এ নিয়ে মুখ খুলেছেন ইমন। নিজেই জানিয়েছেন অসুস্থতার কথা। শুধু কি তাই, যে সমস্ত মহিলা এই একই রোগে আক্রান্ত তাঁদের জন্যও রয়েছে তাঁর টিপস।

ইমন চক্রবর্তী
শেষ আপডেট: 18 May 2025 16:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘদিন ধরেই PMS-এ আক্রান্ত সঙ্গীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী। শরীরচর্চা থেকে খাদ্যাভাসে পরিবর্তন চলছে সবকিছুই, তবু এই রোগ যাওয়ার নয়। এবার এ নিয়ে মুখ খুলেছেন ইমন। নিজেই জানিয়েছেন অসুস্থতার কথা। শুধু কি তাই, যে সমস্ত মহিলা এই একই রোগে আক্রান্ত তাঁদের জন্যও রয়েছে তাঁর টিপস। সমাজমাধ্যমে ইমন লিখেছেন, "যদি ওই দিনগুলোতে কিছু করতে ইচ্ছে না করে, করবেন না। শরীরকে বিশ্রাম দিন। এরপর আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসুন।" তাঁর কথায়, "বহুদিন ধরেই আমি এই রোগ বয়ে নিয়ে চলেছি। চেষ্টা করছি মানিয়ে নেওয়ার। আমি জানি প্রতিবার এই সমস্যা কাটিয়ে উঠব।"
প্রশ্ন হল কি এই PMS, যা নিয়ে সমাজমাধ্যমে খোলাখুলি লিখতে হল ইমনকে?
PMS-এর সম্পূর্ণ নাম প্রি-মেন্সট্রুয়াল সিনড্রম। অর্থাৎ ওভিউলেশন পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর ও পরবর্তী ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার মাঝে যে দিনগুলি থাকে সেই সময় শরীরে তথাকথিত 'দুষ্টু' হরমোনগুলি সক্রিয় হয়ে ওঠে। যার প্রভাব শুধু যে শরীরে পড়ে তা নয়, প্রভাব পড়ে মনেও।
উপসর্গ
আসতে পারে মানসিক অবসাদ। অনেকেই হারিয়ে ফেলেন কাজ করার ইচ্ছে। স্তনে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। মাথা ব্যথা, পেট ব্যথা, অকারণে মনখারাপ, কান্না পাওয়ার মতো লক্ষ্মণও দেখা যায়। কারও ক্ষেত্রে পেটখারাপ, বদহজম, খাবারে অরুচির মতো উপসর্গও দেখতে পাওয়া যায়। লিবিডোতে পরিবর্তনও এই রোগের অন্যতম লক্ষ্মণ। এখানেই শেষ নয়, হাড়ে ব্যথা, পেশীতে টানও দেখা যায় কিছু ক্ষেত্রে।
কেন হয়?
পিএমএস ঠিক কোন কোন হরমোনের বাড়া-কমায় হয়ে থাকে তা নিয়ে রয়েছে নানা ধরনের মতামত। অনেক চিকিৎসকের মতে এর অন্যতম কারণ হল মস্তিষ্কের সেরোটোনিনের ওঠানামা। মানসিক অবস্থা নিয়ন্ত্রণে মস্তিষ্কের এই রাসায়নিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে মনে করা হয়। পিরিয়ডসের আগে অপর্যাপ্ত পরিমাণে সেরোটোনিন হতাশা, বিষণ্ণতা, অনিচ্ছাকৃত দুঃখবিলাসিতা ডেকে নিয়ে আসতে পারে। সমস্যা হতে পারে ঘুমের ক্ষেত্রেও।
কী করা উচিৎ?
পিএমএসে নির্দিষ্ট কোনও ওষুধ নেই। শরীরচর্চা, ঠিকমতো ডায়েটের মাধ্যমে এই উপসর্গ কম করা যেতে পারে। এছাড়া রিল্যাক্সেশন থেরাপি, ম্যাসাজ থেরাপিরও সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। ব্রিস্ক ওয়াকিং, জগিং, সাঁতার কাটাও এ ক্ষেত্রে বেশ উপকারী। তবে কষ্ট যদি মাত্রা ছাড়ায় সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা অবশ্যই দরকার।
একই সঙ্গে 'অজুহাত' না ভেবে আশাপাশের মানুষদের সংবেদনশীলতাও এই সময় খুব জরুরি। হরমোনের উপর নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। তবে জীবনযাত্রায় লাগাম দিতে আপনিই পারেন। ইমন পেরেছেন, চালিয়ে যাচ্ছেন পিএমএসের সঙ্গে লড়াই।