
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 11 April 2025 19:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘প্যান-ইন্ডিয়া’ শব্দটি আজকের দিনে পরিচিত হলেও, এই ধরণের সর্বভারতীয় ছবির ধারণা নতুন নয়। নব্বইয়ের দশকেই এমন এক ছবি মুক্তি পেয়েছিল, যা তৈরি হয়েছিল একাধিক ভাষায়, তিনজন তৎকালীন সুপারস্টারকে নিয়ে, এবং যার বাজেট ছাড়িয়ে গিয়েছিল সমস্ত রেকর্ড। কিন্তু বক্স অফিসে সেটিই হয়েছিল ভারতের সবচেয়ে বড় ব্যর্থ ছবি।
১৯৮৮ সালে কন্নড় অভিনেতা এবং পরিচালক ভি. রবিচন্দ্রন এমন একটি ছবি তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেন, যা দেশের নানা ভাষাভাষী দর্শকদের একসঙ্গে যুক্ত করতে পারে। ছবির নাম ছিল ‘শান্তি ক্রান্তি’। এটি একসঙ্গে কন্নড়, তামিল, তেলুগু এবং হিন্দি— এই চারটি ভাষায় নির্মিত হয়। ছবির চিত্রনাট্য, প্রযোজনা ও পরিচালনা করেন স্বয়ং রবিচন্দ্রন। কন্নড় ভার্সনে তিনিই মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেন। তেলুগু সংস্করণে ছিলেন নাগার্জুনা, আর তামিল ও হিন্দি সংস্করণে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন রজনীকান্ত। ছবিতে আরও ছিলেন জুহি চাওলা, খুশবু ও অনন্ত নাগ।
ছবিটির বাজেট ছিল প্রায় ১০ কোটি টাকা— ১৯৯১ সালে যা ছিল ভারতের সর্বকালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল চলচ্চিত্র, তখনকার ‘অজুবা’র ৮ কোটি বাজেটকেও ছাপিয়ে গিয়েছিল। বিশাল সেট, চূড়ান্ত ক্লাইম্যাক্স, এবং উন্নত ভিএফএক্সের জন্য বিরাট অর্থব্যয় হয়েছিল।
‘শান্তি ক্রান্তি’ প্রথম মুক্তি পায় ১৯৯১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কন্নড় ও তেলুগু ভাষায়, এরপর দু’সপ্তাহ পরে তামিল ও হিন্দি সংস্করণ। তবে ছবিটি কোনো ভাষাতেই আশানুরূপ সাড়া পায়নি। এত তারকা-সমৃদ্ধ কাস্ট থাকা সত্ত্বেও ছবি ভালো ওপেনিংই পায়নি। চারটি সংস্করণ মিলিয়ে ছবিটি মোটে ৮ কোটি টাকা আয় করে, যা নির্মাণ ব্যয়ও পুষিয়ে দিতে পারেনি। বিপুল মার্কেটিং খরচ মিলিয়ে এই ছবি হয়ে ওঠে সেই সময়ের ভারতের সবচেয়ে বড় বক্স অফিস ব্যর্থতা।
এই ব্যর্থতা রবিচন্দ্রনের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ছবিটি বানাতে নিজের সমস্ত সঞ্চয় বিনিয়োগ করেছিলেন। ক্লাইম্যাক্স দৃশ্যের জন্য ৫০ একর খালি জমি ধার নিয়েছিলেন, ছবির গ্র্যান্ড লুকের জন্য ব্যয় করেছিলেন প্রচুর অর্থ। সব মিলিয়ে তাঁর ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল প্রায় ১০ কোটি টাকা।