সোনাগাছির এক যৌনকর্মী (প্রিয়াংকা সরকার) একা হাতে নিজের ছেলেকে মানুষ করে। মায়ের জন্মদিনে ছেলে যখন কেক নিয়ে আসে দেখতে পায় মা গলা কাটা অবস্থায় পড়ে আছে । পুলিশ অফিসার অনিমেষ (বিক্রম চট্টোপাধ্যায়) মা হারা ছেলেটিকে কথা দেয় যে তার মাকে খুন করেছে তাকে ছেলের পায়ে এনে ফেলবে।

কেমন হল ছবিটি? গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 29 June 2025 16:31
ছবি: মৃগয়া
অভিনয়ে: ঋত্বিক, বিক্রম, সৌরভ, প্রিয়াঙ্কা
পরিচালনা: অভিরূপ ঘোষ
দ্য ওয়াল রেটিং ৮/১০
'মৃগয়া' বললেই মনে পড়ে মৃণাল সেন আর মিঠুন চক্রবর্তীর নাম। সেই কালজয়ী ছবি। কিন্তু একই নামে অন্য এক সাহসী মৃগয়ার গল্প বললেন পরিচালক অভিরূপ ঘোষ। বারবাড়ির আড়ালে রহস্যের কিনারা করতে পুলিশ অফিসাররা করলেন মৃগয়া। এমন টানটান অ্যাকশন ছবি টলিউডেও যে হতে পারে, তা করে দেখাল এই ছবি। শিকারের ধারণা ছবিতে নানাভাবে আবর্তিত হয়। যেখানে একে অন্যকে শিকার করতে থাকে।
সোনাগাছির এক যৌনকর্মী (প্রিয়াংকা সরকার) একা হাতে নিজের ছেলেকে মানুষ করে। মায়ের জন্মদিনে ছেলে যখন কেক নিয়ে আসে দেখতে পায় মা গলা কাটা অবস্থায় পড়ে আছে । পুলিশ অফিসার অনিমেষ (বিক্রম চট্টোপাধ্যায়) মা হারা ছেলেটিকে কথা দেয় যে তার মাকে খুন করেছে তাকে ছেলের পায়ে এনে ফেলবে। বিপজ্জনক অপরাধীকে ধরার কাজে অনিমেষকে সাহায্য করেন আরও তিন পুলিশ অফিসার, যে তিনটি চরিত্রে ঋত্বিক চক্রবর্তী, অনির্বাণ চক্রবর্তী ও রিজওয়ান রব্বানি শেখ। এ ছবির গল্প সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি। বাস্তবে ১৩ দিনের রূদ্ধশ্বাস অপারেশনের নেতৃত্বে ছিলেন কলকাতার বড়তলা থানার তৎকালীন ওসি দেবাশিস দত্ত। দেবাশিসবাবুর তত্ত্বাবধানে অভিযান চালাতে তৈরি হয়েছিল বিশেষ টিম। উত্তরপ্রদেশে পৌঁছে ছদ্মবেশে স্থানীয় পুলিশকে ঘুণাক্ষরে টের পেতে না দিয়ে রীতিমতো সিনেমার কায়দায় ১৩ দিন ধরে তাড়া করেছিল পুলিস। দুই খুনিকে উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুর অবধি তাড়া করে কি ধরতে পেরেছিল পুলিস? মৃগয়া' ছবিতে ওই বাচ্চা ছেলেটির পায়ে কি অপরাধীকে এনে ফেলতে পারবে পুলিস?
![]()
এভাবেও যে অ্যাকশন বাংলা ছবি করা যায়! তাক লাগিয়ে দিয়েছেন পরিচালক অভিরূপ ঘোষ। ছবির শুরুর থেকে মনে হচ্ছিল এই টানটান উত্তেজনা পরিচালক ধরে রাখতে পারবেন তো? তিনি কিন্তু শেষ অবধি তা পেরেছেন।
অভিনয়ে ঋত্বিক চক্রবর্তীকে এমন অ্যাকশনে আমরা আগে দেখিনি। আপন ভোলা ঋত্বিক এখানে যেন অক্ষয়কুমার হয়ে অ্যাকশনে। অথচ অ্যাকশনের সঙ্গে মিশেছে তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত সংলাপ। ঋত্বিককে যে এমন চরিত্রে ভেবেছেন অভিরূপ তা তাঁর কৃতিত্ব।
বিক্রম চট্টোপাধ্যায় অভিনয়ে মাতিয়ে দিয়েছেন দর্শককে। অনিমেষ পুলিশ অফিসারের গাম্ভীর্যে । সাবলীল। তবে পুলিশ অফিসার অনিমেষের সঙ্গে এক দেখাতেই পতিতার প্রেম, ঘর বাঁধা অতিরঞ্জিত হয়েছে, যা ছবির মান কিছুটা হলেও নামিয়ে দিয়েছে । অনিমেষকে দেবতা না বানালেও চলত। দুরন্ত কমেডি মিশ্রিত বুদ্ধিদীপ্ত অভিনয়ে অনির্বাণ চক্রবর্তী। রিজওয়ান রব্বানি শেখ যথাযথ। যৌনকর্মীর চরিত্রে প্রিয়াংকা সরকার বিশ্বাসযোগ্য। তাঁর ছেলের চরিত্রে তৃষানজিৎ চৌধুরী অসাধারণ অভিনয় করেছে। শিশুশিল্পীকে দেখে মাস্টার তাপুকে মনে পড়ে যায়।
এই ছবিতে সবথেকে সেরা খলনায়ক রূপে সৌরভ দাস। বলিউডের খলনায়কদের থেকে তিনি কোনও অংশে কম নন। গা ছমছমে লুক থেকে ভয়ংকর অভিনয়ে এ ছবির তুরূপের তাস তিনিই। আইটেম নাচে পর্দায় আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায়। তবে অনেক অভিনেত্রীই ছবিতে যৌনকর্মীর রোল করেছেন কিন্তু তাঁদের অভিনয় বাস্তব হয়ে ওঠেনি। ছবির আবহ ও মিউজিক যথাযথ।
শুভদীপ নস্করের সিনেমাটোগ্রাফি এই ছবির গতি বাড়িয়েছে। তেমনই দুরন্ত সংলাপ সৌমিত দেবের। সব দিক বিবেচনা করে বলা যায়, এ ছবি দেখে আপনি হতাশ হবেন না ।আপনার পয়সা উসুল হয়ে যাবে।