প্রসঙ্গত, ‘দ্য বেঙ্গল ফাইল্স’ তৈরি হয়েছে ১৯৪৬ সালের ১৬ অগস্টের 'ডায়রক্ট অ্যাকশন ডে'কে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, ইতিহাস দেখানোর নামে ছবিটি আসলে বাংলায় সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়ার প্রচেষ্টা।

শেষ আপডেট: 17 August 2025 20:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘দ্য বেঙ্গল ফাইল্স’ নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। এ বার মুখ খুললেন বর্ষীয়ান পরিচালক গৌতম ঘোষ। রবিবার এক ভিডিওবার্তায় দেশভাগ ও বাংলা ভাগের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি জানান, স্বাধীনতার লড়াইয়ে বাংলার অবদান সবচেয়ে বেশি হলেও, শেষ পর্যন্ত দেশভাগের শিকার হয়েছিল বাংলাই। তবে তাঁর বক্তব্যে একবারও সিনেমার নাম বা পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রীর নাম উচ্চারণ করেননি গৌতম। তবে নেটিজেনদের একাংশের মতে, সমালোচনার নিশানায় ছিলেন ওই ছবি ও তার নির্মাতা।
গৌতম বলেন, “১৯৪৭ সালে আসলে ভারত ভাগ হয়নি। ভাগ হয়েছিল বাংলা আর পঞ্জাব। যারা সবচেয়ে বেশি লড়াই করেছিল ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে, তাদেরই ভাগ করা হল।” আন্দামানের সেলুলার জেলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি যোগ করেন, “ওই জেলে বন্দিদের তালিকায় ৯০ শতাংশই বাঙালি নাম। তার পরেই পঞ্জাবি। অন্য জাতির নাম খুবই কম। ফলে বোঝাই যায় কারা লড়াই করেছিল।”

পরিচালকের মতে, দেশভাগ বা দাঙ্গার মতো বিষয় নিয়ে কাজ করতে হলে গবেষণা অপরিহার্য। “বাংলা ভাগের নানা কারণ আছে। সেগুলো জানতে হলে ভাবতে হবে, খুঁটিয়ে দেখতে হবে,” বলেন তিনি। ভিডিয়ো বার্তার শেষদিকে গৌতম বলেন, “বাংলাকে বারবার হেনস্থা করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু কখনও পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না। বাঙালি সেটা হতে দেবে না।” তাঁর বার্তায় ধ্বনিত হয় ‘জয় বাংলা’ও।
প্রসঙ্গত, ‘দ্য বেঙ্গল ফাইল্স’ তৈরি হয়েছে ১৯৪৬ সালের ১৬ অগস্টের 'ডায়রক্ট অ্যাকশন ডে'কে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, ইতিহাস দেখানোর নামে ছবিটি আসলে বাংলায় সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়ার প্রচেষ্টা। শনিবার কলকাতার এক পাঁচতারা হোটেলে ছবির ট্রেলার লঞ্চের অনুষ্ঠান ছিল। সেখানেই মাঝপথে থামিয়ে দেওয়া হয় ট্রেলার লঞ্চের অনুষ্ঠান। অভিযোগ ওঠে বিবেক ও তাঁর টিমের ট্রেলার লঞ্চের অনুমতি ছিল না। যদিও বিবেক এই অভিযোগ অস্বীকার করেন।
ইতিমধ্যেই চলচ্চিত্র জগতের অনেকেই এই বিষয়ে পক্ষে বা বিপক্ষে মুখ খুলেছেন। রাজ্যের শাসক দলের অভিযোগ, ভোটের আগে এই সিনেমার মুক্তি আদপে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিজেপির পাল্টা দাবি, ছবিটি পুরোপুরি সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি।