
ঋত্বিক ঘটক
শেষ আপডেট: 3 March 2025 17:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপারস্টারদের নাম পরিবর্তন কিংবা নামে এক্সট্রা অক্ষ জুড়ে দেওয়া নতুন নয়। নাম বদল করার তালিকায় সলমন থেকে রজনীকান্ত, ক্যাটরিনা থেকে অজয়, এমনকি অমিতাভও বদলেছেন নিজের নাম। টলিউডেও দেব, জিৎ কিংবা চিরঞ্জিতের নাম ‘পরিবর্তন’ও মানুষের অজানা নয়। কিন্তু এ ঘটনা বোধহয় নতুন, যেখানে শুধু মাস্টারমশাইয়ের কথা নামটাই বদলে গেল দেশের স্বনামধন্য এক পরিচালকের। আর ‘মাস্টারমশাই’ও যে সে মানুষ ছিলেন না। বাংলা ছায়াছবির মায়েস্ত্রো তিনি। মাস্টারমশাই ছিলেন পরিচালক ঋত্বিক ঘটক (Ritwik Ghatak, Ritwik Ghatak films)। এবং ছাত্রটি, যাঁর নাম পরিবর্তন হল, তিনি বিধু বিনোদ চোপড়া।
সে সময়ে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইন্সটিটিউটে পড়াশোনা করছেন বছর পঁচিশের বিনোদ কুমার চোপড়া (Vidhu Vinod chopra)। আর ইন্সটিটিউটে পড়াতে আসতেন পরিচালক ঋত্বিক ঘটক। একদিন হঠাৎ করেই ছাত্রের নাম জানতে চান ঋত্বিকবাবু। জবাবে বিধু বলেন, ‘বিনোদ কুমার চোপড়া’। নাম শুনেই হাসিতে ফেটে পড়েন ঋত্বিক ঘটক। তারপর বলেন, ‘তুমি কোনওদিন পরিচালক হয়ে উঠতে পারবে না!’ আশাহত হয়ে পড়েন বিধু। জিজ্ঞেস করেন, ‘কেন?’
View this post on Instagram
‘স্যর’ ঋত্বিক বলেন, ‘এটা কোনও নাম হল? বিনোদ কুমার চোপড়া! নাম হতে হবে, এমন। ঋত্বিক ঘটক। এমন হবে নাম!’ তারপর ঋত্বিক ঘটক জিজ্ঞেস করেন, ‘তোমাকে বাড়িতে কী নামে ডাকে?’ বিনোদ কুমার চোপড়া বলেন, ‘বিধু’। শুনে ঋত্বিক বলেন, ‘হ্যাঁ এটাই নাম। বিধু বিনোদ চোপড়া।’
গোটা ঘটনাটি IFP season 14-এর মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলতে থাকেন আজকের বিধু বিনোদ চোপড়া। তিনি এও বলেন, তাঁর নাম বদলের গোটা কৃতিত্বই ঋত্বিক ঘটকের।
আজ বিধু বিনোদ চোপড়া একজন বিখ্যাত ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রযোজক এবং চিত্রনাট্যকার। হিন্দি চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। 'খামোশ' (১৯৮৫) ছবির মাধ্যমে তাঁর আত্মপ্রকাশ। করেছেন 'পরিন্দা' (১৯৮৯), '১৯৪২: আ লাভ স্টোরি' (১৯৯৪) এবং 'মিশন কাশ্মীর' (২০০০) এর মতো ফিল্ম। প্রশংসা এবং সমালোচনা দুইই অর্জন করেছেন বিধু। অর্জন করেন। তাঁর সর্বশেষ ছবি, 'টুয়েলভথ ফেল' ছিল আইপিএস অফিসার মনোজ কুমার শর্মার বাস্তব জীবনের গল্প এবং ব্যর্থতা থেকে সাফল্যের দিকে অনুপ্রেরণার যাত্রা।