
শেষ আপডেট: 18 August 2023 10:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৬৫ বছরের হিরো সানি দেওলের 'গদর-টু' (Gadar 2) ছবি বক্স অফিসে (box office) ঝড় তুলেছে। বলিউডের ফ্লিম ক্রিটিকরা বলছেন, এ যেন সুনামি। ওটিটি-র ভরা বাজারেও ফের প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে সিলভার স্ক্রিন। সিনেমা শেষ হয়ে যাওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, প্রেক্ষাগৃহের মধ্যেই উদ্বাহু নৃত্য করছেন দর্শকরা। এই তো চাই।
ওদিকে ৭২ বছরের বৃদ্ধ হিরো রজনীকান্তও কম যাচ্ছেন না। সুপারস্টার রজনীর 'জেলার' ছবিও সুপার ডুপার হিট। বক্স অফিসে (box office) দাপিয়ে ব্যাটিং করছে 'জেলার' (Jailer)। উইকেন্ড পরের কথা, সপ্তাহের অন্য দিনগুলোতেও টি-টোয়েন্টির মতই পারফরমেন্স ছবিটির। মুক্তি পাওয়ার পর অষ্টম দিন তথা বৃহস্পতিবার রজনীকান্তর ছবি ১০ কোটি টাকার ব্যবসা করেছে। ঘরোয়া বাজারে তাদের প্রথম সপ্তাহের আয় ২৩৫ কোটি টাকা। শুধু তামিল ছবিটির আয় ১৮৬ কোটি টাকা। আর তেলুগু সংস্করণ আয় করেছে ৪৭ কোটি টাকা। এ ছাড়াও কন্নড় সংস্করণ রয়েছে। গোটা বিশ্বে তাদের সর্বমোট ব্যবসা হয়েছে এখনও পর্যন্ত ৪৭৫ কোটি টাকা।
সেই তুলনায় বাংলা ছবির করুণ দশা অনেকে যেন চোখে দেখতে পারছেন না। একটি সূত্রের মতে, দেব তথা দীপক অধিকারী অভিনীত 'ব্যোমকেশ ও দুর্গরহস্য' (Byomkesh O Durgorahasya) স্বাধীনতা দিবসের দিন ব্যবসা করেছে ৫০ লক্ষ টাকা। আর মুক্তি পাওয়ার পর ৫ দিনে তাঁরা ব্যবসা করেছে দেড় কোটি টাকা।
এই প্রশ্ন তুললেই টলিপাড়ার এক শ্রেণির অভিনেতা বলেন, 'বাংলায় বড় প্রযোজক নেই। বড় ভাবনা নেই। তাই ব্যবসাও নেই। হিন্দি বা তামিল ছবির যা বাজেট থাকে তার তুলনায় বাংলার ছবিতে ১০ শতাংশও থাকে না। কলাকুশলীরা সেরকম পয়সা পান না। ছবিতে প্রযুক্তির ব্যবহারেও অনেক খামতি রয়েছে।'
তবে এর পাল্টা যুক্তিও রয়েছে। ইদানীংকালে বেশ কিছু মালয়ালাম ও কন্নড় ছবি ওটিটিতে প্রবল সাড়া ফেলেছে। সেই সব ছবির বাজেট বাংলা ছবির তুলনায় মোটেও বেশি নয়। কিন্তু পরিচালনা ও অভিনয়ের গুণে সেগুলি অনন্য হয়ে উঠেছে। এতটাই জনপ্রিয় হচ্ছে ছবিগুলি, যে প্রচুর বাঙালি দর্শক নেটফ্লিক্স, সোনি লাইভ বা অ্যামাজন প্রাইমে মালয়ালাম বা কন্নড় ছবি সাবটাইটেল-সহ দেখছেন এবং উপভোগ করছেন।
টলিপাড়ার এক অভিনেতার কথায়, 'বাংলা ছবি আসলে মুষ্টিমেয় কিছু লোকের হাতে বাধা পড়ে গেছে। এক গতে বাঁধা অভিনেতা, সেই ঘুরে ফিরে কিছু প্রযোজক ও পরিচালক। বাংলায় ভাল কাজ হচ্ছে না, তা নয়। কিছু ভাল কাজ সাম্প্রতিককালে হয়েছে। যেমন অনির্বান ভট্টাচার্য অভিনীত ও পরিচালিত ছবি 'মন্দার' ওটিটিতে ভাল সাড়া ফেলেছিল। এ ধরনের ছবির আরও বিপণন প্রয়োজন। বাঙালি দর্শকের বাইরে অন্য ভাষাভাষি মানুষকে এই ছবি দেখানো যেতেই পারত। তাতে বাংলা ছবির জন্য বিনিয়োগের দরজা খুলত। কিন্তু তা হচ্ছে না। বরং হচ্ছে উল্টোটা। বাংলার অভিনেতারা এখন কলকাতা ছেড়ে মুম্বই বা হায়দরাবাদে পড়ে থাকছেন। যাতে ওটিটিতে কাজ জোটে। কারণ, তাঁরাও বুঝতে পারছেন এখানে বিশেষ আশা নেই। ক্রমশ স্টিরিওটাইপ হয়ে যাচ্ছে। ব্যোমকেশ, আবার ব্যোমকেশ এবং ব্যোমকেশ!'
আরও পড়ুন: শুরু হল নতুন থ্রিলার সিরিজ 'দ্য নন্দিনী মার্ডার কেস', দ্য ওয়ালের সঙ্গে আড্ডায় পরিচালক