
শেষ আপডেট: 6 April 2022 13:00
মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের সঙ্গে একই দিনে জন্মদিন তাঁর। ১৯৭০ সালের ৬ এপ্রিল। তিনি নায়িকা ইন্দ্রাণী দত্ত (Indrani Dutta)। ডাকনাম বুবুন। সুচিত্রা সেন (Suchitra Sen) আর ইন্দ্রাণী দত্তর জন্মদিন একই দিনে। আর অদ্ভুত ভাবেই ইন্দ্রাণীর জীবনের সাথে জন্মলগ্ন থেকেই সুচিত্রা সেন জড়িয়ে আছেন।
ইন্দ্রাণীর নামের মধ্যেই রয়েছে সুচিত্রা সেনের স্পর্শ। ইন্দ্রাণীর বাবা ছিলেন ডক্টর হিমাংশুজ্যোতি দত্ত এবং মা মঞ্জুশ্রী দত্ত। তাঁদের কোল আলো করে জন্মাল এক ফুটফুটে মেয়ে। সুচিত্রা সেনের ভক্ত ছিলেন হিমাংশুজ্যোতি। তাই মহানায়িকার জন্মদিনে জন্ম নেওয়া কন্যাসন্তানের নাম রাখলেন সুচিত্রা অভিনীত সিনেমার নামেই। নীরেন লাহিড়ি পরিচালিত 'ইন্দ্রাণী' ছায়াছবিতে অভিনয় করেছিলেন উত্তমকুমার ও সুচিত্রা সেন। সে ছবির সব বিখ্যাত গান 'নীড় ছোট ক্ষতি নেই', 'ঝনক ঝনক কনক কাঁকন', 'সূর্য ডোবার পালা'। 'ইন্দ্রাণী' ছবিতে সুচিত্রা সেনের নামও ছিল ইন্দ্রাণী। সেই 'ইন্দ্রাণী' ছবি দেখেই মেয়ের নাম ইন্দ্রাণী (Indrani Dutta) রাখলেন হিমাংশুজ্যোতি। কে জানত, দত্ত পরিবারের মেয়ে ইন্দ্রাণীও একদিন বড়পর্দার নামজাদা নায়িকা হয়ে যাবেন!

ইন্দ্রাণী দত্ত ছোট থেকেই সুদর্শনা। সেই সঙ্গে নৃত্যপটিয়সী ও পড়াশোনায় মেধাবী ছিলেন। কমলা গার্লস স্কুলে পড়ার সময় থেকেই ইন্দ্রাণীর মনের ভিতর ঘুরপাক খেত নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন। যাঁর নাম সুচিত্রা সেনের চরিত্রের নামে, সে মেয়ে তো এমন স্বপ্ন দেখবেই! তবে স্বপ্ন যে বাস্তব হয়ে যাবে, তা তখন কেউই ভাবেননি।

স্কুল শেষ করে শিবনাথ শাস্ত্রী কলেজ থেকে স্নাতক হন ইন্দ্রাণী (Indrani Dutta)। সুচিত্রার নামে নাম আর সেই সঙ্গে গালে শর্মিলা ঠাকুরের মতো টোল পড়ে যে মেয়ের, সেই মেয়ের রূপে মুগ্ধ ছিল কলেজের সব ছেলেই। গুরু সুমিত্রা মিত্রর কাছে কত্থক নাচে 'প্রভাকর'ও লাভ করেন ইন্দ্রাণী। খেলাধূলা, অন্দরসজ্জা থেকে বাগান করা সবেতেই মেয়ে প্রথমা।

কলেজ শেষ করেই এল ফিল্মের অফার। একদিকে সুখেন দাসের 'পাপ পুণ্য' ছবিতে কাজ করার সুযোগ, আরেকদিকে সুশীল মুখোপাধ্যায়ের 'নদীয়া নাগর' ছবিতে বিষ্ণুপ্রিয়ার রোলে অফার। ইন্দ্রাণীর বাড়ি থেকে প্রথমে মেনে নেয়নি সুন্দরী শিক্ষিতা মেয়ের সিনেমায় আসা। কিন্তু ইন্দ্রাণীর বাবা যখন শুনলেন মেয়ে বিষ্ণুপ্রিয়ার রোলের অফার পেয়েছে তখন তিনি উচ্ছ্বসিত হয়েই সম্মতি দিলেন।
এখানেও সেই সুচিত্রা কানেকশন। কীরকম? দেবকী কুমার বসুর 'ভগবান শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য' ছবিতে নিমাই জায়া বিষ্ণুপ্রিয়ার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সুচিত্রা সেন। সেই একই চরিত্রে ইন্দ্রাণী অফার পাওয়াতে মিলে গেল বাড়ি থেকে ফিল্মে নামার সম্মতি। 'নদীয়া নাগর' আর 'পাপ পুণ্য'-- এই দুটি ছবি দিয়েই ইন্দ্রাণী দত্ত নায়িকা রূপে পরিচিতি পেয়ে গেলেন। একদিকে ঐতিহাসিক চরিত্রে অভিনয় অন্যদিকে 'পাপ পুণ্য' ছবিতে ইন্দ্রাণীর লিপে প্রথম গানই সুপারহিট। 'ভালবাসা ছাড়া আর আছে কী?' পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় অজয় দাসের সুরে আশা ভোঁসলের অবিস্মরণীয় হিট গান।
দেবশ্রী রায়, মুনমুন সেন, শতাব্দী রায়ের জমানায় ইন্দ্রাণী দত্তও (Indrani Dutta) নিজের জায়গা তৈরি করে নেন। 'তুফান', 'ব্যবধান', 'আপন আমার আপন', 'পতি পরম গুরু'-- একের পর এক হিট। তবে ইন্দ্রাণী দত্তর জীবনে ল্যান্ডমার্ক ছবি প্রভাত রায়ের 'সেদিন চৈত্র মাস'। বাংলা ছবির মরা গাঙে পাল তুলেছিল এ ছবি। কবীর সুমনের সংগীত পরিচালনায় বাংলা ছবির গানেতেও বাঁক বদল এ ছবি।
প্রযোজক জনার্দন পালকে বিয়ে করেন ইন্দ্রাণী। সুখী পরিবার তাঁদের। মাঝে অভিনয় জগত থেকে নাচের জগতে সরে গেছিলেন ইন্দ্রাণী। কিন্তু তাঁর সফল কামব্যাক 'বেলা শেষে' ছবিতে। সেও সুপারহিট। আবার 'বেলা শুরু'তেও রয়েছেন তিনি। আবার ছোট পর্দাতেও 'জীবন সাথী' সিরিয়ালে ধূসর চরিত্রে অন্যরকম গ্ল্যামারাস ইন্দ্রাণী।

বয়স পঞ্চাশ পেরিয়েও ইন্দ্রাণী আজও যৌবনসরসী। তাঁর মেয়ে রাজনন্দিনী পাল এসেছেন ফিল্মে। মা-মেয়েকে বরং দিদি-বোনই বেশি মনে হয়।

সুচিত্রা সেন ইন্দ্রাণী দত্তর জীবনেও প্রিয় নায়িকা। তাই 'আঁধি' ছবির রিমেক হলে সুচিত্রা সেনের চরিত্রে অভিনয় করা ইন্দ্রাণীর স্বপ্ন।
সুচিত্রা সেনের অন্তর্বাসও স্মারক হিসেবে রেখে দিয়েছিলেন ভক্তরা