সততার সঙ্গে কাজ করেছিলাম। সেই একই সততার সঙ্গে পর্দায় ‘আজিজ আলি’ হয়ে উঠেছিলাম।
শুনেছি, এই ছবির গল্পের মূল ভাবনা আপনারই-
ফারহানঃ হ্যাঁ, আমার মাথায় প্রথম এই ছবির আইডিয়া আসে। স্ক্রিনরাইটার অঞ্জুম রাজাবলিকে আমার আইডিয়া শোনাই। অঞ্জুম আমার চিন্তাভাবনাকে গল্পের আকারে মেলে ধরে। আর এক্ষেত্রে আমি রাকেশ স্যর ছাড়া দ্বিতীয় কারোর কথা ভাবিনি। ওর সঙ্গে দেখা করি। আমাদের ২০ মিনিট মতো ন্যারেশন সেশন ছিল। আর উনি সঙ্গে সঙ্গে সম্মতি জানিয়েছিলেন।
‘তুফান’ ছবির জন্য আপনাকে ওজন বাড়াতে হয়েছিল। কতটা কঠিন ছিল এই শারীরিক পরিবর্তন?
ফারহানঃ আমার ওজন জীবনে ৭৪ কিলোর বেশি বাড়েনি। সেখানে আমাকে চরিত্রের প্রয়োজনে ওজন ৮৬ কিলো করতে হয়েছিল। বুঝতেই পারছেন কতটা কঠিন ছিল এই প্রসেস। একটা সময় পর কিছুতেই আমার ওজন বাড়ছিল না। আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলাম। সারা দিনে ৩ হাজার ক্যালোরির খাবার খেতে হত। সপ্তাহে ছয় দিন পাঁচ ঘণ্টা করে বক্সিংয়ের ট্রেনিং নিয়েছিলাম। এই ট্রেনিং-পর্ব ছিল টানা আট মাস। আমার এই শারীরিক পরিবর্তনের প্রভাব মনেও পড়েছিল।
আপনি কি মনে করেন খেলাধুলো মানুষকে অনেক কিছু শেখায়?
ফারহানঃ একদমই তাই। একজন মানুষের চারিত্রিক গঠনের ক্ষেত্রে খেলাধুলোর বড় ভূমিকা থাকে। খেলাধুলো থেকে আমরা অনেক কিছু শিক্ষা পাই। স্পোর্টস শেখায় পড়ে যাওয়ার পর আবার কীভাবে উঠে দাঁড়াতে হবে। আপনি যদি পড়ে যান বা হাঁপিয়ে যান তো কোনও ব্যাপার নয়। একটু বিশ্রাম নিন। আবার নতুন উদ্যমে শুরু করুন। খেলাধুলো আমাদের এক হয়ে লড়তে শেখায়। একে অপরের প্রতি সংবেদনশীল হতে শেখায়। আমাদের দেশে পড়াশোনাকে অত্যন্ত বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেটা ভাল কথা। কিন্তু পাশাপাশি খেলাধুলোকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। অনেক শিশু চায় যে বড় হয়ে স্পোর্টসম্যান হবে। আমার মনে হয় শিশুটির স্বপ্নকে সাকার করতে আমাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত।
ছোটবেলায় আপনার খেলাধুলোর প্রতি কতটা আগ্রহ ছিল?
ফারহানঃ আর পাঁচজন ভারতীয়র মতো ছোটবেলায় আমার মধ্যেও ক্রিকেটের ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল। তাই ছোট থেকেই ক্রিকেট আমি পছন্দ করি। কিন্তু তারপর একে একে ফুটবল, বাস্কেটবল, সুইমিং, আর সাইকেলিং আমার পছন্দের তালিকায় ঢুকে গেল। আর এখন বক্সিং পছন্দ করি। মাঠের বাইরে বসে যখন ফুটবল খেলা দেখতাম তখন মনে হত কী সহজ খেলা। কিন্তু মাঠে খেলতে নামলে হাড়ে হাড়ে টের পেতাম কতটা পরিশ্রম করতে হয়। আমি এই ধরনের ছবি করার সময় উপলব্ধি করি যে একটা জয়ের মুহূর্ত পাওয়ার পিছনে কত বছরের পরিশ্রম আর নিষ্ঠা থাকে।
আপনি একজন অভিনেতার পাশাপাশি একজন পরিচালক। ছবিতে অভিনয়ের সময় কি আপনার পরিচালক সত্তা কোনওভাবে জেগে ওঠে?
ফারহানঃ অভিনয়ের সময় আমি একজন অভিনেতা, আর আমি তখন নিজের চরিত্রের প্রতি সম্পূর্ণ মনোনিবেশ করি। আমি যে কোনও মূল্যে নিজের চরিত্রটাকে আরও ভালোভাবে মেলে ধরতে চাই। আর আমি জানি যে আমার জ্ঞান আমার চরিত্র অবধি সীমিত। রাকেশ স্যর বা জোয়া, এই দুজনের প্রতি আমার সম্পূর্ণ আস্থা আছে। আর আমি জানি যে এরা ভেবেচিন্তে পরিচালনা করছে। অভিনয়ের সময়ে আমি নিজের চরিত্রের মধ্যে ডুবে থাকি। পরিচালনার কাজ পরিচালকের উপর ছেড়ে দিই।
https://youtu.be/4qalsBNwZdsআপনি একাধারে পরিচালক, অভিনেতা, প্রযোজক, লেখক, গায়ক। এর মধ্যে কোন ভূমিকা আপনি বেশি উপভোগ করেন?
ফারহানঃ এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া মুশকিল। সব ক্ষেত্রেই একজন শিল্পী হিসাবে নিজস্ব সন্তুষ্টি থাকে। আমি যখন অভিনয় করি, সেটাকে উপভোগ করি। পরিচালনার সময় সেই কাজটাকে উপভোগ করি। আর কলম হাতে নতুন কিছু সৃষ্টির নেশায় মেতে থাকি। গান গাওয়ার সময় তার মধ্যে ডুবে যাই।