আজ রাহুল দেব বর্মনের জন্মদিন। ২৭ জুন, ১৯৩৯—এই দিনে জন্মেছিলেন ভারতীয় সঙ্গীতের এক অমর কিংবদন্তি, আদরের পঞ্চমদা।

আর ডি বর্মন
শেষ আপডেট: 27 June 2025 13:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ রাহুল দেব বর্মনের জন্মদিন। ২৭ জুন, ১৯৩৯—এই দিনে জন্মেছিলেন ভারতীয় সঙ্গীতের এক অমর কিংবদন্তি, আদরের পঞ্চমদা। তাঁর সুর যেন ছিল এক জাদু, যা সময়কে ছাপিয়ে আজও বেজে চলে হৃদয়ে। আর আজকের দিনে ফিরে দেখা যাক সেই মুহূর্তে, যখন শাম্মি কাপুরকে মুগ্ধ করে দিয়েছিলেন তরুণ পঞ্চম, আর রচনা করেছিলেন বলিউডের এক সুরের ইতিহাস—‘তিসরি মঞ্জিল’।
সুরের রাজপথে প্রথম ধাক্কা
তখনও সবে শুরু আরডির কেরিয়ার। 'তিসরি মঞ্জিল' ছবিতে প্রথমে সুর দেওয়ার কথা ছিল তাঁর বাবা, কিংবদন্তি এস.ডি. বর্মনের। আর মুখ্য ভূমিকায় থাকার কথা ছিল দেব আনন্দের। কিন্তু ভাগ্য অন্য কিছু ভেবে রেখেছিল। এস.ডি. বর্মন অসুস্থ হয়ে পড়লেন, আর দেব আনন্দ চলে গেলেন ‘গাইড’-এর শুটিংয়ে। নতুন হিরো হয়ে এলেন শাম্মি কাপুর, আর সুরকারের খোঁজে ডাক পড়ল আর.ডি. বর্মনের।
‘অডিশন’ যা বদলে দিল ইতিহাস
কিন্তু সমস্যা ছিল—শাম্মি কাপুর তখনকার সবচেয়ে বড় স্টার, আর তিনি অভ্যস্ত ছিলেন শঙ্কর-জয়কিশন বা ও.পি. নাইয়ারের মতো দুঁদে সুরকারদের সঙ্গে কাজ করতে। এই তরুণ, অল্প পরিচিত আর.ডি. বর্মণ তাঁর পছন্দের তালিকায় ছিলেন না। অনেক অনুরোধে, স্ক্রিপ্টরাইটার সচিন ভৌমিক ও জয়কিশনের হস্তক্ষেপে শাম্মি রাজি হলেন একটা ‘অডিশন’-এ। চাপ ছিল তুঙ্গে। প্রথমে আর.ডি. একটি নেপালি লোকসঙ্গীত-প্রভাবিত সুর শোনান—যেটা পরে হয় ‘দিওয়ানা মুঝসা নয়’। কিন্তু শাম্মি থামিয়ে দেন, বলেন, ‘এইটা আমি জয়কিশনকে দিয়ে দেব। অন্য কিছু শোনাও।’ এখানেই শেষ নয়। পঞ্চম এবার বাজিয়ে শোনান—‘ও মেরে সোনা’, ‘আজা আজা’, আর শেষমেশ ‘ও হসিনা জুলফোঁওয়ালি’। গান শুনে উঠে দাঁড়িয়ে শাম্মি কাপুর বললেন, ‘তুমি পাশ করেছো। তুমিই আমার মিউজিক ডিরেক্টর।’

একের পর এক হিট, সুরেলা সম্মোহন
‘ও হসিনা জুলফোঁওয়ালি জানে জাঁহাঁ’ ছিল ছবির প্রথম রেকর্ড হওয়া গান। অবিশ্বাস্য হলেও, প্রায় ৮০ জন মিউজিশিয়ান—তার মধ্যে ৪০ জন ভায়োলিন বাদক—এই গানে অংশ নেন। একটিই টেকে গানটি রেকর্ড হয়! ট্রাম্পেট, অ্যাকোস্টিক গিটার, ট্রায়াঙ্গেল, স্যাক্সোফোন—এক অপূর্ব মিশ্রণ। ‘আজা আজা ম্যায় হুঁ প্যার তেরা’—এটি ছিল আরডির নিজের প্রিয় গান। এর গিটার রিফ এতটাই বিখ্যাত হয় যে পরবর্তীতে আশার সঙ্গে বাজাতে ইচ্ছুক গিটারিস্টদের জন্য এটি এক টেস্ট পিসে পরিণত হয়। এছাড়াও ‘তুমনে মুঝে দেখা’, ‘ও মেরে সোনা’, ‘দেখিয়ে সাহেবোঁ’—এই গানগুলো যেন এক একটা রত্ন, যা আজও বলিউড সাউন্ডট্র্যাকের সোনালি অধ্যায়।
পঞ্চম যুগের সূচনা
‘তিসরি মঞ্জিল’ শুধু বক্স অফিসে হিট নয়, এর গানগুলো একেবারে তোলপাড় ফেলে দেয়। আর.ডি. বর্মন তাঁর প্রথম বড় ব্রেকে এমন কিছু দিয়ে ফেললেন, যা পুরো বলিউড মিউজিকের ধারা বদলে দিল। শাম্মি কাপুর আর আরডি বর্মনের এই যাত্রা ছিল বলিউড সঙ্গীতের এক মাইলফলক—যার প্রতিধ্বনি আজও শোনা যায়।