
শেষ আপডেট: 12 May 2020 10:06
আর্মেনিয়া থেকে ফ্রান্সে এসেছেন ছবির নায়িকা অ্যানি। অ্যানি এসেছেন নিজের শিকড়ের সন্ধানে। তাঁর বাবা-মা ফ্রান্সের বাসিন্দা ছিলেন, পরে কর্মসূত্রে চলে যান আর্মেনিয়ায়। সেই ফ্রান্সে নিজের জন্মভূমি খুঁজতে এসে আঘাত পান তরুণী অ্যানি। কারণ তাঁর জানা ও শোনা সেই জায়গার আমূল পরিবর্তন! তিনি কিছুতেই মেলাতে পারেন না তাঁর ভাবনা ও কল্পনার সঙ্গে বাস্তবকে। এমন সময়, এই সন্ধানী জার্নি চলাকালীন ছবির নায়ক গঙ্গার সঙ্গে পরিচয় হয় মেয়েটির।
পরমব্রতর চরিত্রের নামই ছবিতে 'গঙ্গা'। গঙ্গা নদী যেমন ভারতের বিভিন্ন জায়গা দিয়ে বয়ে চলেছে তেমনই ছবিতে পরমব্রতর চরিত্রটিও বয়ে চলেছে স্থান থেকে স্থানান্তরে। তিনি কোনও নির্দিষ্ট একটি জন্মভূমিতে বিশ্বাসী নন। সমস্ত পৃথিবীটাকেই জন্মভূমি বা বাসভূমি মনে করেন তিনি। আর তাঁর সঙ্গে পরিচয়ের পরেই পাল্টে যায় অ্যানির শিকড় সম্পর্কে ধারণা। ছবির ভাষাও তাই ক্রসওভার। বিভিন্ন ভাষা একত্রে ব্যবহৃত হয়েছে ছবিতে।
অনিন্দ্য ছাড়াও এই ছবির সহ-চিত্রনাট্যকার সোমঋতা ভট্টাচার্য। তিনি থাকেন ফ্রান্সেই।
পরিচালক অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় জানালেন "ছবিটার শ্যুট করতে চার-পাঁচ বছর সময় লেগেছে। ২০১৪ সালে প্রথম প্যারিসে শ্যুট করি আমি। মাঝে কিছুটা বিরতি থাকলেও কাজ চলছিল ছবি নিয়েই। পরবর্তী কালে ২০১৭ সালে আবার শ্যুট করি প্যারিসেই। ফ্রান্স ও ভারতের চলচ্চিত্র ইউনিট যৌথ ভাবে তৈরি করেছে এই ছবিটি।"
এ ছবিতে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়কে প্যারিসের রাজপথে দেখা গেছে সাইকেল চালাতে। পরমব্রতর অনবদ্য অভিনয় এ ছবির সম্পদ। এছাড়াও অভিনয় করেছেন আনি হভ্যানিসিআঁ, জনাথন দুমন্তিয়ের, ভারজু, সিলভি দো নেফ প্রমুখ।
পরমব্রতকেই কেন গঙ্গার চরিত্রে নিলেন পরিচালক? অনিন্দ্য জানালেন, বাঙালির যে স্মার্টনেসের কথা আমরা সবসময় শুনে এসেছি, যে স্বতঃস্ফূর্ত ও বুদ্ধিদীপ্ত মনোভাব দিয়ে বাঙালি অনেক কিছু জয় করতে পারে, সেই স্মার্টনেস একমাত্র আছে বাঙালি অভিনেতা পরমব্রতর মধ্যেই। গঙ্গা নামের যে ভারতীয় চরিত্রটি ছবিতে আছে, সে ভিসা বা পার্সপোট ছাড়াই নিজের দেশের বাইরে ফ্রান্সে চলে এসছে, সাইকেল চালিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সে গঙ্গা নদীর মতোই বহমান, শিকড়হীন। এরকম একটা চরিত্রের জন্য পরম পারফেক্ট।
পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় নিজেও একজন অভিনেতার পাশাপাশি পরিচালকও। ফলে এমন একটি প্রথাবর্হিভূত ছবিতে তাঁর সঙ্গে কাজ করার দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে অনিন্দ্যর। তবে এরকম একটি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ছবি শ্যুট করতে গিয়ে যে সব পরিস্থিতি খুব সুখকর হয়, এমনটা তো নয়। কিন্তু সে যখ যাই হোক না কেন, এমন একটি কম বাজেটের ছবিতে পরমব্রত নিজে একজন তারকা অভিনেতা হয়েও সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন।
"কোনও কোনও ক্ষেত্রে এমনও ঘটনা ঘটেছে, যে পরিচালক হিসেবে আমি এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে, যে শ্যুটিং চলার সময়ে ক্ল্যাপ দিতে পারছি না প্রয়োজন মতো। সেখানে পরমব্রত নিজে ক্ল্যাপ দিয়ে যাচ্ছেন। আমার ধারণা, আমাদের দুজনের তরফ থেকেই খুব ইন্টারেস্টিং অভিজ্ঞতা হয়েছে।"-- বলছিলেন অনিন্দ্য।
পরমব্রত বললেন "সচরাচর আমরা যেরকম কাজ করে থাকি এই ছবিটা সেরকম নয়। এটি পরীক্ষামূলক কাজ। আর ছবিটি যে বার্তা দিতে চায় তার সঙ্গে আমি একাত্ম হতে পেরেছি।"
শ্যুটিংয়ের অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নিলেন পরম। "প্রবল ঠান্ডা ছিল তখন। অত শীতে আমি কখনও প্যারিস যাইনি। জানুয়ারি মাসে অত ঠান্ডায় শ্যুট! এরকম ঠান্ডায় বিদেশে থেকেছি পড়ার সময়ে, কিন্তু তখন ঘরের ভিতরে থাকতাম। রাস্তায় নেমে কাজ করতে হত না। ছবিটা করে বুঝলাম, এখানে যেমন চুড়ান্ত গরমে কষ্ট পাই আমরা, সেরকম চুড়ান্ত ঠান্ডাতেও একই রকম কষ্ট হয় ওদেশেও। আর সামগ্রিক ভাবে ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতা খুব ভালো। এমন ছবি হয় না অন্তত আমাদের দেশে।"-- বললেন তিনি।

'হোমল্যান্ড ... লা পাত্রি' ছবিটি ২০১৮ সালে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আন্তর্জাতিক বিভাগে দেখানো হয়েছিল। এছাড়াও ছবিটি দাদাসাহেব ফালকে ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০১৯-এ পুরস্কৃত হয় দিল্লিতে। হায়দ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২০-তেও পুরস্কার পায় ছবিটি।
এই বিশ্বায়নের যুগে শিকড়ের টানে ঘরের ফেরার গল্প বলছে অনিন্দ্যর ফরাসি-ভারতীয় ছবি 'হোমল্যান্ড ... লা পাত্রি'। দেখুন ট্রেলর।
https://www.youtube.com/watch?v=sHtnjNaZ6bI