জীবনের পথে কত মুখের দেখা মেলে। কেউ আসে হাওয়ার মতো, কেউ থেকে যায় স্মৃতির ভিতরে। কিন্তু সব মুখ কি মনে রাখা যায়?

শেষ আপডেট: 5 November 2025 16:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জীবনের পথে কত মুখের দেখা মেলে। কেউ আসে হাওয়ার মতো, কেউ থেকে যায় স্মৃতির ভিতরে। কিন্তু সব মুখ কি মনে রাখা যায়? অভিনেত্রী শতাব্দী রায় ঠিক সেই নিয়েই মজার এক অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করলেন সোশ্যাল মিডিয়ায় — একখানি ছোট্ট ভিডিও, অথচ তার ভেতরে লুকিয়ে আছে জীবনযাপনের মিষ্টি অথচ সত্যি।
ভিডিওটিতে শতাব্দীকে দেখা গেল এক চেনা হাসিতে গল্প করতে। বললেন, “চলার পথে এমন কত মানুষ, কত অভিজ্ঞতা! মাঝে মাঝেই কেউ এসে বলে, চিনতে পারছেন?” তিনি হেসে বলেন, “অনেক সময় চিনে ফেলি, আবার অনেক সময় না চিনলেও ভদ্রতার খাতিরে বলি, ‘হ্যাঁ, চিনতে পারছি।’ আসলে কথাটা ওখানেই শেষ হওয়া উচিত।”
কিন্তু গল্প তো সেখানেই থামে না। শতাব্দী মজার ছলে যোগ করলেন, “তারপরই আবার প্রশ্ন আসে — কোথায় দেখেছেন বলুন তো? তখন লজ্জায়, সংকোচে বলি, মনে পড়ছে না। সঙ্গে সঙ্গে উত্তর আসে, ‘ওই যে মনে আছে না, আপনি চুরাশি সালে... বা চুরানব্বই সালে... কিংবা ২০২৪ সালে এক ফাংশনে এসেছিলেন, আমি তখন দরজাটা খুলে দিয়েছিলাম! সেইটা আমি।’ ভাবুন তো, ওই সব মনে রাখা কি আদৌ সম্ভব?”
এই মিষ্টি কৌতুকের ভেতরে লুকিয়ে আছে অভিনেত্রীর নিঃশব্দ হাসিও—আর জীবনের এক গভীর বাস্তবতা। শতাব্দী যেন নিজেরই এক পুরনো স্মৃতি টেনে আনলেন গল্পে। বললেন, “আমাদের এক আত্মীয়া ছিলেন, নাম দুর্গা। তিনি একটু মানসিকভাবে অস্থির ছিলেন। আমাদের বিয়েবাড়িতে গেটের সামনে বসে থাকতেন। কেউ এসে বলত, ‘দুর্গা, আমায় চিনতে পারছিস?’ তিনি হ্যাঁ বলেই মাথাটা মাটির দিকে নামিয়ে দিতেন। তারপর যখন কেউ জিজ্ঞেস করত, ‘কে বল তো?’ তখন ঠোঁট উল্টে এমন ভঙ্গি করতেন, যেন কিছুই জানেন না।”
গল্পের শেষে শতাব্দীর কণ্ঠে মৃদু হাসির সঙ্গে একরাশ ভাবনা—“আমারও মাঝে মাঝে মনে হয়, দুর্গার মতো অমন করবার সময় এসে গিয়েছে।”
মিষ্টি, অথচ, খানিক খোঁচা-মেশানো আত্মস্বীকার! একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রীর জীবনের রোজকার অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে উঠে আসে এক সাধারণ মানুষের ক্লান্তি, সৌজন্য আর একফোঁটা হাস্যরস। মনে হয়, হয়তো সবার ভেতরেই একটু করে সেই ‘দুর্গা’ লুকিয়ে আছে—যে চেনে, অথচ না চিনে থাকার ভান করে। শেষে রয়ে যায় শুধু শতাব্দী রায়ের শান্ত হাসি আর এক সরল বোধ—সব মুখ মনে রাখা যায় না, তবু সৌজন্য, মমতা আর একটু খেলার মেজাজেই তো জীবনটাকে টিকিয়ে রাখতে হয়।