
মন্দিরা
শেষ আপডেট: 13 April 2025 17:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী তিনি। মন্দিরা বেদী (Mandira Bedi) তাঁর দীর্ঘ কেরিয়ারে টেলিভিশন, সিনেমা এবং ক্রীড়াজগত—তিনটিতেই দাপটের সঙ্গে কাটিয়েছেন। কিন্তু ২০০৩ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে যখন তিনি ক্রিকেট ব্রডকাস্টিংয়ে পা রাখেন, তখনকার অভিজ্ঞতা মোটেও মসৃণ ছিল না। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের এক কথোপকথনে মন্দিরা বেদী খোলাখুলি বললেন, কীভাবে সে সময় তাঁকে লিঙ্গবৈষম্যের মুখে পড়তে হয়েছিল।
‘আমি নিজেকে প্রশ্ন করতাম, আমি এখানে কেন?’
‘শান্তি’ ও ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’-র মতো জনপ্রিয় সিরিয়াল ও সিনেমার মুখ মন্দিরা, যখন ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে ক্রিকেটের স্টুডিও সেটে প্রথমবার পা রাখেন, তখন অনেকেই তাঁর জায়গা মেনে নিতে পারেননি। তিনি বলেন, “আমি নিজেকে উপেক্ষিত, অপমানিত মনে করতাম। নিজেকে অক্ষম মনে হতো। ভাবতাম, ‘আমি এখানে কী করছি?’ নিজের উপর সন্দেহ হতো, মনে হতো, ‘সমস্যা বোধহয় আমারই।’
প্রশ্ন করলেও উপেক্ষা, উত্তর মেলেনি
তিনি জানান, তাঁকে ক্রিকেট ব্রডকাস্টিংয়ে আনা হয়েছিল সাধারণ দর্শকের মনের সব প্রশ্নগুলো সর্বসমক্ষে মেলে ধরার জন্য। কিন্তু ক্রিকেট কিংবদন্তিরা তাঁর প্রশ্ন প্রায়শই উপেক্ষা করতেন বা গুরুত্ব দিতেন না। এ অভিজ্ঞতা তাঁকে ভীষণভাবে মানসিকরূপে আঘাত করেছিল। করিনা কাপুর খানের এক শোতে এসে, মন্দিরা বলেন একমাত্র ব্যক্তি যিনি তাঁকে সম্মান দিয়েছিলেন, তিনি ছিলেন করিনার শ্বশুর ও প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক মানসুর আলি খান পতৌদি।
এক সপ্তাহের মধ্যে বদলে দিলেন পরিস্থিতি
শুরুটা কষ্টকর হলেও দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই মন্দিরা নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে পান। তিনি বলেন, ‘আমি বুঝতে পারলাম, কোনও চাপ নেই, কোনও প্রশ্ন টেবিলের বাইরে নয়। আমার মাথায় যে প্রশ্ন আসছে, তা অনেকেরই আসতে পারে। কেউ যদি আমাকে অসম্মান করে, আমি সেই প্রশ্ন বারবার করব, যতক্ষণ না উত্তর পাই। তখনই পরিবেশ বদলাতে শুরু করল। আমি তখন বুঝেছিলাম, আমি প্রেজেন্টারের চেয়ারে বসে আছি, প্রশ্ন করা আমার দায়িত্ব—আর আমি করবই।’
আজকের দিনে কতটা বদলেছে পরিস্থিতি?
দু’দশকের বেশি সময় কেটে গেছে সেই ঘটনার পর। কিন্তু পরিস্থিতি আদৌ কতটা বদলেছে? মন্দিরা বলেন, ‘যখন বলা হয়েছিল এটা একটা ‘বয়েজ ক্লাব’, এখনও ঠিক তেমনই আছে। আমি সম্প্রতি একটা টুর্নামেন্ট করেছি—কিছুটা বদল এসেছে, কিন্তু পুরোপুরি নয়। আপনি বাইরে থেকে এলে, আপনি খেলার বিষয়ে জানলেও, আলাদা চোখে দেখা হয়। আপনাকে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে, নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে, আর লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।’ মন্দিরা বেদীর এই অকপট স্বীকারোক্তি আজও ক্রীড়াক্ষেত্রে নারীদের পথ চলার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। তবে তাঁর সাহসিকতা এবং দৃঢ়তা প্রমাণ করে, পরিবর্তনের পথ হয়তো কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়।